ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট মার্চ ২১, ২০১৫

ঢাকা শনিবার, ৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২৫ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

সাক্ষাৎকার সমস্যার সমাধান হলে আমাদের কেউ আটকে রাখতে পারবে না: তপন চৌধুরী

সমস্যার সমাধান হলে আমাদের কেউ আটকে রাখতে পারবে না: তপন চৌধুরী

তপন চৌধুরী

তপন চৌধুরী

ঢাকা, ২১ মার্চ ২০১৫, নিরাপদনিউজ : প্রথমবারের মতো গ্লোবাল কটন সামিট শুক্রবার শুরু হয়েছে। এই আয়োজনের উদ্দেশ্য, দেশের সুতাকলের সার্বিক অবস্থা, নতুন বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি তপন চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন : শুভংকর কর্মকার
প্রশ্ন : কটন সামিট থেকে দেশের উদ্যোক্তারা কীভাবে উপকৃত হবেন?
তপন চৌধুরী : বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় তুলা আমদানিকারক দেশ। তবে তুলা খুবই কৌশলী ব্যবসা। আন্তর্জাতিক কটন এসোসিয়েশনের নিয়মনীতি অনুসারে ব্যবসাটি পরিচালিত হয়। অবশ্য আমাদের অনেকেই এই নিয়মনীতিগুলো জানেন না। আর এই ব্যবসার সৌন্দর্যটা হচ্ছে, মুখে মুখে তুলার ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে চুক্তি হয়ে যায়। বিষয়টা এমন যে, আমি ফোনে প্রতি পাউন্ড তুলা দেড় ডলারে কেনার জন্য বিক্রেতার সঙ্গে চুক্তি করলাম। তবে কালই যদি ওই তুলাটার দাম কমে যায়; আমি বিক্রেতাকে বলতে পারব না, দাম তো পড়ে গেছে, এখন কমান। একইভাবে দাম বাড়লেও বিক্রেতারা ক্রেতাকে তুলার দর বাড়াতে বলতে পারবেন না। সারা দুনিয়াতেই তুলার ব্যবসায় এমনটা হয়। এই অভিজ্ঞতাটা অনেক মিলেরই জানা নেই। বিগত কয়েক বছর তুলার দাম ওঠানামার মধ্যে আছে। এতে অনেক ক্রেতা গড়িমসি করেন। তখন কেউ কেউ তুলা না কেনতে টালবাহানা করেন। এতে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। আর চুক্তি ভঙ্গ করা ক্রেতাকে তুলা সরবরাহ না করতে বিক্রেতাদের কটন এসোসিয়েশন নিষেধ করে দেয়। এ রকম পরিস্থিতিতে আমাদের অনেকেই পড়েছেন। সাধারণত এ ধরনের সামিটে বিষয়গুলো আলোচনা হয়। অনেক প্রশিক্ষণ হয়। প্রতিবছর আমেরিকা ও লন্ডনে এ ধরনের সম্মেলন হয়। তবে মিলমালিকদের পক্ষে সব সময় ওই সব দেশে গিয়ে সম্মেলনে অংশ নেওয়া সম্ভব হয় না। তা ছাড়া এটা খুবই ব্যয়বহুলও বটে। এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন সুতা, কাপড় ও নকশা আসছে। সামিটে এসব সম্পর্কে দেশের উদ্যোক্তারা জানার সুযোগ পাবেন। অনেক বিদেশি বিশেষজ্ঞ বক্তব্য দেবেন। যাঁদের একেকটি লেকচারের মূল্য ৫০ হাজার ডলার। আমাদের পক্ষে এত টাকা খরচ করা সম্ভব না। আমেরিকান কটন এসোসিয়েশন এটি স্পন্সর করছে।
প্রশ্ন : ২০১০ সালে হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দাম পাউন্ডপ্রতি ৫৬ সেন্ট থেকে বেড়ে আড়াই ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল। ব্যবসায়ীরা তড়িঘড়ি করে প্রচুর তুলাও কিনেছিলেন, তবে এক মাসের ব্যবধানে দাম পড়ে যাওয়ায় লোকসানে পড়েন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, অজ্ঞতার কারণেই সেটি হয়েছিল। এ পরিস্থিতির উন্নতি কি হয়েছে?
