ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৫০ মিনিট ৩১ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ২ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৭ সফর, ১৪৪১

সম্পাদকীয় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে উদ্যোগ: আদালতের নির্দেশ প্রতিপালিত হোক

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে উদ্যোগ: আদালতের নির্দেশ প্রতিপালিত হোক

নিরাপদ নিউজ: যানজট যেন ঢাকাবাসীর নিয়তি হয়েই দেখা দিয়েছে। একদিকে যানবাহন বাড়ছে, অন্যদিকে মেট্রো রেলের কাজ চলছে। কোনো কোনো রাস্তা একেবারেই সংকুচিত হয়ে গেছে। কোনো কোনো রাস্তা হেঁটে চলাচল করারও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যানবাহন, বিশেষ করে নগর পরিবহন চলছে বিকল্প পথে। ফলে যানজট থেকে মুক্তি মিলছে না নগরবাসীর। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাস্তার পাশে অবৈধ পার্কিং ও কোনো কোনো রাস্তাজুড়ে দোকান। রাজধানীতে যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে যানজট। কয়েক বছর আগের এক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যানজট ও গাড়ির ধীরগতির কারণে মাসপ্রতি ক্ষতির পরিমাণ ২২৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ রাজধানীর যানজট আমাদের অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

 

প্রতিদিন যে কর্মঘণ্টা রাস্তায় নষ্ট হচ্ছে, তা পুষিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ অবৈধ পার্কিং বন্ধ করতে শেষ পর্যন্ত আদেশ এলো উচ্চ আদালত থেকে। রাজধানীতে সড়কের পাশে অবস্থিত যেসব ভবনে কার পার্কিংয়ের জায়গায় নকশাবহির্ভূতভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকান তৈরি করা হয়েছে, সেগুলো এক মাসের মধ্যে অপসারণ বা ভেঙে ফেলতে ভবন মালিকদের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

 

ভবন মালিকরা নিজ উদ্যোগে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ না করলে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে তা অপসারণ করতে রাজউককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই অপসারণের খরচ ভবন মালিকের কাছ থেকে আদায় করতে বলা হয়েছে। রায়ে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে রাজউককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের বিষয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট অথরাইজড কর্মকর্তাকে নিজ নিজ এলাকায় মাইকিং করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের যেসব জায়গায় কার পার্কিংয়ের জন্য সিটি করপোরেশন অনুমোদন দেয়নি, সেসব স্থান থেকে গাড়ি অপসারণ ও আইনগত পদক্ষেপ নিতে সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে তিন মাস পর পর অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওদিকে রাজধানীর তিন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগামি রবিবার থেকে গাবতলী-আজিমপুর, সায়েন্স ল্যাব-শাহবাগ এবং কুড়িল-রামপুরা-সায়েদাবাদ এই তিন সড়কে রিকশা চলতে দেওয়া হবে না। গত বুধবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে আয়োজিত ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) গঠিত কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এসব সিদ্ধান্ত অবশ্যই ইতিবাচক। তবে বিকল্প ব্যবস্থাও থাকতে হবে। অবৈধ পার্কিং তুলে দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু পার্কিংয়ের জন্য ব্যবস্থাও করা দরকার। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার বাড়বে। এ অবস্থায় গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকলে তা সিটি করপোরেশনগুলোর আয় বাড়াতেও সাহায্য করবে।

অন্যদিকে রাস্তায় গণপরবিহন বাড়ানোর বিষয়টিও ভেবে দেখতে হবে। রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন সংস্থাকে কিভাবে সব রুটে সচল করা যায়, তা ভেবে দেখা দরকার। যানজট নিরসনে আদালতের আদেশ প্রতিপালনের পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবস্থাকেও উন্নত করা হোক।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)