ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৬ মিনিট ৩১ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ৭ শ্রাবণ, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৮ জিলক্বদ, ১৪৪০

উপসম্পাদকীয় ‘সর্প হয়ে দংশন ওঝা হয়ে ঝাড়ন’ এভাবে কখনই সড়ক নিরাপদ হবে না

‘সর্প হয়ে দংশন ওঝা হয়ে ঝাড়ন’ এভাবে কখনই সড়ক নিরাপদ হবে না

মীর আব্দুল আলীম,নিরাপদ নিউজ: কালে কালে কত কিছুই না দেখলাম- সব ‘ভস্ম আর ছাই’। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কমিটি বহু হয়েছে; সড়কে শৃঙ্খলা ফেরেনি। কিন্তু সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য কমিটি করা হয়েছে সড়ক-বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী ইউনিয়ন নেতার নেতৃত্বে। সঙ্গে রয়েছেন মালিক সমিতির নেতা। ‘অবুঝে বোঝাব কত, বুঝ নাহি মানে; ঢেঁকিরে বোঝাব কত, নিত্য ধান ভানে’- সড়ক দুর্ঘটনা হচ্ছে; হবেও। রাস্তায় পরিবহনে পিষ্ট হয়ে মানুষ মরছে অকাতরে; আরও মরবে। পুরো পরিবারসহ মানুষ মরে সাফ হয়ে যাচ্ছে, তবুও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না। আসলে সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়নি। হায়! দুর্ভাগ্য আমাদের!!

সড়ক নিরাপদ করতে আবারও আরেকটা কমিটি হলো। এমন কমিটিতে আমরা আর ভরসা পাই না কখনও। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কমিটি করে এর প্রধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানকে। তার সঙ্গে রয়েছেন তারই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী। আছেন পরিবহন নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাও। শাজাহান খানের ১৫ সদস্যের শৃঙ্খলা কমিটিতে আরও রয়েছেন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। ১৭ ফেব্রুয়ারি বনানীতে সড়ক ভবনে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৬তম সভায় এ কমিটি করা হয়। এ কমিটি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাবে না শৃঙ্খলা বৃদ্ধি করবে সেটাই প্রশ্ন? রাস্তায় বেরিয়ে তো সবাই শঙ্কিত থাকে; কখন কী হয়। কখন আবার আজরাইল (আ.) জান কবজ করে। কমিটি কি হলো তা ভাবার বিষয় নয়, আমাদের সড়ক নিরাপদ হলেই চলে। এ সামান্য চাওয়াই তো দেশবাসীর। দেখা যাক কি হয়। অপেক্ষা তো করছি যুগযুগ ধরে। আমরা না হয় অপেক্ষায়ই থাকলাম।

সেই কবে ২০১০ সালে শুরু হয় বিদ্যমান সড়ক আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া। কিন্তু পরিবহন নেতাদের চাপে তা দফায় দফায় কাটাছেঁড়া করা হয়। যে দেশে পরিবহন নেতাদের চাপে আইন সংশোধন হয় সেদেশে সড়কে তো মানুষ মরবেই। এরই মধ্যে গত বছর জুলাইয়ে রাজধানীতে দুই কলেজ শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হয়। এরপর সারাদেশে শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনে পরিবহন খাতের ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে। ওই সময়ই শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা সড়ক পরিবহন আইন সংসদে পাস হয়। কিন্তু ওই আইনের কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সেগুলো বাতিলের দাবি তোলেন পরিবহন শ্রমিকরা। দাবি বাস্তবায়নে তারা দেশজুড়ে পরিবহন ধর্মঘট ডাকলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় মানুষকে। তৎকালীন নৌমন্ত্রী শাজাহান খানসহ পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা সরকারে থাকায় নানা উদ্যোগের পরও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো যাচ্ছে না বলে সে সময় অভিযোগ ওঠে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সড়ক নিরাপদ করতে বরাবরই সদিচ্ছা দেখিয়েছেন। যারা সড়ক নিরাপদ করবেন তাদের সদিচ্ছা আছে কী? সড়ক-মহাসড়ক এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা রক্ষার এবং সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ দেয়া জরুরি হয়ে পরেছে। সড়ক পরিবহন আইন সংসদে পাস হয়েছে। আইন প্রণয়নের পর আইনটা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় কোনো বিধিবিধান করে, বাস্তবতার সঙ্গে যতটা সঙ্গতি রাখা যায়, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট তিন মন্ত্রীকে দায়িত্বও দেয়া হয়েছে। তারা আইনটা প্রয়োগ করতে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করে সড়ক নিরাপদ করতে কতটা সফল হবেন সেটাই এখন দেখবার বিষয়।

