ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৭

ঢাকা সোমবার, ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৯ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

উপসম্পাদকীয় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমাদের যা করণীয়

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমাদের যা করণীয়

সড়ক দুর্ঘটনা

মীর আব্দুল আলীম, নিরাপদ নিউজ : এইতো সেদিন (১২ সেপ্টেম্বর) মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী তাসলিমা আক্তার তৃষার প্রাণ নির্দয়ভাবে কেড়ে নিল বেপরোয়া গতির বাস। দেশের সবকটি পত্রিকায় ফলাও করে সে সংবাদ ছাপা হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর সম্পাদকীয়ও লেখা হয়েছে ইত্তেফাকে। সড়ক দুঘর্টনা নিয়ে প্রতিনিয়তই এভাবে সম্পাদকীয়, উপ-সম্পাদকীয় আর সংবাদ প্রকাশ করে আমাদের পত্রিকাগুলো, কিন্তু কী হয় তাতে? কার কথা কে শোনে? চালক, হেলপার, জনগণ সচেতন না হলে দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

এভাবে চলে না। এতো লাশ দেখতে দেখতে আমরা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। দয়া করে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আপনারা যারা যেখানে দায়িত্বে আছেন তারা যার যার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করুন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ কিভাবে করা যায় তা নিয়ে ভাবুন। পার্শ্ববর্তী দেশ নেপালে সড়ক দুর্ঘটনা হয় অনেক। এদের অধিকাংশ রাস্তা পাহাড় কেটে তৈরি করা। যখনই নেপালে গিয়েছি, তখনই আল্লাহর নাম জপতে জপতে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়েছে। বাসের জানালা দিয়ে নিচে তাকালে মাথা চক্কর দিয়ে ওঠে। সরু পাহাড়ের রাস্তায় গাড়ি চালায় সেখানকার ড্রাইভাররা। প্রকৃতিগত কারণেই সেখানে দুর্ঘটনা বেশি ঘটে।  সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু এখন কোনো বিষয়ই নয়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যে পরিমাণ মানুষ মারা যায় তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মানুষ মরে সড়ক দুর্ঘটনায়। পথে-ঘাটে মানুষ মরে গাড়ির চাপায়, কোথাও কোনো টুঁ শব্দটিও নেই। সবার মুখে যেন কুলুপ আঁটা। প্রতিবাদ নেই, তাই বোধ হয় প্রতিকারও নেই। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোধে দেশে বিশেষায়িত বাহিনী গঠন করা হয় কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।

সৌদি আরব, চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কোরিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশেই সুশৃঙ্খল অবস্থা স্বচক্ষে লক্ষ করেছি। ভাবি, আমরা কেন ওদের কাছ থেকে শিখছি না? আমাদের রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন তারা তো এসব দেশে যান। রাষ্ট্রের খরচায় তারা বিদেশে আসেন। প্রশ্ন হলো, তারা কি এসব দেখেন না? মন্দ ভাগ্য আমাদের। তারা শেখেন না; আমাদেরও শেখান না। শিখলে আর শেখালে আমাদের রাষ্ট্রের পরিবহন ব্যবস্থাও এমন হতো না কখনই। আইন করলেই হয় না। আইন প্রয়োগ করে শেখাতে হয়। অনেক দেশে যারা আইন মানত না তাদের কঠোর শাস্তি দিয়ে সভ্য করা হয়েছে। সভ্য হতে বাধ্য করে তবেই সভ্য করা হয়েছে। আর একবার কেউ সভ্য হয়ে গেলে, অসভ্য হতে বিবেকে বাধে। আমাদের দেশের চালক এবং আইন না মানা মানুষগুলোকেও প্রয়োজনে আইন মানতে বাধ্য করতে হবে।

সর্বশেষ এটাই বলবো, বহির্বিশ্বের দেশগুলোর কাছ থেকে কিভাবে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যায়, সে শিক্ষা আমাদের গ্রহণ করতে হবে। তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে ট্রাফিক আইন মানার বিষয়টিতেও আমরা শিক্ষা নিতে পারি। আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও আমাদের চেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর কাছ থেকে গ্রহণ করে আমরা নিজেদের পরিবর্তন করতে পারি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)