ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৯

ঢাকা মঙ্গলবার, ৬ চৈত্র, ১৪২৫ , বসন্তকাল, ১২ রজব, ১৪৪০

খুলনা সুন্দরবনে গোলপাতা আহরণ মৌসুম শুরু, লক্ষ মাত্রা ১০২ হাজার মন

সুন্দরবনে গোলপাতা আহরণ মৌসুম শুরু, লক্ষ মাত্রা ১০২ হাজার মন

এইচ,এম,শফিউল ইসলাম,নিরাপদনিউজ:  প্রথম দফায় ১০২ হাজার মণ গোলপাতা আহরণের লক্ষমাত্রা নিয়ে সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের ২টি কূপে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাওয়ালীরা। বনের উপর চাপ কমাতে গোলপাতার আড়ালে বনজ সম্পদ আহরণে বনবিভাগের নজরদারি বৃদ্ধি,চাহিদা হ্রাস থেকে শুরু করে নানা সংকটে গোলপাতা আহরণে বাওয়ালীদের অনাগ্রহের মধ্যে জানুয়ারীরর শেষ ভাগে প্রথম দফায় গোলপাতা আহরণ শুরু হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বিঘ্নে পাতা কাটতে পেরে খুশীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,গোলপাতা আহরণের ভরা মৌসুমে এবার বাওয়ালীদের বিএলসি (অনুমতি) দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম থেকেই কঠোর ছিল বন বিভাগ। ফলে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা সংকটে বাওয়ালীরা খানিকটা দেরীতে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের ২ টি কূপ(জোন) থেকে অনুমতি গ্রহণ করে সুন্দরবন অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছেন।

খুলনা রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. আবু সালেহ বলেন, বাওয়ালীরা যাতে বন অভ্যন্তরে নির্বিঘেœ গোলপাতা কাটতে পারেন সে জন্য বন বিভাগ থেকে বরাবরের মত কঠোর নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। বন বিভাগ সূত্র জানায়, সুন্দরবনের পশ্চিম বিভাগের সাতক্ষীরা এবং খুলনা রেঞ্জে ১ টি করে মোট ২ টি গোলপাতা কূপ রয়েছে। চলতি বছর খুলনা রেঞ্জের কূপে গোলপাতা সংগ্রহের জন্য ১৬৮ টি বিএলসির অনুকূলে বাওয়ালিরা প্রথম দফায় ৮২ হাজার ৫শ’ মণ গোলপাতা সংগ্রহ করার অনুমতি (পারমিট) পেয়েছেন। অন্যদিকে সাতক্ষীরার কূপে প্রথম দফায় ৩৭ টি বিএলসিতে ১৯ হাজার মন গোলপাতার অনুমতি নিয়েছে।

খুলনা-সাতক্ষীরা গোলপাতার কূপ কর্মকর্তা যথাক্রমে মো. সুলতান মাহমুদ ও কেএম কবির উদ্দিন বলেন, নিয়ম মেনেই গোলপাতা আহরণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। বন প্রহরী কল্যাণ সমিতির সভাপতি অলিয়ার রহমান বলেন, গত ২৪ জানুয়ারি থেকে এ সকল বিএলসির অনুকুলে অনুমোদন দেওয়া শুরু হয়েছে এবং গোলপাতা আহরণ চলবে ৩০ মার্চ পর্যন্ত। ধারণা করা হচ্ছে, এবার ব্যবসায়ীদের আগ্রহ না থাকায় শুরুতেই গোলপাতা আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

তথ্য মতে, বরাবরের মত এবারো গোলপাতা আহরণের ক্ষেত্রে বাওয়ালীদের বেশ কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ৫০০ মণের বেশি ধারণ ক্ষমতার নৌকা বিএলসির বাইরে থাকবে। গোলপাতা আহরণের জন্য নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত সময় বনে অবস্থান করা যাবে না, আহরণের সময় বনবিভাগের নির্দেশনা সঠিকভাবে পালন করতে হবে,গোলপাতা ঝাঁড়ের মাইজপাতা ও ঠেকপাতা কোনো ভাবেই কর্তন করা যাবে না এবং গোলপাতার আঁড়ালে যাতে কোনো ধরণের ‘বনজদ্রব্য পাচার না হয় সে বিষয়টি নিবিঢ়ভাবে নীরিক্ষণ পূর্বক নিশ্চিত করতে হবে।

সুন্দরবন উপকূলীয় কয়রা উপজেলার সুতির খালধার এলাকার বাওয়ালী নুর ইসলাম সানা জানান, ২০ বছর ধরে তিনি সুন্দরবন থেকে গোলপাতা সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তবে বন বিভাগের এবারকার মত কড়াকড়ি আগে কখনো দেখেননি।

একই উপজেলার খুচরা গোলপাতা ব্যবসায়ী সোলাইমান হাওলাদার বলেন, আগের মত এখন আর গোলপাতার চাহিদা নেই। বিক্রি কম হওয়ায় খুচরা বিক্রেতাদের গত বছরের গোলপাতা এখনো রয়ে গেছে। তবে বাওয়ালীদের অনেকে বলেন, গোলপাতায় যে পরিমাণ টাকা লগ্নি করতে হয়, সে তুলনায় লাভ হয় না তাই বাওয়ালীদের সহজ শর্তে আগের মত এখন আর টাকা লগ্নি করতে চাননা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী বা মহাজনরা।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বশিরুল আল-মামুন জানান, সুন্দরবনের উপর থেকে অব্যাহত চাপ কমাতে বনজদ্রব্য আহরণ সীমিত করা হয়েছে। তিনি প্রতিটি স্টেশনে ও কূপে নিয়মিত তদারকি করে বিএলসি নবায়ন করার অনুমতি দিয়েছেন। পাশাপাশি কূপে বিএলসির সাথে সংশ্লিষ্ট নৌকার মিল রেখে গোলপাতা কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে কেউ যাতে মলম বাণিজ্য করতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজরদারির জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)