ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৩ মিনিট ২৯ সেকেন্ড

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৮ ভাদ্র, ১৪২৬ , শরৎকাল, ২০ জিলহজ্জ, ১৪৪০

অপরাধ সানজারীর উপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

সানজারীর উপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

নিরাপদ নিউজ: আজসকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘এইড ফর ম্যান’র আয়োজনে বৈমানিক পারভেজ সানজারীর উপর নৃশংস এসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ড. আব্দুর রাজ্জাক খান। বাংলাদেশ মেনস রাইটস ফাউন্ডেশনের অর্থ বিষয়ক সম্পদক আলামিন হোসাইনের পরিচালনায় মানববন্ধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আইন উপদেষ্টা এড. কাউসার হোসাইন। অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে এই ঘৃণ্য অপরাধের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন ও অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি করেন। বাংলাদেশ মেনস রাইটস ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও এইড ফর ম্যানের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম নাদিম বলেন, হামলার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি, যা চরম হতাশা জনক। তিনি আরও বলেন পারভেজ সানজারী শুধুমাত্র পুরুষ হওয়ার কারণেই সুষ্ঠ বিচার পাচ্ছেন না।
মানববন্ধনে বৈমানিক পারভেজ সানজারীর ভাই এড. আলামিন খান বলেন ০৫/১০/২০১৭ তারিখে যৌতুকের দাবির মিথ্যা অপবাদে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ (খ) ও (গ) ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেন মিলা। এছাড়াও মিলার দায়ের করা মানহানীর মামলা নং- ১৩৬৮/১৮ তে সানজারীর মা, ছোট ভাই ও ছোট ভাইয়ের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে আসামী করা হয়। উক্ত মামলায় আদালতে হাজীরা দিয়ে ফেরার পথে সানজারীর বাবা হার্ট অ্যাটাক করেন, বর্তমানে তিনি তার হার্টে ৩টা রিং নিয়ে মৃত্যুর পথ থেকে ফিরে কোনভাবে বেঁচে আছেন। পরিশেষে বনিবনা না হওয়ায় পারভেজ সানজারী বিগত ৩১/০১/১৮ তারিখে তাকে তালাকের নোটিশ দেন। উক্ত তালাক যাতে কার্যকর না হতে পারে, সেজন্য বিভিন্নভাবে অপচেষ্টা করে এবং লিখিত আপত্তি সত্ত্বেও ম্যাজিস্ট্রেট উভয়কে মিলিয়ে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২২/০৫/১৯ইং তারিখে উক্ত তালাক কার্যকর করা হয়। তালাকের নোটিশের তথ্য গোপন করে, অতপর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত নং-২ তে দাম্পত্ত্য পুনরুদ্ধারের মামলা নং- ৪০৬/২০১৮ দায়ের করেন পপ সঙ্গীত শিল্পী মিলা।
তালাকের নোটিশ দেওয়ার প্রেক্ষিতে মিলা সানজারীকে প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি নিজে আত্মহত্যা করবে এই মর্মে হুমকি দিতে থাকে। তার এসব হুমকির প্রেক্ষিতে বিগত ০২/০২/১৮ইং তারিখে জিডি নং-১২৪, উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা হয়। কিন্তু এই সকল জিডি’র কোনরূপ তদন্ত কিংবা কোন প্রকার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নাই। এছাড়াও মিলা বিগত ০৮/১২/১৮ থেকে ১২/১২/১৮ইং তারিখের মধ্যে সানজারীর বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে তার কাছে থাকা বাসার পুরানো ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে বাসার দারোয়ান শহিদুল ইসলামের সহায়তায় তালাক হয়ে যাবার পরেও ভাইয়ার বাসায় প্রবেশ করে পুরাতন মোবাইল, কম্পিউটার এর সি,পি,ইউ এবং মূল্যবান কাগজপত্রসহ টাকা পয়সা নিয়ে যায়। থানায় ৩ দিন ধরে ঘোরার পরেও পুলিশ মিলার বিরুদ্ধে মামলা নেয় নাই। মিলার দায়ের করা নারী ও শিশু মামলাটির বিচার কাজ গত দেড় বছর ধরে চললেও আজ অবধি তিনি কোনদিন সাক্ষী দিতে আসেননি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সানজারি ও তার পরিবার সম্পর্কে ক্রমাগত মিথ্যাচার ও হুমকিতে মিলার বিরুদ্ধে ঢাকা সাইবার ট্রাইবুনাল আদালতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পিটিশন মামলা নং-৯২/২০১৯ দায়ের করা হয়। উক্ত মামলা দায়েরের প্রেক্ষিতে মিলা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।
মিলা প্রতিনিয়ত ক্ষুদে বার্তায় অশালীন ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দিতে থাকে। তার পরিকল্পনায় ও নির্দেশে সম্পূর্ণ সু-পরিকল্পিতভাবে বিগত ০২/০৬/১৯ইং তারিখে মিলার প্রত্তক্ষ্য উপস্থিতিতে তার সহকারী “কিম” এর দ্বারা সানাজারীর শরীরে এসিড নিক্ষেপ করা হয়। তার মাথায় হেলমেট থাকায় মুখমন্ডল এসিড হইতে রক্ষা পায়, কিন্তু শরীরে হাত-পাসহ বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্তঙ্গ এসিডে ঝলসে যায়। উক্ত বিষয়ে অনেক গড়িমসির পর, থানা মামলা আমলে নিলেও আজ পর্যন্ত কোন আসামীকে তারা গ্রোফতার করেনি। আমরা আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাই।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)