ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট মার্চ ২০, ২০১৭

ঢাকা শনিবার, ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৬ রবিউস-সানি, ১৪৪১

ফ্যাশন স্বাধীনতা মাসে লাল-সবুজের ফ্যাশন

স্বাধীনতা মাসে লাল-সবুজের ফ্যাশন

স্বাধীনতা মাসে লাল-সবুজের ফ্যাশন

২০ মার্চ ২০১৭, নিরাপদ নিউজ :  স্বাধীনতা দিবস শব্দটি আমাদের জীবনে নিয়ে আসে অন্যরকম অনুভূতি। দেশপ্রেমিক বাঙালি যেন নতুন করে উজ্জীবিত হয়। তার প্রতিফলন ঘটে এ দিনের সাজ-পোশাকে। তাই অনেকেই স্বাধীনতা দিবসের পোশাকে বেছে নেন লাল-সবুজ পতাকার রং। এসব চাহিদাকে সামনে রেখে রাজধানীসহ সারাদেশের ফ্যাশন হাউসগুলো সেজেছে লাল-সবুজ পতাকার রঙে। এছাড়া বর্ণিল সব রঙের পোশাকে ফুটে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের আবহ।
সাধারণত লাল-সবুজ থিমকে মাথায় রেখে পোশাকের নকশা করা হয়। তবে রং একই হলেও পোশাকের উপাদানে থাকে ভিন্নতা। এ সময় ঋতুচক্রের পালাবদলে গ্রীষ্ম দুয়ারে কড়া নাড়ছে, তাই ফ্যাশান হাউসগুলো বেছে নিয়েছে সুতি ও হাফ-সিল্ক কাপড়।
স্বাধীনতা দিবসে নারী
বাঙালি নারীর চিরায়ত পোশাক শাড়ির পাশাপাশি সালোয়ার-কামিজ ও ফতুয়া এনেছে ফ্যাশন হাউজগুলো। বর্তমানে যেহেতু ডিভাইডারের চল, তাই তারা এনেছে বিভিন্ন ধরনের টপস ও কুর্তা। এ ছাড়া লেগিংসের সঙ্গে পরার জন্য আছে লং কামিজ।
রংয়ের ক্ষেত্রে পতাকার রং লাল-সবুজের পাশাপাশি টিয়া, কমলা ও নীলের মতো উজ্জ্বল রঙের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ছাড়া পোশাকে ব্লক, স্ক্রিনপ্রিন্ট, এমব্রয়ডারি ও হাতের কাজের বিভিন্ন নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ছেলেদের স্বাধীনতা দিবস
স্বাধীনতার আনন্দ থেকে ছেলেরাই বা পিছিয়ে থাকবে কেন? এ উপলক্ষে ছেলেদের জন্যও বিভিন্ন পোশাকের পসরা সাজিয়েছে ফ্যাশন হাউসগুলো। ছেলেদের জন্য তারা প্রধানত লাল-সবুজের মিশ্রণে পাঞ্জাবি ও ফতুয়া এনেছে। পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে সব সময়ের সঙ্গী টি-শার্ট। টি-শার্টগুলোতে লাল-সবুজের পাশাপাশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের আবয়ব, আছে এমন নকশা। পাঞ্জাবিতে থাকছে হাতের কাজ, ব্লক, এমব্রয়ডারি ও ব্লকপ্রিন্ট।

 

স্বাধীনতার আনন্দে শিশুরা
শিশুদের উপস্থিতিতেই প্রাণবন্ত হয় উৎসব-আয়োজন। স্বাধীনতা দিবসে তাই শিশুদের জন্য বিভিন্ন বর্ণিল পোশাক এনেছে ফ্যাশন হাউসগুলো। মেয়ে শিশুদের জন্য পাওয়া যাচ্ছে ফ্রক, সালোয়ার-কামিজ ও শাড়ি এবং ছেলেদের জন্য পাঞ্জাবি-পায়জামা, ফতুয়া ও টি-শার্ট। রংয়ের ক্ষেত্রে পতাকার রং লাল-সবুজের পাশাপাশি বিভিন্ন উজ্জ্বল রংকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পোশাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের থিম।
কোথায় পাবেন
রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির দেশী দশসহ আজিজ সুপার মার্কেট, মিরপুর, সোবহানবাগ ও আসাদ গেটে অবস্থিত বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে পাওয়া যাবে স্বাধীনতার পোশাক। এ ছাড়া গাউছিয়া ও নিউমার্কেটসহ নগরীর বিভিন্ন বিপণিবিতানে ঢু মারতে পারেন।
দরদাম
মেয়েদের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ৮০০ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে, সালোয়ার-কামিজ পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকার মধ্যে, ফতুয়া-কুর্তা, টপস ও লং কামিজ পাওয়া যাচ্ছে ৫৫০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে।
ছেলেদের পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে, ফতুয়া পাওয়া যাচ্ছে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে ও টি-শার্ট পাওয়া যাচ্ছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে।
শিশুদের বিভিন্ন পোশাক পাওয়া যাচ্ছে ২০০ থেকে দেড় হাজার টাকার মধ্যে।


স্বাধীনতা দিবসের সাজ
নারীরা সাজতে পছন্দ করে তা সবারই জানা। আর স্বাধীনতা দিবসের মতো দিনে না সেজে কি থাকা যায়। তবে এখন প্রকৃতিতে ছোবল বসাতে শুরু করেছে গরম। তাই গরমের কথা মাথায় রেখে সাজটাও হওয়া চাই হালকা। যেহেতু স্বাধীনতা দিবসে পোশাকের রং এমনিতেই উজ্জ্বল হয়, তাই ভারি মেকআপ না নেওয়াই ভালো।
চোখের সাজের ক্ষেত্রেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। গরমের কারণে মেকআপ গলে যাওয়ার ভয় থাকে। তাই চোখে আইশ্যাডো না দেওয়াই ভালো। শুধু কাজলেই হয়ে উঠতে পারেন অনন্যা। চাইলে মাশকারা লাগাবে পারেন। তবে অবশ্যই সেটা ওয়াটারপ্রুফ হতে হবে। অবশ্যই হাতে লাল-সবুজ চুড়ি আর কপালে লাল-সবুজ টিপ দিতে ভুলবেন না।
ছেলেরা আজকাল নানা ধরনের মালা ও ব্যান্ড ব্যবহার করেন। এ দিনে পোশাকের সাথে মিলিয়ে বেছে নিতে পারেন মালা ও ব্যান্ড। এছাড়া অনেকে মাথায় ও হাতে পতাকা বেঁধে থাকেন। মুখে রং দিয়েও কেউ কেউ পতাকা আঁকেন। মনে রাখবেন তা যেন সংবিধানসম্মত হয়।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)