ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ডিসেম্বর ১০, ২০১৪

ঢাকা সোমবার, ৩০ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৪ সফর, ১৪৪১

রংপুর, সড়ক সংবাদ সাফল্য: চার যুবকের স্বেচ্ছাশ্রমে ১৭০ ফুটের বাঁশের সাঁকো নির্মিত

সাফল্য: চার যুবকের স্বেচ্ছাশ্রমে ১৭০ ফুটের বাঁশের সাঁকো নির্মিত

চার যুবকের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত ১৭০ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকো

চার যুবকের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত ১৭০ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকো

গাইবান্ধা, ১০ ডিসেম্বর ২০১৪, নিরাপদনিউজ : ঘাঘট নদীর ওপর চার যুবকের স্বেচ্ছাশ্রমে ১৭০ ফুট একটি বাঁশের সাঁকো নির্মিত হয়েছে। গাইবান্ধা সদর উপজেলার ভেড়ামারা রেলওয়ে এলাকার কিশামত বালুয়া গ্রামে নদীর ওপর তারা ওই সাঁকোটি নির্মাণ করেন।
দেখা গেছে, গাইবান্ধা রেলস্টেশনের দেড় কিঃমি উত্তরে অবস্থিত কিশামত বালুয়া গ্রাম। গ্রামের মধ্য দিয়ে ঘাঘট নদী প্রবাহিত। যোগাযোগের জন্য ঘাঘট নদীর উপর একটি রেলওয়ে ব্রিজ রয়েছে। ব্রিজটি পারাপার হয়ে প্রতিদিন গাইবান্ধার উত্তরাঞ্চলের ছাত্র ছাত্রী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ জেলা শহরে আসেন। রেলওয়ে ব্রিজ দিয়ে আসতে বয়স্ক, শিশু ও নারীদের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কিন্তু তারপরও বিকল্প পথ না থাকায় রেলওয়ে ব্রিজ দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় তাদের। না হলে সাত কিলোমিটার পথ ঘুরে গাইবান্ধা শহরে যাতায়াত করতে হয়।
স্থানীয় আতাউর রহমান জানান, স¤প্রতি ওই এলাকার প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ভেড়ামারা ব্রিজে দুর্ঘটনার শিকার হন। তাকে বহনকারী মোটরসাইকেলটিও নদীতে পড়ে বিকল হয়ে যায়। এর আগে ওই এলাকার ইউপি সদস্য তারা মিয়াও ব্রিজ পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। এছাড়াও গত কয়েক যুগে ব্রিজ দিয়ে যাতায়াতের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অনেকে আহত, এমনকি নিহতও হয়েছেন।
এসব অঘটন থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে ওই এলাকার ফরিদ, সাইদার ও এরশাদ ভেড়ামারা ব্রিজের পশ্চিম পাশ ঘেঁষে একটি বাঁশের সাকো তৈরির পরিকল্পনা করেন। তাদের এ উদ্যোগে গ্রামের লোকজন বাঁশ, দড়ি ও লোহার পেরেক কেনার জন্য অর্থ দিয়ে সহায়তা করেন। এরপর সাঁকো তৈরির কাজে নেমে পড়েন ওই চার যুবক।
স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নেওয়া আবদুল লতিফ জানান, তাদের সঙ্গে এলাকার লোকজনও এগিয়ে আসেন। একটানা ১০ দিনের পরিশ্রমে তৈরি হয় বাঁশের সাঁকো। যা এ এলাকার লোকজনেরই শুধু নয়, আশপাশের এলাকার লোকজনের যাতায়াতে উপকার হচ্ছে।
এ বিষয়ে খোলাহাটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউ,পি) চেয়ারম্যান কাজী ইব্রাহিম খলিল জানান, চার যুবক স্বেচ্ছাশ্রমে নিজের এলাকার কল্যাণে এগিয়ে আসা প্রেরণার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তবে এরপর থেকে তিনি নিজেও এ ধরনের কাজে সহযোগিতা করবেন বলে জানান।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)