কেবল আইন তৈরি আর হম্বি-তম্বি করলেই হবে না। আইনের প্রয়োগ করতে হবে। সড়কে কুয়া কেঁটে আমাদের হাটতে দিবেন তা কী করে হয়? সড়কে যারা পরিবহন চালায় (ড্রাইভার) এদের ক’জনের বৈধ লাইসেন্স আছে? লাইসেন্স যাদের আছে তাদের লাইসেন্স দেয়ার সময়ও তো অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে। যাচাই-বাছাই ছাড়াই অনেকে অর্থের বিনিময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছেন। এরা রাস্তায় গাড়ি চালালে মানুষ মরবে নাতো কি হবে? আগে সঠিক ড্রাইভার দিয়ে রাস্তায় গাড়ি নামানোর ব্যবস্থা করুন। ট্রাফিক পুলিশ রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে ঘুষ বাণিজ্যে ব্যস্ত থাকলে সে ব্যবস্থা করবে কে? আমরা দেখেছি পরিবহন নেতা, কখনো কখনও মন্ত্রীরা পর্যন্ত বলেছেন দক্ষ ড্রাইভারের বড্ড অভাব নাকি দেশে। অভাব যদি থাকে তবে আমরা রাস্তায় হেঁটেই না হয় চলি। দক্ষ ড্রাইভারের অভাবে রাস্তায় গাড়ি কম থাকলে মানুষ ক’দিন ভুগে সাইকেল কিনে চড়বে। তাতে জনগনের স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে। বিকল্প একটা ব্যবস্থা হবেই। দক্ষ ড্রাইভার নেই বলে অদক্ষ নাবালক দিয়ে রাস্তায় গাড়ি নামিয়ে আপনারা মানুষ খুন করবেন? এ অধিকার আপনাদের কে দিয়েছে? এদেশে ক’টা পরিবহরনর ফিটনেস আছে? রাস্তায় চলার জন্য যেসব পরিবহন সুস্থ না সেটা এক্সিডেন্ট করবে না তো কি করবে? এদেশে ক’টা টাকা দিলেই না দেখেই ফিটনেস পেয়ে যায় লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি। ওসব গাড়ি তো ব্রেক ফেইল কিংবা উল্টে খাদে পড়বেই।

রাস্তায় কুয়া খুঁড়ে কখনই সড়ক নিরাপদ করা যাবে না। সবার আগে সঠিক ড্রাইভার আর সঠিক গাড়ি রাস্তায় নামানো চাই। তারপর আইনের প্রয়োগ করুন। সবাইকে আইন মানতে বাধ্য করুন। জনগণকে সচেতন করুন। সড়ক নিরাপদ হবেই হবে। কথা হলো সবার আগে নিয়তটা ভালো করতে হবে। আমরা সবাই নিরাপদ সড়ক চাই কিনা সেটা দেখতে হবে। আমার এ লেখায় চটে যাবেন অনেকে। তবুও বলব। আর লোক দেখানো কমিটি করবেন না। না পারলে সড়ক আল্লাহরওয়াস্তে ছেড়ে দিন, তাতে কিছুটা হলেও সড়ক নিরাপদ থাকবে। মানুষের জান বড় না সড়কে চলাচল বড় কথা! মানুষ খুন করে রাস্তায় চলতে হবে কেন? এদেশে রাস্তায় যেভাবে, যত খুন হয় কোন দেশে এমন হয় আপনারাই বলুন। আমাদের সড়কগুলো খুনে সড়ক আর আমরা খুনি!

