ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ২২ মিনিট ২৬ সেকেন্ড

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

লিড নিউজ, সাক্ষাৎকার সড়ক দুর্ঘটনা শুধু ভাগ্যের লেখা না, এটা মানুষের দোষে, অব্যবস্থাপনার দোষেই হচ্ছে: ইলিয়াস কাঞ্চন

সড়ক দুর্ঘটনা শুধু ভাগ্যের লেখা না, এটা মানুষের দোষে, অব্যবস্থাপনার দোষেই হচ্ছে: ইলিয়াস কাঞ্চন

সড়ক দুর্ঘটনা শুধু ভাগ্যের লেখা না, এটা মানুষের দোষে, অব্যবস্থাপনার দোষেই হচ্ছে

সড়ক দুর্ঘটনা শুধু ভাগ্যের লেখা না, এটা মানুষের দোষে, অব্যবস্থাপনার দোষেই হচ্ছে

ফাজানা তুশী, ২১ অক্টোবর, ২০১৬, নিরাপদনিউজ : প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কে মৃত্যুর মিছিল দিন দিন যেন বেড়েই চলেছে। দুর্ঘটনা রোধে তেমন কোনো উদ্যোগ ও প্রতিকার চোখে পড়ছে না। ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। এ দিবসকে সামনে রেখে নিসচা চেয়ারম্যান ও চলচ্চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের দেয়া এক সাক্ষাৎকার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। তিনি সড়ক দুর্ঘটনা না কমার কারণ, এর জন্য কারা দায়ী, এর প্রতিকারই বা কি হতে পারে এসব বিষয়ে কথা বলেছেন।

আপনি সুদীর্ঘ সময় ধরে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সাথে যুক্ত আপনার মতে সড়কে মৃত্যুর মিছিল কেন বন্ধ হচ্ছে না?
আপনার যদি কোনো অসুখ হয়, তখন আপনি যদি ওষুধ না খান তাহলে অসুখ যাবে না বরং আরো বাড়বে। সড়ক দুর্ঘটনা একটা অসুখ হিসেবে যদি আমরা ধরি, তাহলে এটার ডায়াগনোসিস করা লাগবে যে, এটাকে ঠিক করার জন্য কি কি করা দরকার। আমাদের পক্ষ থেকে সরকারকে সবকিছু বলা আছে, ‘যে বা যারা চালকদের ট্রেনিং করান, লাইসেন্স ঠিকভাবে করান, বিআরটিএ এর দক্ষতা বৃদ্ধি করান, তারা যাতে গাড়ির ফিটনেস ঠিকমতো তদারকি করতে পারে’। তারপর জনগণকে সচেতন করার বিষয়টি, সেখানেও তো অর্থ ব্যয় করতে হবে। বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণকে বুঝাতে হবে, তারা যেন পথ চলতে সতর্ক হয়, এই কাজগুলো তো সরকারকে করতে হবে।

আর অন্য কারণ?
তারপরে আমাদের দেশের রাজনীতির একটা সমস্যা আছে। এ দেশে নসিমন-করিমন এগুলো বিআরটিএ নিয়ন্ত্রণ করে না। এই গাড়িগুলো স্থানীয় যারা রাজনীতি করে, সরকারি দলের লোকেরা বা যখন যে সরকার থাকে সেই দলের লোকেদের মাধ্যমে এই গাড়িগুলো চলে। এই নসিমন-করিমন এর জন্য অনেক দুর্ঘটনা ঘটে।

তারপরে, রাস্তার পাশে যে অবকাঠামোগুলো হয় এবং যে সমস্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডগুলো হয়, ধান-পাট শুকায়, গরু-ছাগল বেঁধে রাখে, এগুলো তো সচেতন করার দায়িত্ব ওই এলাকার মেম্বর-চেয়ারম্যান কিংবা এমপিরা যারা আছেন তাদের। তারা যদি তাদের এলাকার লোকগুলোকে বলতো, বুঝাতো তাহলেও তো কিছুটা উপকার হতো। তাদের এলাকার মানুষকে বুঝানোর দায়িত্ব তো তাদের, অন্য এলাকার লোক গিয়ে বুঝালে তো শুনবে না। তারা রাজনীতি করে কিন্তু এই কাজগুলো করছে না। যদি না করে তাহলে দুর্ঘটনা কমবে কি করে।

এরপর, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তারাও তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছে না এবং অনেক সময় করতেও পারছে না লোকাল নেতাদের কারণে। এই সমস্ত বিষয়গুলো রেখে কিভাবে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে, এটা কিভাবে আশা করা যায়।

সড়ক দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অন্যান্য দেশের সাথে আমাদের দেশের তুলনা করা হলে, আপনার মন্তব্য কি?
জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি-এই তিন দেশ মিলে জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি। কিন্তু সেই এক একটা দেশ আয়তনের দিক থেকে অনেক বড়। আর আমাদের ছোট আয়তনের একটা দেশ, এই দেশের জনসংখ্যা ওই তিন দেশের জনসংখ্যার সমান। এই জনসংখ্যাকে কন্ট্রোল করার মতো কোনো সচেতনতা আমাদের দেশের সরকার করে না। যে সময়ে যে সরকার ক্ষমতায় আসে, তারা আইন মানার যে সংস্কৃতি সেটাই তো গড়ে তোলে না। এত কিছু সমস্যা রেখে দুর্ঘটনা কীভাবে কমবে।

সড়ক নির্মাণ করার জন্য আমাদের দেশে যারা সরকারে থাকে তারা তো উৎসাহী হয়, কারণ সড়ক বানালে পরে সেখানে তাদের দুই পয়সা কামানোর সুযোগ থাকে। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য তো কোনো বাজেট নাই, তাই সেখানে তাদের কোনো ইনকাম নাই। এ ব্যাপারে  তাই তারা উৎসাহী না।

এই সমস্ত জিনিসগুলো সরকারকে বার বার বলা হয়েছে কিন্তু কোনো কাজ কি হয়েছে? কোনো এমপি, মেম্বার, চেয়ারম্যানরা কি কোনো দায়িত্ব নিয়েছে তার এলাকার? বরং নসিমন-করিমন, ইজিবাইক, অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত গাড়িগুলো তারাই বরঞ্চ পারমিশন দিচ্ছে, আর এসব রাস্তার মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। পৃথিবীতে এরকমভাবে রাস্তাকেন্দ্রিক এমন বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড আর কোথাও নেই, যেটা আমাদের দেশে আছে।

দুর্ঘটনায় চালকরা কতটা দায়ী বলে মনে করেন?
এসব সমস্যা দূর না করে শুধুমাত্র চালকদের দোষারোপ করে লাভ নাই। চালকদের প্রশিক্ষিত করার জন্য কখনো কোনো প্রোগ্রাম কেউই তো নেয় নাই। যারা মালিক পক্ষ ব্যবসা করছে তারাও তো চালকদের জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেয় নাই। চালকরা গরীব, অশিক্ষিত মানুষ কোনরকমে শিখে রাস্তায় গাড়ি চালাতে আসে। নিজেরাও মরছে, মানুষও মারছে, গাড়িও চলছে, আমরাও চলছি। এছাড়া যাত্রী যারা, পথচারী যারা তারাও সচেতন না। এসব ব্যাপার ঠিক না হলে সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ হবে না।

২৩ বছর ধরে আমাদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের কারণে মানুষ বুঝতে পেরেছে যে, সড়ক দুর্ঘটনা শুধু ভাগ্যের লেখা না, এটা মানুষের দোষে, অব্যবস্থাপনার দোষেই হচ্ছে। আগে তো মানুষ এটাও বুঝতো না।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)