ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ২ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ৩১ ভাদ্র, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৫ মুহাররম, ১৪৪১

অপরাধ, আইন-আদালত সুবহানের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় যে কোনো দিন ঘোষণা

সুবহানের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় যে কোনো দিন ঘোষণা

ain

ঢাকা, ডিসেম্বর ০৪ ২০১৪, নিরাপদনিউজ : জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় যে কোনো দিন (সিএভি) ঘোষণা করা হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল মামলাটির বিচারক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় রায় ঘোষণা অপেক্ষমান (সিএভি) রাখার এ আদেশ দেয় আজ।
আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের জবাবে সুবহানের বিরুদ্ধে আজ পাল্টা ও সমাপনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ আসামি সুবহানের সর্বোচ্চ শাস্তি ও তার হাতে নির্যাতিত-ক্ষতিগ্রস্থদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
গত ১৭ থেকে ৩০ নভেম্বর ও বৃহস্পতিবার ৯ কার্যদিবসে সুবহানের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী মিজানুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী। অপরদিকে গত ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ও গত বৃহস্পতিবার আট কার্যদিবসে সুবহানের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, সুলতান মাহমুদ সীমন ও রেজিয়া সুলতানা চমন।
গত ৭ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুবহানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলায় দুই তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) মতিউর রহমান ও মো. নূর হোসাইনসহ প্রসিকিউশনের ৩১ জন সাক্ষী।
গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ষড়যন্ত্রসহ ৮ ধরনের ৯টি মানবতাবিরোধী অপরাধে সুবহানের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়। গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর সুবহানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
সুবহানের বিরুদ্ধে ৯টি আনুস্টানিক অভিযোগ হলো: অভিযোগ-১: মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি তার সহযোগী জামায়াতে ইসলামের নেতা ও বিহারীদের নিয়ে মসজিদে আশ্রয় নেয়া স্বাধীনতাকামী লোকদের অপহরণ করে হত্যা করেন।
অভিযোগ-২: ৭১’ সালের ১৩ এপ্রিল তার নেতৃত্বে ও উপস্থিতিতে ঈশ্বরদী যুক্তিতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে লুটপাটসহ ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে ৫ জন নিরীহ-নিরস্ত্র লোককে হত্যা ও ৩ জনকে গুরুতর আহত করে।
অভিযোগÑ৩: ১৬ মে ঈশ্বরদী অরণখোলা গরুর হাট থেকে ২ জন লোককে অপহরণ করে জেলা পরিষদ ডাক বাংলো (ঈশ্বরদী, পাবনায়) নিয়ে নির্যাতন করে।
অভিযোগ-৪. ৭১’ সালে ২ মে তার নেতৃত্বে পাকিস্তানী আর্মিরা ঈশ্বরদী সাহাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে অসংখ্য বাড়িঘরের মালামাল লুটপাট করে বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকজন লোককে হত্যা করে।
অভিযোগ-৫. ৭১ সালের ১১ মে সুবহানের নেতৃত্বে ও উপস্থিতিতে পাকিস্তানী আর্মিরা পাবনা সদর থানার কুলনিয়া ও দোগাছি গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে ৭ জন নিরীহ-নিরস্ত্র ও স্বাধীনতাকামী লোককে হত্যা করে এবং কয়েকটি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়।
অভিযোগÑ৬. ৭১ সালে ১২ মে সুবহানের নেতৃত্বে পাকিস্তানী আর্মির একটি বিরাট বহর সুজানগর থানাধীন সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে জ্ঞাত-অজ্ঞাত ৩/৪ শত জন লোককে গণহত্যা করে। বিভিন্ন লোকজনের বাড়িঘরের মালামাল লুটপাট করে বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়।
অভিযোগÑ৭. ২০ মে তার নেতৃত্বে পাকিস্তানী আর্মিরা পাবনা সদর থানাধীন ভাড়ারা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১৮ জন নিরীহ লোককে অপহরণ করে। তাদের মধ্যে একজনকে গ্রামের একটি স্কুলে হত্যা করে। অপর ১৭ জনকে পাবনা সদর নূরপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিয়ে আটক করে নির্যাতন করে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আটঘরিয়া থানাধীন দেবত্তোর বাজারের পাশে বাঁশবাগানে গুলি করে হত্যা করে।
অভিযোগÑ৮. ৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সুবহান রাজাকারদের নিয়ে আতাইকুলা থানার (সাবেক পাবনা সদর থানা)দুবলিয়া বাজার থেকে ২ জন স্বাধীনতাকামী লোককে অপহরণ করে কুচিয়ামাড়া গ্রামে একটি মন্দিরের ভেতরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।
অভিযোগÑ৯. ৭১’ সালে ৩০ অক্টোবর রাজাকারদের নিয়ে সুবহান ঈশ্বরদী থানাধীন বেতবাড়িয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি বাড়িতে লুটপাটসহ বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং ৪ জন লোককে অপহরণ করে নিয়ে হত্যা করে।
গতবছর ১৯ সেপ্টেম্বর সুবহানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
তদন্তের স্বার্থে গতবছর ১ সেপ্টেম্বর সেফহোমে নিয়ে সুবহানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত সংস্থা। গত বছর ২০ সেপ্টেম্বর সুবহানকে একটি মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে এক আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্তের স্বার্থে মানবতাবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে আটক রাখার আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।-বাসস

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)