ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট এপ্রিল ২৩, ২০১৮

ঢাকা রবিবার, ১১ ভাদ্র, ১৪২৬ , শরৎকাল, ২৪ জিলহজ্জ, ১৪৪০

সম্পাদকীয় সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কবে?

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কবে?

নিরাপদ নিউজ :  সবকিছু ছাপিয়ে ইদানীং সড়ক দুর্ঘটনা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার চিত্র ভয়াবহ। ঢাকায় দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারিয়ে কলেজছাত্র রাজীবের মৃত্যুর পর সপ্তাহ পার না হতেই বাসের চাপায় পা হারিয়েছেন আরেক নারী। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ি ফুটওভার ব্রিজের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত নারীকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে ৬ এপ্রিল ২০১৮ বাসচাপায় মেরুদন্ড- ভেঙে গেছে গৃহবধূ আয়েশা খাতুনের। তিনি আর কখনোই দাঁড়াতে পারবেন না। গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে হাত হারিয়েছেন খালিদ হাসান হৃদয়। গোপালগঞ্জ বেদগ্রাম এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগে চট্টগ্রামের বিবিএর ছাত্র মোজাম্মেল হক কাঞ্চন রাজধানীর মালিবাগে রাস্তা পার হতে গিয়ে দুই বাসের মধ্যে চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার দুপুরে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ফুলতলা সড়কে বেপরোয়া গতির একটি বাস শিশু সুমিকে ধাক্কা দিলে শরীর থেকে একটি হাত বিচ্ছিন হয়ে যায়। শিশু বর্তমানে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। প্রতিদিনের এসব দুর্ঘটনায় কাউকে না কাউকে বরণ করে নিতে হচ্ছে পঙ্গুত্ব ও দুর্বিষহ জীবন। চালকের মন্তব্য, কেউ বাসের নিচে পড়ে মারা গেলে আমার কী? কী সাংঘাতিক কথা। এরা কি মানুষ? চালকদের খাময়োলিপনার কারণে কত মানুষের স্বপ্ন যে ধূলিসাৎ হয়ে গেল, এর দায় কে নেবে। আমাদের প্রশ্ন, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার কি অবসান হবে না?

কেবল রাজধানী ঢাকাতেই নয়, প্রায় প্রতিদিনই সারাদেশে মানুষ মারা যাচ্ছে অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে। কিন্তু ভয়াবহ এ দুর্ঘটনাগুলো কেন হচ্ছে কারা এর জন্য দায়ী, তা শনাক্ত করে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মনোযোগ ও তৎপরতা খুব একটা চোখে পড়ছে না। এ পর্যন্ত কজন বাস চালকের শাস্তি হয়েছে সেটাই হচ্ছে বড় প্রশ্ন। অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে রাজীবের করুণ মৃত্যু কোনো কাজে লাগবে না। কাজে লাগবে না আয়েশা খাতুন হৃদয়দের করুণ অবস্থাও। হদুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণেই এর পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়ার কারণেই এ দেশের মানুষ আপনজন হারিয়ে চোখের পানি ঝরাচ্ছেন আর নিঃস্ব হচ্ছে অসংখ্য পরিবার। অথচ কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নিলে দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব। আর এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী মূলত অবৈধ চালক ও চালকের অসতর্কতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন।

এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, গত ১৫ বছরে সড়কপথে ৫৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ৭০ হাজার মামলাও হয়েছে বিভিন্ন দুর্ঘটনায়। কিন্তু সাজা হয়েছে মাত্র কয়েকটিতে। অন্যদিকে রাজধানীতে বছরে ১৩৫ জনের প্রাণহানি ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনায়। ৩ বছরে ৬ জন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন রাজধানীতে।

এসব মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় হতাহতদের সমবেদনা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। মানুষের জীবন যে কত তুচ্ছ তা এসব ঘটনার দ্বারা আবারও প্রমাণিত হলো। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত্মমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দেশবাসীকে ঘন ঘন দুর্ঘটনা প্রত্যক্ষ করা লাগত না। আর এতপ্রাণও ক্ষয় হতো না। আসলে সড়ক অব্যবস্থাপনা, অদক্ষ ও অসচেতন চালক এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘিত হওয়ার কারণেই মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার কমাতে হলে দোষীদের তাৎক্ষণিক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকেও সড়কপথে ভ্রমণ ও রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি দক্ষ ও শিক্ষিত চালকের সংখ্যা বাড়াতে হবে। পরিকল্পিত ও সফল উদ্যোগই কেবল পারে রাজীব, হৃদয় ও আয়েশা খাতুনের মতো এমন মারাত্মক দুর্ঘটনা রোধ করতে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)