ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১৪ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

বহির্বিশ্ব হংকংয়ের আন্দোলনকারীদের ‘হারানোর কিছু নেই’

হংকংয়ের আন্দোলনকারীদের ‘হারানোর কিছু নেই’

নিরাপদ নিউজ: তাদের আর হারানোর কিছু নেই’ বলে জানিয়েছেন টানা তিন মাস ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে চালিয়ে যাওয়া হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীরা। বেইজিংয়ের হুঁশিয়ারি আর পুলিশের নিষেধাজ্ঞা, হয়রানি ও সাজার ভয় অমান্য করে হংকংজুড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে চলমান এ আন্দোলনকে বেইজিংয়ের ‘আগ্রাসী অবস্থান’ প্রতিরোধ করে নিজেদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় সুযোগ হিসেবেও দেখছেন তারা।শহরটির বিভিন্ন সড়ক থেকে তাই উঠে আসছে তারুণ্যের ক্রুদ্ধ চিৎকার ‘হয় এখনই, নয়তো কখনোই নয়’ স্লোগান, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।হংকংয়ের বেইজিংঘনিষ্ঠ প্রশাসনের কর্মকা-ে ক্ষুব্ধ অনেকে আন্দোলনে অংশ নিতে কাজও ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।এদেরই একজন জেসন সে।

নিজ শহরের ভবিষ্যত গড়তে এবং ‘বাঁচা-মরার’ লড়াইয়ে অংশ নিতে মাসখানেক আগে প্রবাসের চাকরি ছেড়ে বিমানে উঠে পড়েছিলেন তিনি।“এখন এটা ‘হয় এখনই, নয়তো কখনোই নয়’ মুহুর্ত, এবং এটাই আমার ফিরে আসার কারণ। আমরা যদি এবার সফল হতে না পারি, তাহলে আমাদের বাকস্বাধীনতা, আমাদের মানবাধিকার সব চলে যাবে। আমাদের প্রতিরোধে লেগে থাকা উচিত,” বলেছেন ৩২ বছর বয়সী এ যুবক।গত মাসে হংকংয়ে ফেরার পর থেকেই তিনি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিগুলোতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে আন্দোলনের সপক্ষে জনমত গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন।জেসনের মতো এমন হাজার হাজার ‘হার না মানা’ স্বেচ্ছাসেবকের প্রতিবাদ-প্রতিরোধের কারণে ২২ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম হংকংকে নিয়ে বড় ধরনের সংকটে পড়তে হয়েছে চীনের কমিউনিস্ট শাসকদের।১৯৯৭ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর হংকংয়ের কারণেই চীনকে ‘এক দেশ দুই নীতি’তে চলতে হচ্ছিল।

শহরটি হস্তান্তর করার সময় যুক্তরাজ্য বেইজিংয়ের কাছ থেকে হংকংয়ের জন্য পৃথক শাসন, বিচারব্যবস্থা, অর্থনীতিসহ অনেকগুলো বিষয়েই বিস্তৃত স্বায়ত্তশাসন আদায় করে দেয়।দুই দশক আগে ভূখ-ভুক্ত করার সময় প্রতিশ্রুতি দিলেও চীনা শাসকগোষ্ঠী এরপর থেকেই হংকংয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর ধারাবাহিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ সমালোচকদের।বিচারের জন্য বাসিন্দাদের চীনের মূল ভূখন্ডে পাঠানোর সুযোগ রেখে করা আইনের যে সংশোধনী বিল নিয়ে এবারের আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল, তার মূলেও হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি রাজনীতিক ও কর্মীদের জব্দ করাই উদ্দেশ্য ছিল বলে সন্দেহ সরকার বিরোধীদের।আন্দোলনের মুখে হংকংয়ের সরকার ওই বিলটি পাসের পরিকল্পনা থেকে পিঁছু হটেও বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে পারেনি। গণতন্ত্রপন্থিরা এখন সরকারের পদত্যাগ, হংকংয়ে আরও গণতন্ত্র এবং বিক্ষোভে পুলিশ হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত চাইছে।তিন মাসের টানা বিক্ষোভ এরইমধ্যে শহরটির অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তবে যে কোনো মূল্যে ‘স্বাধীনতা রক্ষায়’ এতেও আপত্তি নেই বিক্ষোভকারীদের।গত মঙ্গলবার হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলোকে ফের অগ্রহণযোগ্য অ্যাখ্যা দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেইজিং হংকং সীমান্তের কাছে আধাসামরিক বাহিনীও মোতায়েন করেছে।২০১৪ সালে হংকংয়ের সড়কগুলোতে গণতন্ত্রপন্থিরা টানা ৭৯ দিন বেইজিংবিরোধী বিক্ষোভ করলেও তখন এবারের মতো সহিংসতা দেখা যায়নি।“লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আমাদের সবচেয়ে বেশি ভয় হচ্ছে চীনের সরকারকে। আমাদের জন্য এটি হয় জীবন, নয় মৃত্যু পরিস্থিতি,” বলেছেন দমনপীড়নের ভয়ে নাম বলতে অনাগ্রহী ৪০ বছর বয়সী এক শিক্ষক।“২০১৪-র বিপ্লবে আমরা বাজেভাবে হেরে গেছি। এখন, যদি বিক্ষোভকারীরা সহিংসতাকে কাজে না লাগাতো, তাহলে এতক্ষণে ওই বিলটি পাস হয়ে যেত,” বলেছেন মাইক নামের আরেক বিক্ষোভকারী।

গণমাধ্যমে কাজ করা এ যুবক মা-বাবার সঙ্গে হংকংয়েই বসবাস করেন।পাঁচ বছর আগের ‘শান্তিপূর্ণ কিন্তু ব্যর্থ আন্দোলনের’ কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “কিছু মাত্রায় সহিংসতা যে খুবই কার্যকর, তা প্রমাণিত হয়েছে।”তিন মাসের আন্দোলনে এরইমধ্যে প্রায় ৯০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।দীর্ঘ কারাভোগের শঙ্কা সামান্য কিছু বিক্ষোভকারীকে আন্দোলন থেকে দূরে রাখলেও বেশিরভাগই এ সাজায় ভীত নন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

শহরটির বেশিরভাগ ছোট একটি অ্যাপার্টমেন্ট শেয়ারে মাসে ভাড়া পড়ে গড়ে ৭ হাজার হংকং ডলার (৮৯৩ মার্কিন ডলার)।সেদিকে ইঙ্গিত করে শহরের এক বিক্ষোভস্থলের কাছে লেখা এক গ্রাফিতিতে বলা হয়েছে, “জেলখানার সেলের মতো একটি ঘরের জন্য খরচ পড়ে ৭ হাজার, আর তোমরা ভাবছো আমাদের জেলের ভয় দেখাতে পারবে।”বিক্ষোভকারীদের এ অবস্থান শহরটিতে জোর করে হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখা চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সরকারকে স্পষ্টতই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে বলে ভাষ্য পর্যবেক্ষকদের।সমালোচকদের অনেকেই অবশ্য গণতন্ত্রপন্থিদের ‘হয় এখনই, নয়তো কখনোই নয়’ এমন অবস্থানে আপত্তি জানিয়েছেন।

হংকংয়ের বাসিন্দাদের এখনকার স্বাধীনতাকে ‘চীনের মূল ভূখন্ডের অনেকের কাছে এখনও স্বপ্ন’ মন্তব্য করে তারা বলছেন, বেইজিং যদি সত্যিই অভিযান চালায়, তাহলে হংকংয়ের জনগণ এখন যে ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করছে, তাও হারাবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)