আপডেট ৫০ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ৪ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৯ মুহাররম, ১৪৪১

জাতীয়, লিড নিউজ, সড়ক সংবাদ সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ১১১ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত

সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ১১১ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত

নিরাপদ নিউজ: আজ বৃহস্পতিবার ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বনানী বিআরটিএ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৭তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ১১১ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নে টাস্কফোর্স গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। সভা শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সভাপতি করে শক্তিশালী এই টাস্কফোর্স করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ টাস্কফোর্স কাজ শুরু করবে।
সাংবাদিকদের সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, যে কোন কিছু শুধু উদ্যোগ নিলেই হবে না, বাস্তবায়ন করতে হবে। মহাসড়কে চালকের জন্য বিশ্রামাগার তৈরির প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে। এছাড়া বহুলপ্রতিক্ষীত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করতে এডিবি অর্থ দেবে। সেইসাথে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আলাদা সার্ভিস লেন তৈরি করতে প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ অন্য মহাসড়ক যেহেতু চারলেন নয়, তাই চারলেন করার সময় সার্ভিস লেনের পরিকল্পনা করেই তৈরি করা হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সড়কমন্ত্রী বলেন, আমরা সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারবো না, একথা ঠিক নয়। আমরা ইতোমধ্যে বহুক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও আইন বাস্তবায়ন করেছি। তাই আমরা সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাবোই।
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সবার মতামতের ভিত্তিতে সড়ক পরিবহন আইন বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এ ব্যাপারে সবাইকে জানানো হবে।
পুলিশের আইজি জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ট্রাফিক আইন না মানার সংস্কৃতি পুলিশ দিয়ে কন্ট্রোল সম্ভব নয়। আইন মানতে হবে। মানুষকে আইন মানতে সচেতন করতে হবে। তাহলেই সব সমস্যা সমাধান হবে।
ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডাম্পিং স্টেশন নেই। গাড়ি জব্দ করে রাখারই জায়গা নেই। এটা নির্মাণ করলে নিয়ম না মানা গাড়িকে জব্দ করা গেলে বিশৃঙ্খলা কমে আসবে। ঢাকা শহরে বিশাল বিশাল ভবন, অথচ পার্কিংয়ের জায়গা নেই। পার্কিং ছাড়া ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়া উচিত হবে না। ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, আইন না মানার সংস্কৃতির কারণে সড়কে বিশৃঙ্খলা। ফলে সেবা সংস্থার পরিবর্তে ডিএমপি রাজস্ব আদায়ের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আমরা চাই না ডিএমপি রাজস্ব আদায়ের প্রতিষ্ঠান হোক, একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হোক এটা চাই।
হাইওয়ে পুলিশের এডিশনাল আইজি ব্যারিষ্টার মাহবুব বলেন, হাইওয়েতে নসিমন-করিমন বন্ধের বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ একা কিছু করতে পারছেনা কারণ হাইওয়েগুলোর কিছু কিছু অংশ জেলার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে থাকে। তখন আমাদের কিছু করার থাকে না। যদি পুরো হাইওয়ের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে থাকে তাহলে আমরা অভিযান চালাতে পারবো এবং এসব বন্ধ করতে পারবো।
সভায় অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি একাব্বর হোসেন, সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান, পরিবহন মালিক নেতা ও সংসদ সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গা, পুলিশের আইজি জাবেদ পাটোয়ারী, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম, রেল সচিব মোফাজ্জেল হোসেন, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, নিরাপদ সড়ক চাইয়ের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের প্রতিনিধি হিসেবে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল মইন জয় প্রমুখ। সেইসাতে সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা, মালিক ও পরিবহন শ্রমিক প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে নিরাপদ সড়ক চাইও থাকবে বলে জানা গেছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)