ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১ মিনিট ২৬ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৪ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৯ সফর, ১৪৪১

মতামত হল মালিকদের ‘সিনেমাবান্ধব’ ভ্যাকসিন দেয়া দরকার!

হল মালিকদের ‘সিনেমাবান্ধব’ ভ্যাকসিন দেয়া দরকার!

লিমন আহমেদ, নিরাপদ নিউজ: সিনেমা এখন মশলাদার মহল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, প্রেমে মুগ্ধ বা দগ্ধ দেশের ৯৫ ভাগ হল মালিক বলে দিচ্ছে ছবি চলে না, ব্যস সে ছবি চলছে না। ছবি না চললেও হল মালিকরা বলছে ছবি চলে, ব্যস সে ছবি সুপারহিট! মিডিয়া সেভাবেই তা প্রচার করেছে। নইলে কী আর অমুক একাই ইন্ডাস্ট্রি বাঁচিয়ে রেখেছে, তমুক ছাড়া আর কারো নামে ছবি চলে না ইত্যাদি ইত্যাদি রূপকথার গল্প শুনতে হয়। হল কমতে কমতে এখন ২০০টাও নেই। আর তারা ইন্ডাস্ট্রি বাঁচানোর অহংকার করে বেড়াচ্ছে!
এই হল মালিকদের বলাতে বলাতে গেল ১০-১৫ বছরে অনেক অখাদ্যকে হিট বানানোর চেষ্টা চলেছে। আবার অনেক সম্ভাবনাময় সিনেমাকে ‘ভালো না, চলে না’ স্লোগান তুলে প্রযোজকের হাতে হারিক্যান ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। হল পলিটিক্সের নীল নকশায় ধ্বংস করা হয়েছে বহু স্বপ্নবাজ প্রযোজক, পরিচালকের ভবিষ্যত! গতিরোধ করা হয়েছে ভালো সিনেমা তৈরির চর্চায়! সেটা চলমান।
প্রভাব খাটিয়ে ভালো ছবি, একটু সমাদর পেলে ব্যবসা করতে পারতো এমন ছবির পেছনে কাঠি করা হচ্ছে। আর ছাইপাশ ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে হলে হলে, যেখানে মাছিও আসছে না!
সিনেমা বাঁচাতে অনেকে অনেক কথা বলেন। কিন্তু সবার আগে হল মালিকদের ‘সিনেমাবান্ধব’ ভ্যাকসিন দেয়া দরকার। তাদের প্রযোজকের টাকার প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলারও প্রকল্প হাতে নেয়া দরকার।
ভালো ছবির পক্ষে না দাঁড়ালে কোনোদিন ইন্ডাস্ট্রি দাঁড়াবে না আর। তাই শিক্ষিত, রুচিশীল, শিল্পমনাদের সিনেমা হল ব্যবসাতে আসার পথ ও সুযোগ তৈরি করা দরকার। এই জায়গা পরিবর্তন না করে হুদাই লম্ফজম্ফ, কাবজাব করে কোনো লাভ নেই মনে হয়। লাভের গুড় সব পিঁপড়ায় খেয়ে যাবে।
সম্প্রতি কলকাতায় সিনেমার গণেশ পাল্টে গেছে। সেখানে আজীবন ফাঁপড়বাাজি করে আসা মশলাদার সিনেমার লোকেরা প্রচুর মার খাচ্ছে। দেব-জিৎরাও মুখ থুবড়ে পড়ছেন। তারা নিজেদের সিনেমার রুচি বদলে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন। হল মালিকদের সমর্থনে তারকাগিরি বা প্রভাব খাটিয়ে বস্তাপঁচা সিনেমা আর গেলানো যাচ্ছে না। হলিউড, বলিউড ও তামিল-তেলেগুর সঙ্গে পাল্লা দিয়েও কলকাতার সিনেমায় এখন বসন্ত এসে গেছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)