ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট জুলাই ১৬, ২০১৯

ঢাকা রবিবার, ৩ ভাদ্র, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৬ জিলহজ্জ, ১৪৪০

বহির্বিশ্ব স্কুলে আচমকা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৫১ শিশু আহত

স্কুলে আচমকা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৫১ শিশু আহত

নিরাপদনিউজ : স্কুল শুরু হওয়ার আগে প্রার্থনা করছিল ছাত্ররা। এ সময় আচমকা বিদ্যুস্পৃষ্ট হয়েছে তারা। আহত ৫১ ছাত্রকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। সোমবার ভারতের উত্তরপ্রদেশের বলরামপুর জেলার একটি প্রাইমারি স্কুলে এই দুর্ঘটনা হয়।

উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউ থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরে বলরামপুর অবস্থিত। সেখানে কয়েকদিন ধরে প্রবল বৃষ্টি চলছে। বৃষ্টিতে ছিঁড়ে পড়েছিল একটি হাইটেনশন বিদ্যুতের তার। নারায়ণগড় প্রাইমারি স্কুলের চত্বরে থাকা কয়েকটি গাছের ওপর দিয়ে তারটি এসে পড়েছিল মাটিতে। বৃষ্টির কারণে মাটি ভিজে ছিল।

সোমবার বেলা ১০ টা নাগাদ স্কুল শুরু হওয়ার আগে ছেলেরা স্কুল চত্বরে প্রার্থনার জন্য জড়ো হয়। নিয়মমতো গাছের নীচে জুতো খুলে তাদের চটের ওপরে বসার কথা। তারপর প্রার্থনা শুরু হয়। কিন্তু গাছের নীচে জুতো ছাড়ার জন্য যেতেই ছেলেরা বিদ্যুতের শক পায়।

স্কুলের শিক্ষকরা সেই ভয়াবহ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। তাঁরা বলেছেন, আমরা দেখলাম, প্রায় ৬০ জন ছেলে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করতে করতে খালি পায়ে দৌড়াচ্ছে। তবে কেউ বেশিদূর দৌড়াতে পারেনি। একে একে অজ্ঞান হয়ে যেতে লাগল। শিক্ষকরা অক্ষত ছিলেন। কারণ তাঁদের কেউ জুতা খোলেননি।

জেলা প্রশাসক কৃষ্ণ করুণেশ বলেন, বিদ্যুৎ দপ্তরের গাফিলতিতেই ৫১ জন ছাত্র আহত হয়েছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কনট্রাক্টে যে কর্মীদের নেওয়া হয়েছিল, তাদের একজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সাসপেন্ড করা হয়েছে আরও একজনকে। ওই অঞ্চলের জুনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার প্রিয়দর্শী তেওয়ারির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, আহত শিশুদের মধ্যে ২৯ জনের চিকিৎসা হচ্ছে উতরাউলা কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে। বাকি ২২ জন ভর্তি রয়েছে বেসরকারি হাসপাতালে।

স্কুলের সহকারী শিক্ষিক রিচা সিং বলেন, আমরা তো প্রথমে বুঝতেই পারিনি কী ঘটছে। খালি পায়ে যে শিশুরা মাটির ওপর দিয়ে হাঁটছিল, তারা সকলেই শক খেয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ছেলেরা শক পেয়েছে বুঝে আমরা সঙ্গে সঙ্গে পাওয়ার হাউসে ফোন করলাম। আমরা চাইছিলাম যেন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। কিন্তু পাওয়ার হাউসের কেউ ফোন ধরেননি। ১৫ মিনিট ধরে ফোন বেজে অবশেষে থেমে গেল।

এদিকে, দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উদ্বিগ্ন বাবা-মায়েরা স্কুলে ভিড় করেন। জেলা প্রশাসনের সহায়তায় আহত শিশুদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় কাউন্সিলর রামপ্রতাপ বর্মা পরে হাসপাতালে আহত শিশুদের দেখতে যান। ক্ষুদ্ধ জনতাকে শান্ত করেন তিনি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)