ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৪৭ মিনিট ৫১ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ১১ আশ্বিন, ১৪২৫ , শরৎকাল, ১৫ মুহাররম, ১৪৪০

জাতীয়, নিসচা সংবাদ, লিড নিউজ সড়ক দুর্ঘটনারোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

সড়ক দুর্ঘটনারোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

নিরাপদনিউজ : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নিসচা চেয়ারম্যান চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।  গত ১৭ আগষ্ট  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে রাজধানীতে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে শহরে চলাচলের সময়ে গাড়ির মূল দরজা বন্ধ রাখা, অটো সিগন্যাল এবং রিমোট কন্ট্রোলড অটোমেটিক বৈদ্যুতিক সিগনালিং পদ্ধতি চালুসহ বেশকিছু নির্দেশনা দেয়াতে তিনি এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।  উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন সিনিয়র মিডিয়া কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে এই মনিটরিং চলবে।

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে যে সব বিষয় তুলে ধরে সরকারের কাছে আবেদন করে এসেছি আজ সরকার তার ভেতরের অনেকগুলো বিষয় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।  ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং যানজট নিরসনে ইতোপূর্বে গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন হলে আমরা আশা করতে পারি দেশের সড়ক দুর্ঘটনার পরিমান অনেকটা কমে আসবে।

আমরা নিরাপদ সড়ক চাই এর পক্ষ থেকে দাবি জানিয়ে এসেছিলাম,  সকল মোটর সাইকেল ব্যবহারকারীকে (সর্বোচ্চ দুইজন আরোহী) বাধ্যতামূলক হেলমেট পরিধানের ব্যবস্থা গ্রহণ ও সিগন্যালসহ ট্রাফিক আইন মানার জন্য বাধ্য করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মাননীয় সরকার এবার তা করেছে।

ইলিয়াস কাঞ্চন সেই সাথে সরকারের কাছে আরো কিছু বিষয় তুলে ধরে বিবৃতিতে বলেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন সরকারের একার পক্ষে সড়ক দুর্ঘটনারোধ করা সম্ভব নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথার সুত্র ধরে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সত্যিকার অর্থেই সরকারের একার পক্ষে কখনোই দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয়। এ কারণে সরকারকে বলব আপনি দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান/অফিস আদালত/ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সব খানে একটি বাধ্যতামুলক আইন করুন। তারা যেন তাদের ষ্টাফদের নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার নিয়মনীতি এবং সড়ক দুর্ঘটনারোধে প্রয়োজনীয় সকল নির্দেশনা প্রদান ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং এই সকল প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী/কর্মকর্তা যখন সড়কে আইন অমান্য করবে তাদের শাস্তির পাশাপাশি তাদের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। সেই সাথে সব পরিবহনে (দূরপাল্লার বাসে) চালক এবং যাত্রীর সিটবেল্ট ব্যবহার এবং পরিবহন কোম্পানিগুলোকে সীট বেল্ট সংযোজনের নির্দেশনা প্রদান করে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এতে করে দুর্ঘটনার হার অনেকটা কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

সেই সাথে ইলিয়াস কাঞ্চন আরো বলেন, দুর্ঘটনারোধে শুধু ট্রাফিক সপ্তাহ পালন নয়। এটির কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যহত রাখতে হবে। এবং শুধু ঢাকা শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নয়। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে সমন্বয় করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি বা আরম্ভ হবার প্রাক্কালে অপেক্ষাকৃত বয়ঃজ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী, স্কাউট এবং বিএনসিসি’র সহযোগিতা গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপারের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ঢাকা শহরে রিমোট কন্ট্রোলড অটোমেটিক বৈদ্যুতিক সিগনালিং পদ্ধতি চালুকরণসহ সব সড়কের ডিভাইডার উচ্চতা বৃদ্ধি করে বা স্থানের ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে ডিভাইডারের উপর দিয়ে বা নিচ দিয়ে চলাচলের অনুপযোগী করে তোলার ব্যাপারে সভায় যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এটি অত্যন্ত ভালো একটি পদক্ষেপ যা আমরা অনেকদিন ধরে বলে আসছিলাম।

সড়ক দুর্ঘটনারোধে ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং যানজট নিরসনে গৃহীত পদক্ষেপ সমূহগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হোক এমনটাই আশা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সরকারের নেয়া এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে আমরা সড়ক দুর্ঘটনার কাংখিত লক্ষে পৌছতে পারব। সেই সাথে নিসচার পক্ষ থেকে আমরা পূর্বে সরকারকে যে সমস্ত দাবিগুলো জানিয়ে আসছি আশা করি এসব বিষয় মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহন করে সরকার স্বদিচ্ছার পরিচয় দিবেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)