ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১ মিনিট ৫২ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৯ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

সড়ক সংবাদ সড়ক পথ যেন এখন হয়েছে এদেশের লাশের পথ!!!

সড়ক পথ যেন এখন হয়েছে এদেশের লাশের পথ!!!

s08
নিরাপদ নিউজঃ সড়ক পথ যেন এখন হয়েছে এদেশের লাশের পথ। নেই প্রশস্ত রোড প্রশিক্ষণ ছাড়ায় বেপরোয়া চালক বিস্তীর্ণ যানবাহন নিয়ে বীরদর্পে ছুটে চলে সড়ক পথে। এসব চালকদের অসর্তকতা ও বেপরোয়া ভাবে গাড়ী চালানোর ফলে সমগ্রহ দেশে প্রতিনিয়তই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। সম্প্রতি ঢাকা মেট্রো পলিটন ট্রাফিক পুলিশের এক জরিপে বলা হয়েছে প্রায় ৯০ ভাগ সড়ক দূর্ঘটনার কারন হচ্ছে চালকদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালানো। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা হল দুটি গাড়ীর মুখোমুখী সংঘর্ষ। এতে প্রানহানির ঘটনাও অনেক বেশী ঘটে। এসব মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার স্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা হতাশ হয়ে যায়। কি করবে সহজে বুঝে উঠতে পারেনা। আর এরই মাঝে বেশ কিছু ব্যক্তিরা ছুটে আসে যারা হতাহতদের উদ্ধার না করে লুটপাট করতে ব্যস্ত থাকেন! আবার অনেকেই ছুটে এসে হতাহতদের উদ্ধার করে। সে সময় সংর্ঘষ কবলিত গাড়ীর ভেতর থেকে ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত আহত রুগীদের গাড়ীর চাপা থেকে টেনে হিছড়ে উদ্ধার করা হয়। আবার অনেক হতাহতদের শক্তিশালী সরঞ্জামেরঅভাবে গাড়ীর চ্যাকা থেকে তাতক্ষনিক উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। শুধু শুনতে হয় তাদের আত্মচিৎকার ও বাঁচার আকুতি।
তখন গাড়ীতে দেখা যায় মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায় দূর্ঘটনা স্পট। আবার যে সব হতাহত রুগীদের উদ্ধার করা হয় সে মুহুর্তে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাওয়া যায় না কোন যানবাহন। কারন এক শ্রেনীর বিশৃঙ্খলকারী বিক্ষুব্ধ জনতা ওই সড়ক দুর্ঘটনা কবলিত এলাকা দিয়ে আসা অন্য সব যানবাহন অযথাই ভাংচুড় ও অগ্নি সংযোগ চালায়। ততক্ষণে আহত উদ্ধার হওয়া রুগীদের হাসপাতালে না নিয়ে যাওয়ার ফলে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে সেখানেই তাদের লাশ হতে হয়। আবার রাস্তার পাশেই পড়ে থাকে শাড়ী শাড়ী উদ্ধার করা লাশ। এ লাশ গুলোর মধ্যে কেও বা আবার চলে যায় অজ্ঞাত নামা হয়ে বেওয়ারিশ কবর স্থানে কেও বা মর্গে। তাই উন্নত দেশ গুলোর মত সড়ক দূর্ঘটনা স্থলে আমরাও চাই আধুনিক স্টিং সরঞ্জাম এ্যাক্সিডেন্ট সার্ভিসকর্মী ও ডাক্তার। তবে এধরনের মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিকদেও সচেতন হওয়া দরকার। দক্ষতা ছাড়া, মাদক আসক্ত বেপরোয়া চালকদের হাতে তাদের গাড়ীর চাবি তুলে না দেওয়া।
এসব চালকদের হাতে চাবি তুলে দেওয়া মানে হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া। পাশাপাশি সড়ক দূর্ঘটনা রোধে প্রশাসন কেও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য সড়ক দূর্ঘটনা দায়ি চালকদের তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সর্বোচ্চো সাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আজ দুঃখজনক ভাবে মনে পড়ে গত বছরের ২২ শে অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক চাই দিবসের ২দিন আগে স্বরন কালের একটি ভয়াবহ মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনার কথা। নাটোর বড়াইগ্রামে বিপরীত মুখী দুটি বাসের সংর্ঘষে প্রায় ৩৪ জনের প্রানহানির ঘটনা ঘটেছিল। এঘটনার পরপরেই পুরো প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছিল। বড়াইগ্রামের দূর্ঘটনাসহ অতীতের ঘটে যাওয়া মারাত্মক সব সড়ক দূর্ঘটনা গুলোর প্রকৃত কারন উদঘাটনের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ব্যাখা বিশ্লেষণ এবং শুপারিশের আলোকে সড়ক দূর্ঘটনা কমিয়ে আনার জন্য নানানরকম পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছিল। যার মধ্যে লাইসেন্স ও ফিটনেস বিহীন অবৈধ যানবাহনসহ চালকদের নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বাংলাদেশে নেই প্রশস্ত নিরাপদ সড়ক তবুও জনসংখ্যার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গনপরিবহনের সংখ্যাও। সম্প্রতি দেয়া নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের এক বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে গত ২০১৪ সালে সড়ক দূর্ঘটনায় প্রানহানি ঘটেছে প্রায় ৬৫৮২জনের এবং আহত হয়েছে ১০৭৭০ জন! আমাদের সরকারের কাছে প্রানের দাবি সড়ক দূর্ঘটনা স্থলে দেওয়া হোক আধুনিক সরঞ্জাম, এ্যাক্সিডেন্ট সার্ভিসকর্মী ও ডাক্তার। এবং এদেশের গনপরিবহনের সংখ্যা কমিয়ে নিরাপদ সড়ক বাড়ানো। আর যেন সড়ক দূর্ঘটনায় অকালে না ঝড়ে যায় কোন মায়ের সন্তানের তরতাজা প্রান। (পাঠক ও ‘নিসচা’কর্মী শিপন, মহাস্থান)

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)