ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট নভেম্বর ৬, ২০১৮

ঢাকা সোমবার, ৩ পৌষ, ১৪২৫ , শীতকাল, ৯ রবিউস-সানি, ১৪৪০

দুর্ঘটনা সংবাদ, সিলেট সড়ক দুর্ঘটনায় আহত অবুঝ দুটি শিশুর কান্না থামাবে কে?

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত অবুঝ দুটি শিশুর কান্না থামাবে কে?

নিরাপদনিউজ: সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিশু মেহনাজ ও শেহজাদ এর চিকিৎসায় কোন ঘাটতি নেই।কিন্তু মা বাবা হারানোর বেদনা তাদের অবুঝ মনকে অশান্ত আর বেদনাশিক্ত করে তুলেছে। তাদের কান্না যেন থামতেই চাইছে না। মিহনাজের বয়স আট বছর ও শেহজাদের বয়স মাত্র পাঁচ বছর। এখনো পৃথিবীর কিছু বুঝে উঠতে পারেনি ওরা। তাদের মা বাবা তাদের ছেড়ে চিরদিনের জন্য না ফেরার দেশস চলে গেছেন তাও বুঝতে পারছেনা এই অবুঝ দুটি শিশু। তারা তাদের মা বাবার জন্য শুধু কান্না করছে। তাদের অর্তচিৎকারে হাসপাতালের বাতাস ভারী হয়ে ওঠেছে। ডাক্তার নার্স আর স্বজনদের কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না। বাবা মা হারানো দুই শিশুর করুন আর্তনাদে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। সান্তনা দেবার কোন ভাষাই খোঁজে পাচ্ছেন না তারা।

উল্লেখ্য, সোমবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে গোলাপগঞ্জের দম্পতি কায়ছান চৌধুরী স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বিমানবন্দর এলাকায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় মালনীছড়া চা বাগানের সামনে তাদের অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি তেলবাহী লরি। এতে গুরুতর আহত হন কায়ছান চৌধুরী, তার স্ত্রী রাফিয়া সুলতানা চৌধুরী, দুই সন্তান মেহনাজ চৌধুরী (৮) ও শেহজাদ আহমদ চৌধুরী (৫) এবং অটোরিকশা চালক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আনার পর কায়ছান ও তার স্ত্রী মারা যান। তবে দুই সন্তান ও চালক শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

নিহত কায়ছান আহমদ চৌধুরী (৪২) উপজেলার ভাদেশ্বর পশ্চিমভাগ বাখরপুর গ্রামের মরহুম মঈন মিয়া চৌধুরীর ছেলে। তিনি স্ব পরিবারে সিলেট নগরীর কাষ্টঘর এলাকার ভাদেশ্বর হাউজে বসবাস করে আসছিলেন। এদিকে কায়ছান ইসলাম চৌধুরী সম্প্রতি আমেরিকার ভিসা পেয়েছিলেন । এ মাসেই কয়েকদিন পরই স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় স্বপরিবারে পাড়ি দেয়ার কথা ছিল কায়ছান ইসলাম চৌধুরীর। আমেরিকার ভিসা পাওয়ার আনন্দ উদযাপনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন কায়ছান। কিন্তু এই বেড়ানোই তার শেষ বেড়ানো কে জানত।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)