যেসব দেশকে খুব দরিদ্র ভাবতাম তারা আমাদের চেয়ে সভ্যতায় অনেক বেশি এগিয়ে। ভুটানে যাইনি এই ভেবে পাহাড় আর গরিব দেশে কী দেখব, আর শিখবইবা কী? গত ২৫ জানুয়ারি আমার পরিচালনাধীন আল-রাফি হাসপাতাল লিমিটেডের পরিচালক এবং ডাক্তারদের নিয়ে এক অনুষ্ঠানে মায়ানমার যাই। আমরা প্রায় ৮ লাখ মানুষের দেশ থেকে অনেক কিছু শিখলাম। মানুষ সভ্য হতে পুলিশ প্রশাসনের দরকার হয় না। ৪৬,৫০০ বর্গকিলোমিটার দেশের মানুষ আইন মেনে চলে। সেখানে সবাইকে আইন মানতে বাধ্য করা হয়েছে। ভুটানে মাত্র পাঁচ দিন ছিলাম। এ অল্প সময়েই নিজেকে সুস্থ অনুভব করছিলাম। খাবারের ভীতি ছিল না। ভেজাল দিতে ওরা বোধ হয় শিখেনি। পোশাক-আশাক দামি না হলেও আধুনিকতার ছাপ। সব চেয়ে বড় কথা ওরা আইন ভাঙে না কখনও। রাস্তায় ৫ দিনে পুলিশ দেখেছি একজন মাত্র। রাস্তার আইন ওরা শতভাগ মানে। তাই দুর্গম পথেও দুর্ঘটনা নেই বললেই চলে। আমাদের বহনকারী টুরিস্ট বাসটি নির্দিষ্ট জায়গাতেই থামছিল। আমরা কোন দর্শনীয় জায়গা পেলে নামতে চাইলেও বলছিল এখানে থামার নিয়ম নেই। ত্রিসীমানায় কেউ নেই তবুও নিজ থেকেই ড্রাইভার নিয়ম মেনে চলছে। কখনও মোবাইল ফোন ধরার প্রয়োজন হলে গাড়ি থামিয়ে কথা শেষ করে তবেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন তিনি। পথচারীর চেয়েও ড্রাইভাররা অনেক বেশি সচেতন। পথচারী পথ পার হবে বুঝতে পেরে বহু আগে থেকেই গাড়ি থামিয়ে বসে থাকে ড্রাইভার। এমন নিয়ম কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপানে দেখেছি। বোধ করি তার চেয়েও গরিব দেশটিতে ড্রাইভাররা অনেক বেশি সচেতন মনে হয়েছে আমার। এখানে সিসি ক্যামেরা পুলিশ নজরদারি নেই, আইন না মানলেও দেখার কেউ নেই, তবুও ওরা আইন মানছে। ওরা সভ্য তাই সড়কে নিরাপত্তা বেশি। পাঁচ দিন সড়কে নির্ভয়ে চলেছি। ভীতি ছিল না। আমাদের ফুটপথ দিয়ে চলতেও ভয় পাই, কখন গাড়ি গায়ে উঠে যায়। মোদ্দাকথা হলো সবাইকে সড়কের আইন মানতে বাধ্য করতে হবে। তবেই সড়ক নিরাপদ হবে।

অনেক ধনী রাষ্ট্রে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। কিন্তু মায়ানমারের মতো দরিদ্র একটি রাষ্ট্রে গিয়ে ওদের সভ্যতা আর আমাদের সভ্যতার তফাৎ দেখে বেশ লজ্জাবোধ হলো আমার। হতবাক তো হয়েছিই। মায়ানমার সম্পর্কে আমাদের ধারণা খুব ভালো নয়। ধর্মের বিষয়ে তো নয়ই। বার্মা বা মায়ানমার মানেই দরিদ্র একটি রাষ্ট্র। মুসলমানদের নির্যাতনের ব্যাপারেও তাদের আছে অনেক বদনাম। সে দেশের সেনারা অনেক নিষ্ঠুরতা চালিয়ে বহু মুসলমানদেও ওরা হত্যা করেছে। যা সারা বিশে^ নিন্দিত। এ রাষ্ট্রের ব্যাপারে আমাদের বাজে অভিজ্ঞতা আছে। আর যাই হোক, ওরা সড়ক আইনের প্রতি অনেক বেশি শ্রদ্ধাশীল। ওখানে গিয়ে বুঝেছি আইন মানতে, আর সভ্য হতে অর্থের প্রয়োজন পরে না। ভালো কিছুর গুণকীর্তন করতেই হয়। মায়ানমারের ভালো কিছু থাকলে সেটা নিয়ে আলোচনা করতেই পারি। মন্দটা না হয় ওদের কাছেই থাক। ওদের ভালো কিছু যা আছে, যা থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি।

