ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ২ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৯ আষাঢ়, ১৪২৫ , বর্ষাকাল, ৮ শাওয়াল, ১৪৩৯

চট্টগ্রাম, সড়ক সংবাদ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: ঈদগাঁওয়ে ৩ ইউনিয়নের ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি!

সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: ঈদগাঁওয়ে ৩ ইউনিয়নের ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি!

সেলিম উদ্দিন, নিরাপদনিউজ:  ত্রিমুখি সংকটে পড়েছে কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও-ইসলামাবাদ-পোকখালীর ৩০ হাজার মানুষ। গত রবিবার দুপুরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ঈদগাঁও নদীর পানি বেড়ে গিয়ে বিপদ সীমার উপরে প্রবাহিত হয়। এতে ইসলামাবাদের কবি নুরুল হুদা সড়কের গার্লস্কুল সংলগ্ন স্থান ভেঙ্গে চলাচল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে ওই রাস্তা দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই দিনে বাঁশঘাটার কাঠের সেঁতুটিও ভেঙ্গে গেলে নদীও পার হতে পারছে না সাধারন মানুষ।

রাস্তা-ব্রিজ ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে নদী পার হতে পারছে না কেউ। উভয় সংকটের কারণে টেকপাড়া, পাঁহাশিয়া খালী, বোয়াল খালী, বোদ্দা পাড়া, ইউছুপেরখীল, হরিপুর ও বেড়াপাড়ার লোকজন এক প্রকার পানি বন্দি জিবন যাপন করছে। পবিত্র রমজান মাসে লাইলাতুল কদর ও ঈদের সদাই করতে আসা লোকজন বাড়ি থেকেও বের হতে পারছে না। ভাঙা সড়ক ও তলিয়া যাওয়া ব্রিজের কারণে যানবাহন নিয়ে কোথাও বের হতে না পারায় নানা উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে ৩ ইউনিয়নের বাসিন্দা।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, গত তিনদিন ধরে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট বন্যায় বৃহৎ বানিজ্যিক কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজারে অর্ধশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্টানে পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। এছাড়াও বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ঈদগাঁও বাশঁঘাটা হয়ে ইসলামাবাদ যাতায়াতের দীর্ঘদিনের একমাত্র কাঠের সেতুটি। সেখানে বর্তমানে কর্মমুখী লোকজন নদীর এপার ওপার হচ্ছে নৌকা দিয়ে।

সোমবার সকালে ভাঙ্গনকৃত এলাকা পরিদর্শনকালে প্রত্যাক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ব্যস্তবহুল ঈদগাঁও বাজারে গত কয়েকদিন ধরে প্রচন্ড বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে আসা পাহাড়ী ঢলের পানিতে বাশঁঘাটা সড়ক, কাপড়ের গলি, তরকারী বাজারের প্রায় অর্ধশতাধিক দোকান কার্যত পানিবন্দি। এতে মালামালের ক্ষয়ক্ষতি বিপুল পরিমাণ।

বাজারের ঈদগাঁও বাশঁঘাটা পারাপারে নির্মিত কাঠের সেতুটি গত রাতে প্রবল পানির তোড়ে ভেসে যায়। জাহানারা বিদ্যালয়ের সামনে বিশাল অংশ ভেঙ্গে পোকখালী সড়কে বর্তমানে জন এবং যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পোকখালী ও ইসলামাবাদের প্রত্যান্ত এলাকার লোকজন চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছে। সড়কের ভাঙ্গনের ফলে ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি এবং দোকানপাট, বসতঘর তলিয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজন বালির বস্তা দিয়ে তড়িৎ গতিতে কোনরকম রক্ষা করেছে ঢলের পানি। দ্রত সময়ে যদি এ ভাঙ্গন সংস্কার করা না হয় তাহলে আরো ব্যাপক আকারে ভাঙ্গনের আশংকা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

অপরদিকে বাশঁঘাট সড়ক ও সুপারীগলি সড়কে হাটু পরিমান পানিতে সয়লাব হয়ে উঠেছে। সে সাথে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষার্থীরা স্ব স্ব শিক্ষাঙ্গনে আসা যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়ছে। ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নিচ তলার প্রতিটি শ্রেনীকক্ষে পানি প্রবেশ করে। সুষ্ট ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় ঈদগাঁওর জাগির পাড়া, জালালাবাদ সওদাগর পাড়ায় বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে একাকার হয়ে মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ বাড়ছে।

ঈদগাঁও ইউনিয়নের মাইজ পাড়ায় ভরাখালে দোকান নির্মান ক্ষেত খামারের নামে খাল দখল করার কারনে ভরাখালটি দিনদিন সংকীর্ণ হওয়ায় পানি চলাচল করতে না পারায় খালের নিকটবর্তী বাড়ী ঘর পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টিতে বৃহত্তর ঈদগাঁওর বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে বিদ্যুত লাইন।

জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন জানান, ভাঙ্গনটি দ্রতগতিতে সংস্কার করা না হলে এটি আরো বড় আকারে হতে পারে। কারন ভাঙনটি শিক্ষাপ্রতিষ্টানের সামনে হওয়ায় হুমকির মুখে রয়েছে স্কুল ভবন। ইসলামাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান নুর ছিদ্দিক এখনো সড়কের জন্য জরুরী বরাদ্ধ পাওয়া যায়নি বলে জানান।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)