সংবাদ শিরোনাম

২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং

00:00:00 শুক্রবার, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ , শরৎকাল, ২রা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী
বরিশাল, সড়ক সংবাদ সড়কের অভাবে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

সড়কের অভাবে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

পোস্ট করেছেন: Nsc Sohag | প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭ , ৫:৫০ অপরাহ্ণ | বিভাগ: বরিশাল,সড়ক সংবাদ

সড়কের অভাবে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, নিরাপদ নিউজ : ছবি দেখে মনে হতেই পারে কোন বিনোদন স্থানে বালিকারা ঝাঁক বেঁধে নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু না নৌকা চালিয়ে এভাবে স্কুলে যাচ্ছে শিশুরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিনই নিজেরাই খালে রাখা ছোট ছোট নৌকায় উঠছে। এরপর নৌকায় চড়ে নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জোয়ার-ভাটার তীব্র সোত ও সামান্য ঢেউয়ে কিংবা অসাবধানতার কারণে নৌকা উল্টে দুর্ঘটনার আশঙ্কা উপেক্ষা করে স্কুলে ছোটে এসব শিশু। স্কুলের আশপাশে খাবারের দোকান নেই। ক্ষুধা লাগলে পানি খেয়েই ক্ষুধা নিবারণ করে। যুগযুগ ধরে এভাবেই শিক্ষা গ্রহণ করে আসছে নাজিরপুর বিলাঞ্চলের মনোহরপুর এলাকার জনগণ। কিন্তু মাত্র ৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ হলেই পাল্টে যাবে স্কুলের পরিবেশ।

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা থেকে উত্তর পূর্বকোনে এবং গাওখালী বাজার থেকে উত্তর দিকে ৫ কিলোমিটার দূরে মনোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলটি পিরোজপুর ভৌগোলিক সীমারেখার শেষ প্রান্তে। এর আশপাশে আরো ১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অবস্থাও নাজুক। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অনেকটা উন্নতি হয়েছে। অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে বিল ডুমরিয়া, বাঁশপাড়া মনোহরপুর, সোনাপুর ও ত্রিগ্রাম প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, ছোট-ছোট নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুগের পর যুগ স্কুলে আসা-যাওয়া করে তারা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সরকারের উচ্চপদে চাকরি করছেন এখন অনেকেই।

১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত মনোহরপুর প্রাথমিক স্কুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সরকারি চাকরি করে অনেকে অবসর নিয়েছেন। অনেকে মারা গেছেন। এখনও অনেকে কর্মরত রয়েছেন উচ্চপদে। কিন্তু পরির্বতন হয়নি মনোহরপুর স্কুলসহ বিলাঞ্চলের অন্যান্য স্কুলের। মাত্র ৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ হলেই পাল্টে যাবে স্কুলের পরিবেশ।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মনোহরপুর প্রাথমিক স্কুলটি সরকারি করেন। এরপর থেকে সরকার আসে সরকার যায় স্কুলগুলোতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমে না। স্কুলগুলোর কর্তৃপক্ষ সরকারের নীতি নির্ধারকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে শুধু এসব কাজের আশ্বাস পেয়ে আসছেন।

মনোহরপুর স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষার্থীদের দাবি নিরাপদে স্কুলে আসা যাওয়ার জন্য ৬ কিলোমিটার সড়ক ও স্কুল চত্বরে একটি সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ করে দেয়ার।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার বর্ষা মৌসুমেই শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে থাকে। আর শীতকালে তাদের কষ্ট হয় বেশি কারণ ওই সময় বিলে ও খালে পানি থাকে না। খাল-বিল শুকিয়ে চৌচির হয়ে যায়। কোনো বাহনই চলে না তখন। তখন জোয়ার-ভাটায় নির্ণয় করে ক্লাস নেয়া হয়। তারপরও স্কুলে যেতে তাদের কাদা পেরিয়ে যেতে হয়। শিক্ষার্থীরাসহ শিক্ষকদের এক সেট জামা কাপড় স্কুলেই রেখে দিতে হয়।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Digg thisShare on Tumblr0Email this to someonePin on Pinterest0Print this page

comments

Bangla Converter | Career | About Us