মায়ানমারের রাস্তায় ডিভাইডার নেই বললেই চলে। সাদা দাগ দিয়ে চলার পথ নির্দিষ্ট করা। রাস্তায় ট্রাফিকও নেই খুব একটা। অবাক করা কথা ৫ দিনের যাত্রায় একটি বারও কাউকে নিজ দাগ অতিক্রম করতে দেখলাম না। আমরা যেখানে পারলে ইটপাথরের ডিভাইডার উল্টেপাল্টে চলতে অভ্যস্ত সেখানে ওরা দাগও অতিক্রম করে না। একদিকে এক কিলেমিটার ট্রাফিক জ্যাম চলে গেছে। অন্যদিকে ধেয়ে চলছে গাড়ি। ডিভাইডার নেই তবুও কেউ কারও জায়গায় যাচ্ছে না। আমাদের দেশে ডিভাইডার দিয়ে যেখানে রক্ষা নেই সেখানে সাদা দাগই তাদের জন্য যথেষ্ট। ওভারটেকিং কিংবা হর্ন বাজানো দরকার না পরলে কেউ দেয় না সাধারণত। দিনে এমন; দেখি রাতে ওরা কি করে? ইয়াংগুনের ৫ তারকা হোটেলের রুম থেকে গভীর রাতে রাস্তার দৃশ্য দেখতে জানালার পাশে গিয়ে বসলাম। গভীর রাতেও কাউকে দাগ অতিক্রম করতে দেখিনি। লেইন পরিবর্তন করতে গেলেও রাতেও ১-২ কিলোমিটার ঘুরে তবে অন্য লেইনে যায় গাড়িগুলো। সৌদি আরব, চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কোরিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশেই এ অবস্থা লক্ষ্য করেছি। ভাবি আমরা কেন ওদের কাছ থেকে শিক্ষা নিচ্ছি না? আমাদের রাষ্ট্র যারা পরিচালন করেন তারা তো এসব দেশে আসেন। রাষ্ট্রের খরচায় ওনারা বিদেশে আসেন। প্রশ্ন হলো তারা কি এসব দেখেন না? শিখেনই না বা কেন?

মন্দ ভাগ্য আমাদের। আমাদের লোকজন শেখেনও না; শিখানও না। শিখলে আর শেখালে আমাদের রাষ্ট্রের পরিবহন ব্যবস্থাও এমন হতো না কখনই। আইন করলেই হয় না। আইন প্রয়োগ করে শিখাতে হয়। ইয়াঙ্গুনের অধিবাসীদের সঙ্গে কথা বলে যতদূর জেনেছি, পরিবহন ব্যবস্থা এমন করতে রাষ্ট্র যন্ত্র খুব নিষ্ঠুর ছিল। যারা আইন মানতো না তাদের কঠোর শাস্তি দিয়ে সভ্য করা হয়েছে। সভ্য হতে বাধ্য করে তবেই সভ্য করা হয়েছে। আর একবার কেউ সভ্য হয়ে গেলে, অসভ্য হতে বিবেকে বাদসাধে। বলতে গেলে ওদের সভ্য হওয়ানো হয়েছে। আমরাও সভ্য হতে চাই। নিরাপদ সড়ক চাই। তা আমাদের প্রধানমন্ত্রীকেই উপহার দিতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী- আমরা সভ্য নই, আপনি আমাদের সভ্য হতে বাধ্য করুন। কঠোর হোন। যারা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে আছে তাদের কঠোর হতে বলুন। আমি বিশ্বাস করি আপনি চাইলে তা পারবেন। প্রধানমন্ত্রী তো ছোট পদ নয় যে ইচ্ছা পূরণ হবে না। ইচ্ছা করতে হবে; নিষ্ঠুর হতে হবে; তবেই আমাদের সভ্য বানাতে পারবেন আপনি।

(লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট, গবেষক]

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)