ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৩২ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ , গ্রীষ্মকাল, ২১ রমযান, ১৪৪০

ট্রাফিক আপডেট সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বছরে জিডিপির দুই শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে -ইলিয়াস কাঞ্চন

সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বছরে জিডিপির দুই শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে -ইলিয়াস কাঞ্চন

c11 (1)

নিরাপদ নিউজঃ নিরাপদ সড়ক চাইয়ের (নিসচা) চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনার দায় একক কোনো সংগঠনের নয়। সড়ক দুর্ঘটনা যেমন একক কারণে নয়, তেমনি দুর্ঘটনা রোধ করার দায়িত্বও একক কোনো কর্তৃপক্ষের নয়। সড়ক দুর্ঘটনায় সড়কের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেক মন্ত্রণালয় রয়েছে। এসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কিন্তু সেতুমন্ত্রীর একার নয়। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সাধারণ মানুষ, সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, সংগঠন, সবারই দায়িত্ব রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব সরকারের। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ৫০টির মতো কারণ রয়েছে। এর মধ্যে মহাসড়কে গাড়ি চালানোর নিয়মগুলো না মানা, অদক্ষ ড্রাইভার বিশেষ করে প্রশিক্ষণ ছাড়া হেলপার থেকে ড্রাইভার বনে যাওয়া, অশিক্ষিত ড্রাইভার, ওভারলোড, ওভারটেকিং, পুলিশের নানা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে যাওয়া, গতি সম্পর্কে ধারণা না থাকা অন্যতম। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে শুধু সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নিলে হবে না। এজন্য প্রত্যেকে নাগরিককেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমাদের ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত ট্রেনিং ইনস্টিটিউট গড়ে তুলতে হবে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ড্রাইভারদের সামাজিক মর্যাদা দিতে হবে। রাস্তা পারাপারসহ গাড়ি চলাচলে ট্রাফিক আইন মেনে আচরণ করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে ট্রাফিক আইন মেনে না চলার যে মানসিকতা মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে, তার পরিবর্তন আনলেই দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং রাস্তার পাশের ভূমি ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার কমাতে দক্ষ রেসকিউ টিম প্রয়োজেন। দুর্ঘটনার কারণে বছরে জিডিপির দেড় থেকে দুই শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে উল্লেখ করে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, এ কারণে প্রতি বছরে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। এজন্য সড়ক দুর্ঘটনা রোধে একটা আলাদা বিভাগ তৈরি করার দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, পুলিশের রিপোর্টে দুর্ঘটনার জন্য মাত্রাতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোকে দায়ী করা হয়। অথচ এ দুটির বাইরেও দুর্ঘটনার আরও অনেক কারণ থাকে। সঠিক কারণ চিহ্নিত না হলে এবং সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, বিআরটিএ থেকে হাস্যকর প্রক্রিয়ায় গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট দেয়া হয়। একটি গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষার জন্য ৪১টি আইটেম পরীক্ষা করতে হয়। অথচ মালিক আর গাড়ি দেখেই বিআরটিএ’র পরিদর্শক ফিটনেস সার্টিফিকেট দিয়ে দিচ্ছেন। এটা করলে নিরাপদ সড়ক কখনোই পাব না। ফিটনেস দেয়ার বর্তমান প্রক্রিয়াটা বিজ্ঞানভিত্তিক নয় মন্তব্য করে তা সংস্কারের দাবি জানান তিনি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ টেনে ড. শামসুল হক বলেন, গাড়ির ফিটনেস দেবে সরকার, কিন্তু টেস্টগুলো করবে বেসরকারি কোম্পানি। সরকার ও বিআরটিএ নজরদারির ভূমিকায় থাকবে। সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে সেফটি অডিট চালু হয়নি। দুই স্তরের সড়ক নির্মাণ করলে কম গতি ও বেশি গতির গাড়ি আলাদাভাবে চলতে পারবে। এতে দুর্ঘটনা কমে আসবে। এ ছাড়া মহাসড়কের পাশের ভূমির নিরাপদ ব্যবহার নিয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার পরামর্শ দেন তিনি।

সুত্র  যুগান্তর পত্রিকা

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)