আপডেট ৮ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৩ ভাদ্র, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৬ জিলহজ্জ, ১৪৪০

মতামত ‘সড়কে শৃংখলা আনতে গেলেই, তাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ পড়ে,পুলিশকে প্রতিপক্ষ মনে করে’

‘সড়কে শৃংখলা আনতে গেলেই, তাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ পড়ে,পুলিশকে প্রতিপক্ষ মনে করে’

নিরাপদ নিউজ: আমরা যারা সড়কে শৃংখলা নিয়ে কাজ করি,তারা মনে করি, সড়কে শৃংখলা আনার কাজটি মানুষের কাছে ঘৃন্যতম একটি কাজ!
মানুষ অবাধ স্বাধীনতা নিয়ে চলতে চায়!

সড়কে শৃংখলা আনতে গেলেই, তাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ পড়ে।পুলিশকে প্রতিপক্ষ মনে করে। ধরুন,একটি বাসে অতিরিক্ত যাত্রী,ফিটনেস বিহীন,চালকের লাইসেন্স নাই,রাস্তায় চলছে। পুলিশ থামালো,এখানে যাত্রী,চালক,বাসের মালিকপক্ষ এমনকি পথচারীরা ও পুলিশের বিপক্ষে অবস্থান করে। তার মানে হলো,একদিকে পুলিশ,অন্যদিকে ঐ এলাকার সকল মানুষ।

এমন প্রতিকূল পরিবেশে পুলিশকে সড়ক নিরাপত্তায় কাজ করতে হয়। সড়ক দূর্ঘটনায় যত মানুষ মারা যায়,বেচেঁ থাকতে তাদের অনেকেই আমাদের এই কাজকে সমর্থন করেন না। কারণ একটাই,তারা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বুঝতেই চান না এমনটি ঘটতে পারে!

তাই,পুলিশ যখনই নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে,তখনই পুলিশকে অপছন্দ করার মানুষের তালিকা দীর্ঘ হতে থাকে।
সামান্য একটা হেলমেটের জন্য যখন মামলা ঠুকে দেওয়া হয়,তখন মানুষের চেহারার দিকে তাকানো যায় না।
অথচ,মোটরসাইকেল চালালে, হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক।
বাস ট্রাক,কার মাক্রোবাস,সিএনজি অটোরিক্সার মালিকগণ,ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালাতে দিচ্ছেন।
তাদের কি বিভেক নাই।
আমরা যখন আইন প্রয়োগ করতে যাই,তখনই তাদের চোখে,অঙ্গভঙ্গিতে আমরা বিভেকহীন!!
আবার যখন তাদের ভুলের জন্য মানুষ দূর্ঘটনায় মারা যায়,তখনও ক্ষোভ থাকে এই পুলিশের দিকেই।
আমাদের কাজকে মেনে নেয়ার মত মানুষ খুব কমই পেয়েছি।
আর সফলতা যদি বলি,তবে এত কিছুর পরও সফলতা শুন্যের কোটায়।
তার কারন একটাই,জোর করে মানুষকে আইন মানানো যায় না।
আমরা যখন বেশি চাপ প্রয়োগ করি,তখন মানুষ, লোকদেখানো আইন মানে,মামলা হওয়ার হাত থেকে বাঁচার জন্য একটা অভিনয়ের মত করে থাকেন।
এটা শৃংখলা নয়।
কোন কিছু মনের গভীর থেকে উপলব্দি না করলে,
জাতিগত ভাবে স্বাগত না জানালে, সেটার বাস্তবায়ন হয় না।
লেখকঃপুলিশ কর্মকর্তা, মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন কাজল।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)