ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট নভেম্বর ৩০, ২০১৪

ঢাকা শুক্রবার, ৫ শ্রাবণ, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৬ জিলক্বদ, ১৪৪০

নিসচা সংবাদ, লিড নিউজ, সড়ক সংবাদ সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চাই সমন্বিত পদক্ষেপ।। ‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দায়িত্ব কার’ গোলটেবিলে বক্তারা

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চাই সমন্বিত পদক্ষেপ।। ‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দায়িত্ব কার’ গোলটেবিলে বক্তারা

'সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দায়িত্ব কার' গোলটেবিলে বক্তারা

‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দায়িত্ব কার’ গোলটেবিলে বক্তারা

নিরাপদ নিউজ ডেস্ক ঃ প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ ক্ষয়ক্ষতির জন্য এককভাবে কেউ দায়ী নয়। এক্ষেত্রে কাউকে প্রতিপক্ষ দাঁড় করিয়েও সমস্যার সমাধান হবে না। এ ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি কমাতে সকলের সমন্বিত প্রচষ্টোর প্রয়োজন। শনিবার যুগান্তরের সম্মেলন কক্ষে ‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দায়িত্ব কার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেছেন। যুগান্তর-যমুনা টিভি এবং নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) যৌথভাবে এ গোল বৈঠকের আয়োজন করে। গোল টেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সভাপতিত্ব করেন যুগান্তরের প্রকাশক এবং সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সালমা ইসলাম এমপি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দৈনিক যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম। আরো বক্তব্য রাখেন নিরাপদ সড়ক চাই এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপ-সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রতন। আলোচনায় অংশ নিয়ে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিত করেছি। এ সড়কে মাত্র ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১টি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা ঠিক করা হয়েছে। এতে দুর্ঘটনা ৯৫ ভাগ কমে এসেছে। অনেক যুদ্ধ করে বাকি ১শত ৪৪টি স্পটের জন্য ১৬৫ কোটি টাকা একনেকে অনুমোদন করানো হয়েছে। এগুলো সরাতে জানুয়ারি থেকে টেন্ডার আহবান করা হবে। রোড সেফটির জন্য ইউএনডিপির সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ চুক্তি অনুযায়ী ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনাকে অর্ধেকে নামিয়ে আনার। ইউএনডিপি এ কাজে অর্থসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। তিনি আরও বলেন, বুয়েটের অনুসন্ধান অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকাগুলো (ব্ল্যাক স্পট) ঠিক করার জন্য আমি দায়িত্ব নেয়ার অনেক আগে থেকেই বাজেটে একটা থোক বরাদ্দ ছিল। আমি অনেক যুদ্ধ করেছি। অনেক সময় অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প সহজেই একনেকে পাস হয়েছে কিন্তু এরকম একটি প্রকল্পের অর্থ ছাড় করাতে আমাকে তিন বছর সময় লেগেছে। গত ১০ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত তথ্য তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই সময়ে ৬ হাজার ১শ ৫০টি ফিটনেসবিহিন গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, জরিমানা হয়েছে ৪৭ লাখ ৫০ হাজার, ডাম্পিং হয়েছে ২৬২টি গাড়ি, ৪৯ জনকে জেলে যেতে হয়েছে। এই ১৭ দিনে মারা গেছেন ২৪জন। এটা তুলনামূলকভাবে মৃত্যুহার কম বলেও মন্ত্রী দাবি করেন। সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে যুগান্তর ও যমুনা টিভি সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সে জন্যই আজকের এই গোলটেবিল আয়োজন করা হয়েছে। এখানে সবাই যে মতামত তুলে ধরবে, আমরা তা প্রকাশ করে মানুষকে সচেতন করে থাকি। তিনি আরও বলেন, অনেক সময় পয়সা খেয়ে লাইসেন্স তুলে দেয়া হচ্ছে অনেক তরুণদের হাতে। কিন্তু দক্ষ অভিজ্ঞ ও প্রবীণ ব্যক্তিদেরকে লাইসেন্স দেয়া হয় না। এটা করলে সরকার যত আইনই করুক না কেন, কোন কাজে আসবে না। এজন্য সচেতন হতে হবে। নিজেরা সচেতন না হলে দুর্ঘটনাও এড়ানো সম্ভব হবে না। স্বাগত বক্তব্যে যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা সম্পৃক্ত হয় তবে দুর্ঘটনা একেবারে হয়তো বন্ধ হবে না, তবে অনেকটা কমে আসবে।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার দায়িত্ব সকলের। তবে সরকারের দায়-দায়িত্ব বেশি। দুর্ঘটনার কারণে বছরে জিডিপির এক দশমিক পাঁচ ভাগ থেকে দুই ভাগ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সকল বিভাগ সমন্বিত পদক্ষেপ নিলে সড়কের মড়ক দূর করতে পারবো। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি বিভাগ তৈরি করা গেলে অন্যান্য বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর হবে। অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, বিআরটিএ থেকে হাস্যকর প্রক্রিয়ায় গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট দেয়া হয়। একটি গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষার জন্য ৪১টি আইটেম পরীক্ষা করতে হয়। অথচ মালিক আর গাড়ি দেখে বিআরটিএ’র পরিদর্শক ফিটনেস সার্টিফিকেট দিয়ে দিচ্ছে। এটা করলে নিরাপদ সড়ক কখনওই পাবো না। ফিটনেস দেয়ার বর্তমান প্রক্রিয়াটা বিজ্ঞানভিত্তিক নয় দাবি করে তা সংস্কারের দাবি জানান তিনি। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার আব্দুল জলিল বলেন, পুলিশের তথ্য অনুযায়ি দেশের সড়ক দুর্ঘটনার ৯০ ভাগের কারণ হচ্ছে ওভারস্পিডিং বা অতিগতি। এ কারণে ছুটির দিনে দুর্ঘটনা বেশি হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার দায় সকলের। কাউকে প্রতিপক্ষ করে এ অবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হবে না। রাস্তার বাঁকের কারণেঁ দুর্ঘটনা হয়, নসিমন-করিমনের কারণেও দুর্ঘটনা হয়। শুধু চালকের ওপর দায় চাঁপিয়ে দিলে চলবে না। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, চাহিদা থাকা সত্ত্বেও গণপরিবহনের ভয়াবহ সংকট চলছে। এ কারনে লক্কর-ঝক্কর বাসে উঠতে যাত্রীরা বাধ্য হচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, পথচারীদের ফুটপাথ ও ফুটওভারব্রীজ ব্যবহারে বাধ্য করা হচ্ছে। অথচ শত শত পয়েন্টে জেব্রা ক্রসিং নেই। অনেক স্থানে জেব্রা ক্রসিং আছে কিন্তু গাড়ি ওই ক্রসিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকায় যাত্রীরা ব্যবহার করতে পারেন না। ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বেশিরভাগ দুর্ঘটনার জন্য চালকদের দায়ি করা হলেও ৫ বছর আগে চালক তৈরির জন্য সরকার একটি প্রকল্প নিয়েছিল। পরে ওই প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)