তপন চৌধুরী : আগে সুতাকলের মালিকদের জমিদারি একটা ভাব ছিল। তারা মনে করতেন, আমরা আবার কার সঙ্গে পরামর্শ করব। সব মিলিয়ে পেশাদারত্বের খুবই অভাব ছিল। অবশ্য এখন সেটি নেই। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা এ খাতে আসছে। টেক্সটাইল খাতে বড় বিনিয়োগ আসাটাও অব্যাহত আছে। আর সচেতনতার বিষয়ে বললে ২০১০ সালের পর অনেক পরিবর্তন এসেছে। আসলে তুলার বাজারের গতিবিধি সারাক্ষণই নজরদারির মধ্যে রাখতে হয়। তা ছাড়া সারা বছরই কোনো মিল যদি গড়ে একই পরিমাণ তুলা কেনে, তবে লোকসানে পড়ার সম্ভাবনা কম। এখানে বিক্রেতার সঙ্গে ভালো সম্পর্কটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন : পোশাক রপ্তানি ২০২১ সালের মধ্যে পাঁচ হাজার কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিজিএমইএ। এটি অর্জন করতে হলে ৩০ বিলিয়ন ডলারের কাপড় লাগবে। এই লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে সুতা ও বস্ত্রকলের মালিকেরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন কি?
তপন চৌধুরী : হ্যাঁ, এই লক্ষ্যমাত্রা চিন্তাভাবনায় রেখে প্রক্রিয়াটা শুরু হয়েছে। এ জন্যই সামিট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগে পোশাক কারখানার মালিকেরা কথায় কথায় বলতেন, বাইরে থেকে কাপড় নিয়ে আসো। তারাই এখন বলছেন, দেশে হলেই ভালো। কারণ তাড়াতাড়ি পাবে, আবার কাপড়ের রং ইচ্ছামতো মিলিয়ে নিতে পারেন উদ্যোক্তারা। ফলে এখন চাহিদাটা তৈরি হয়েছে এবং বস্ত্রকলের মালিকেরা সেটি জানেন। তাই নতুন নতুন বিনিয়োগে যাচ্ছেন উদ্যোক্তা। যাদের সুতাকল আছে তাঁরা কাপড় তৈরি করেন, আবার যারা কাপড় তৈরি করতেন, তারা সুতা উৎপাদনেও যাচ্ছেন। অবশ্য জমি ও গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগ পেতে অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা এ ক্ষেত্রে বড় বাধা। এসব সমস্যার সমাধান হলে কেউ আমাদের আটকে রাখতে পারবে না।
প্রশ্ন : নতুন উদ্যোক্তারা তো বস্ত্র খাতে বিনিয়োগে আসছে না। এতে কী ধরনের সমস্যা হবে বলে আপনি মনে করেন?
তপন চৌধুরী : নতুনেরা আসছে না। তারা আসতেও পারবে না। আসলে পদ্ধতিটাই এমনভাবে তৈরি হয়ে গেছে। আমাদের রাস্তাঘাট চেনা আছে। আমরা মামা-চাচা বলে কাজ করিয়ে নিতে পারি। ফলে পুরোনোরাই নতুন বিনিয়োগ করে কারখানা সম্প্রসারণ করতে পারছেন। অবশ্য নতুনদের এই না আসতে পারাটা ভালো কিছু হচ্ছে না বলেই আমার মনে হয়। কারণ নতুন যারা পড়াশোনা শেষ করে বের হচ্ছে, তারা কিন্তু একটা কথা মনে করে, এ দেশে তাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। তবে আমাদের তো মেধাবীদের ধরে রাখতে হবে। তাদের সুযোগ করে দিতে হবে। তা ছাড়া মালিক ও কর্মচারী-কর্মকর্তার ব্যবধান বেশি হলে তা খুবই বিপজ্জনক হবে।
প্রশ্ন : চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এটি কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যাবে? আপনার পরামর্শ কী?
তপন চৌধুরী : সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা যাতে ব্যাহত না হয় এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যাতে সচল থাকে, সেটি নিশ্চিত করা দরকার। না হলে আমরা পিছিয়ে যাব। আজকে যারা ব্যবসায় আছেন, তারা লোকসানে পড়লে তেমন ক্ষতি হবে না, তাদের পরিবার কোনোভাবে চলে যাবে। কিন্তু ব্যবসাটিই বন্ধ হয়ে গেলে হাজার হাজার লোক বেকার হয়ে যাবে। আমাদের কাছে বর্তমান পরিস্থিতির কোনো সমাধান নেই। রাজনীতিকেরা দেশের কথা ভাববেন- এমনটা আশা করা ছাড়া আমাদের কী আর করার আছে। (সংগৃহীত)

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)