ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট আগস্ট ৩, ২০১৮

ঢাকা বুধবার, ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ৩ রবিউস-সানি, ১৪৪০

নিসচা সংবাদ, লিড নিউজ সড়কে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ফিরিয়ে আনুন, মানুষ পাশে থাকবে: ইলিয়াস কাঞ্চন

সড়কে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ফিরিয়ে আনুন, মানুষ পাশে থাকবে: ইলিয়াস কাঞ্চন

এ কে এম ওবায়দুর রহমান, নিরাপদ নিউজ: নিরাপদ সড়ক চাই (নিচসা) আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, আজকে সারাদেশের মানুষ নিরাপদ সড়ক  দাবির পক্ষে। এ বিষয়ে আপনারা কঠোর আইন প্রয়োগ করুন। সড়কে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ নিন। এতে পরিবহন সেক্টরের কিছু কিছু মানুষ বিরোধিতা করতে পারে, কিন্তু সারাদেশের মানুষ আপনাদের পক্ষে থাকবে। যদি সারাদেশের মানুষ আপনার পাশে থাকে তবে আইন প্রয়োগ এবং নতুন আইন তৈরি করা সরকারের জন্য কষ্টের বিষয় হবে না।

সড়ক দুর্ঘটনারোধে কার্যকর পদক্ষেপ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শুক্রবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশে এ আহ্বান জানান তিনি। বেলা সোয়া ১১টার দিকে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ইলিয়াস কাঞ্চন শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নের কাজ আগামী রবিবার (৫ আগস্ট) থেকে শুরু করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই- যে পরিবহন সেক্টরের ভয়ে আপনারা আইন প্রণয়ন করতে পারেন না, নতুন আইন করতে পারেন না, আমাদের কোমলমতি সন্তানরা রাস্তায় নেমে তাদের বিষয়ে আজ একটি সুযোগ করে দিয়েছে। আপনারা কঠোর আইন প্রয়োগ করুন। সড়কে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ফিরিয়ে আনুন। আপনারা যে ব্যবস্থা নেবেন হয়তো পরিবহন সেক্টরের কিছু মানুষ তার বিরোধিতা করতে পারে। কিন্তু সারাদেশ আপনাদের পক্ষে থাকবে। আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, সারাদেশ যদি আপনাদের পাশে থাকে তাহলে কিন্তু আইন প্রয়োগ করা ও নতুন আইন তৈরি করা আপনাদের জন্য কষ্টের বিষয় হবে না।’

তিনি বলেন, `৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশের মানুষ যেনও আর সড়কে নিষ্পেষিত না হয়। আজকে এই অবস্থা থেকে বাঁচতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এসেছে। আজকের এই মানববন্ধনের মাধ্যমে আমি সরকারকে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, নিরাপদ সড়ক আজ মানুষের প্রাণের দাবি। এ দেশের মানুষ আর সড়কে মরতে চায় না। পঙ্গুত্ববরণ করতে চায় না। আমরা যে নির্দেশনাগুলো দিয়েছিলাম সড়ক নিরাপত্তার জন্য, সেটি যদি আগে থেকে বাস্তবায়ন করা হতো, তাহলে আজ এই পরিণতি দাঁড়াতো না।’

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ কীভাবে পালিত হবে তা জানতে চেয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, আপনার এই নির্দেশনা কারা, কীভাবে বাস্তবায়ন করবে এটি জাতি জানতে চায়। সারাদেশের মানুষ এই দাবির পক্ষে।’ তিনি আরও বলেন, আজকে পরিবহন সেক্টরে যারা নেতৃত্বে আছেন তাদের দায়িত্বহীন কথাবার্তার কারণে এ পরিবহন সেক্টর উচ্ছৃঙ্খল ও অমানবিক হয়েছে।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি বলবো আর সময়ক্ষেপণ করা উচিৎ হবে না। যত সময় যাবে তত জীবন যাবে। মা-বাবা সন্তান হারাবে, বোন ভাই হারাবে। এটি আর চাই না। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী এর আগে কয়েকটি ঘোষণা দিয়েছিলেন কিন্তু এখন পর্যন্ত সেগুলো বাস্তবায়ন করার তেমন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি। আমরা বলবো চালকদের ৫ ঘণ্টা গাড়ি চালানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এজন্য আন্তজেলা পরিবহনগুলোর বাসে দু’জন করে ড্রাইভার রাখতে হবে।

পরিবহন সেক্টরে চালকের সংখ্যার বাস্তবতা উল্লেখ করে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘যেখানে ৩৫ লাখ বিআরটিএ’র রেজিস্টার্ড গাড়ি সেখানে চালকের সংখ্যা মাত্র ১৯ লাখ। তাহলে ১৬ লাখ চালক এখনও প্রয়োজন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা বলে আসছি জাতীয় বাজেটে সড়ক দুর্ঘটনারোধে চালকদের দক্ষ করার জন্যে ইনস্টিটিউশন তৈরি করার দরকার ছিল। এ বাজেটেও ৪ থেকে ৫টা ইনস্টিটিউশন তৈরি করার জন্য কোনও বাজেট প্রণয়ন হয়েছে বলে আমরা দেখতে পাইনি। তাহলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে?

মানববন্ধনের  উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ সড়ক চাইয়ের ভাইস-চেয়ারম্যান শামীম আলম দীপেন, যুগ্ম-মহাসচিব লিটন এরশাদ, গনি মিয়া বাবুল, অর্থ সম্পাদক নাসিম রুমি, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক একে আজাদ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মিরাজুল মইন জয়, প্রচার সম্পাদক এ কে এম ওবায়দুর রহমান, সহ-প্রচার সম্পাদক সাফায়াত সাকিব, প্রকাশনা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ, দুর্ঘটনা অনুসন্ধান বিষয়ক সহ-সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক রাব্বী, নির্বাহী সদস্য আলাল উদ্দিন ও ফিরোজ আল মিলন প্রমুখ।

এর আগে সকাল ১০টা থেকেই বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিগতভাবে অনেকে মানববন্ধনে যোগ দেন। মানববন্ধন ও সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেয় কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, সেফ দ্য রোড, সন্দ্বীপ সমিতি ঢাকা, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি ও ইনছানিয়াত বিপ্লব, বাংলাদেশ। এছাড়া রাজধানী ও রাজধানীর বাইরের কলেজের অনেকেই কর্মসূচিতে অংশ নেন। সম্প্রতি নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পায়েলের মৃত্যু এবং ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের ডাক দেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)