ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২২ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

ঢাকা, দুর্ঘটনা সংবাদ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৬ বছরের মুন্নির চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন মেম্বার সোহাগ

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৬ বছরের মুন্নির চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন মেম্বার সোহাগ

খোরশেদ আলম, সাভার,নিরাপদনিউজ: ৬ বছরের মুন্নি,  রাস্তা পারাপারের সময় এক সপ্তাহ আগে একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সার ধাক্কায় মাথায় আঘাত পায়। চিকিৎসার জন্য দ্রুত ভর্তি করা হয় সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসকগন শিশু মুন্নির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র ( আইসিও) তে ভর্তি করেন। হাসপাতালের চিকিৎসকগন তার চিকিৎসার খরচের কথা জানান শিশুটির  দিনমজুর পিতা ফারুককে। চিকিৎসার ব্যয় তিন- চার লাখ টাকার কথা শুনে হতভম্ব হয়ে অসহায় পিতা ফারক মিয়া নীরবে চোখের পানি ফেলে আকুতির স্বরে চিকিৎসকদের বলেন আমি গরীব, দিনমজুরের কাজ করি। এতো টাকা কোথায় পাবো? মেয়ের চিকিৎসা খরচের চিন্তায় দিশেহারা পিতার কথা ভেবে একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। এই পোস্টটি নজরে আসে আশুলিয়া পাথালিয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য শফিউল আলম সোহাগের। তিনি দিনমজুর পিতার আহত শিশু মুন্নির সমস্ত চিকিৎসার খরচ বহনে এগিয়ে আসেন। তার এ-ই ঘোষনার কথা শুনে অসহায় এক পিতার মুখে ফিরে এলো হাসি। খুশিতে কেঁদে জড়িয়ে ধরলেন জনদরদী জননেতা শফিউল আলম সোহাগ কে।

দিনমজুর ফারুকের অনুভুতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেক জনপ্রতিনিধি সোহাগ ভাইয়ের মতো হলে সত্যিই জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিনত গোটা দেশ। সোহাগ ভাইয়ের জন্য আজ আমি আমার মেয়ের মুখে বাবা ডাক শুনতে পাচ্ছি। তিনি একজন অসহায় পিতাকে অর্থ দিয়েই সহায়তা করেননি,  মানুষের মধ্যে মানবতাবোধ জাগ্রত করতে নজির স্থাপন করেছেন। আমি তার দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

মানবতার ফেরিওয়ালা ইউপি সদস্য শফিউল আলম সোহাগের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নগন্য একজন মানুষ, জনগনের সেবক ও জনপ্রতিনিধি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশু মুন্নির বিষয়ে প্রথমে আমি জানতে পারলাম। একজন অসহায় দরিদ্র পিতার সন্তানের চিকিৎসা টাকার জন্য হবে না শুনে আমি মর্মাহত হলাম। তারপর মেয়েটির পিতার সন্ধান নিতে চলে যাই এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে গিয়ে আহত মুন্নির পিতাকে নিয়ে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তার সাথে আলোচনার পরে তার চিকিৎসার যাবতীয় খরচ আমি বহন করবো ঘোষনা দেই। আমার মুখে এ-ই কথা শুনে দিনমজুর পিতা আমাকে জড়িয়ে ধরে আনন্দে কাঁদতে থাকে। আমি জনপ্রতিনিধি হয়ে এক পিতার মুখে হাসি ফোটাতে পেরে সত্যিই নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করছি। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের অসহায়- দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসায় এগিয়ে আসারও আহ্বান জানাচ্ছি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)