ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট মে ২, ২০১৭

ঢাকা মঙ্গলবার, ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২০ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

জাতীয়, লিড নিউজ হাওর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ দেয়া হবে : কৃষিমন্ত্রী

হাওর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ দেয়া হবে : কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী

০২ মে ২০১৭, নিরাপদ নিউজ : কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, হাওর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য বেগম লুৎফা তাহেরের (মহিলা আসন-৪০) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি সংসদকে এ তথ্য জানান। এরআগে বিকেল পৌনে পাঁচটায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের ১৫তম অধিবেশনের দিনের কার্যক্রম শুরু হয়।

লিখিত প্রশ্নের জবাবে মতিয়া চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকার মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ওই এলাকায় ব্রিধান-৪৮ জাতের আউশ বীজ বিনামূল্যে বিতরণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় ইউনিয়নভিত্তিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিয়া প্রণয়ন করা হচ্ছে জানিয়ে মতিয়া চৌধুরী বলেন, দ্রুততার সাথে আউশ ধান বপনের কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। ওই এলাকায় খরিফ মৌসুমে দ্রুততার সাথে আমন ধান, মুগ, মাসকলাই ও খেসারীসহ অনান্য ফসল আবাদের কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সবজি উৎপাদনের জন্য ভাসমান বেড পদ্ধতি হাওর এলাকায় চালু করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। আগামী বোরো মৌসুমে আগাম রোপনের জন্য হাইব্রিডসহ অন্যান্য উন্নতজাতের বীজতলা তৈরি করে চাষীদের মধ্যে চারা বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেটও সুনামগঞ্জ জেলায় ব্রিধান-৪৮ জাতের আউশ ১২৫০ কেজি বীজ বিনামুল্যে বিতরনের ব্যবস্থা গ্রহণকরা হয়েছে। এছাড়া হাওর এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানিয়ে তিনি বলেন, সম্ভাব্য সকল আউশ এবং আমনের জমিতে ধান রোপণ নিশ্চিত করা হবে। নিবিড় শস্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আউশ/আমন ফসলের কাঙ্গিত উৎপাদন নিশ্চিত করা হবে। আমন মৌসুমে হঠাত পানিতে ডুবতে পারে এমন জমিতে ব্রিধান-৫২, বিনাধান-১১ জাতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাষাবাদের আওতায় আনা হবে।

ক্ষয়ক্ষতির গুরুত্ব উপজেলা পর্যায়ে সমন্বয় সভায় তুলে ধরা হবে জানিয়ে মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে নাবী আমন ধানের চারা উৎপাদন ও বিতরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভাসমান বেড়ে বীজতলা প্রস্তুত করা হবে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিকসহ সকল কৃষকদের আমন জমি রোপনের আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, সিলেটের খাদিম নগরে অবস্থিত কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আসন্ন আমন মৌসুমের জন্য নাবী আমন ধানের চারা উৎপাদন করে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
বঙ্গবন্ধুর কন্যা আছেন, আমাদের দেশে কোনো অসুবিধা হবে না

হাওরে প্লাবিত হওয়ার ঘটনায় ‘ভয় পাওয়ার কিছু নাই’ মন্তব্য করে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, যখন বঙ্গবন্ধুর কন্যা আছেন, তখন আল্লাহর রহমতে আমাদের দেশে কোনো অসুবিধা হবে না। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য সাধন চন্দ্র মজুমদারের (নওগাঁ-১) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মতিয়া চৌধুরীর উদ্দেশে সাধন চন্দ্র মজুমদার প্রশ্ন রেখে বলেন, হাওরে আগামী ফসল ফলানোর জন্য বীজ নাই, অর্থ নাই। আগামী ফসল ফলানোর জন্য মন্ত্রী কৃষকদের সার, বীজ, কীটনাশক এবং নগদ অর্থ সহায়তা দিবেন কি না?

জবাবে মতিয়া চৌধুরী বলেন, এপ্রিল মাসের ২ তারিখে যখন প্রথম বাঁধটি ভাঙলো, ৩ তারিখেই আমরা কৃষি সম্প্রসারণের ডিজিকে পাঠাই সুনামগঞ্জ আর নেত্রকোনা পাঠাই মন্ত্রণালয়ের সচিবকে। আমি, খাদ্যমন্ত্রী, ত্রাণমন্ত্রী প্রধানমত্রীর নেতৃত্বে আমরা হাওয়ে গিয়েছি। সেখানে শুধু পানি আর পানি। হাওর এলাকায় কিছু কিছু স্থানে ধান রক্ষা পেয়েছে, বাকি সব জায়গায় পানির নিচে ধান।

তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে যেটা চাইলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তো এর চাইতে বেশি দিয়ে এসেছেন সেদিন। উনি কৃষি ঋণ আদায় আপাতত স্থগিত রাখতে বলেছেন, সুদ মওকুফ করেছেন, সার এবং বীজ দেয়া হবে বিনামুল্যে, তাও বলেছেন। একইসঙ্গে সেখানে পরবর্তী ফসল না উঠা পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে, সেটিও তিনি ঘোষণা করে এসেছেন। মায়ের মমতা দিয়ে প্রধানমত্রী যে সমস্থ রেয়াত দেয়া সম্ভব এবং যা যা সম্ভব তিনি ঘোষণা করেছেন।

তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। সারের অভাব হবে না। বীজের অভাব হবে না। উন্নতমানের বীজ আমরা সেখানে সরবারাহ করব। ফসল ফলাতে যে মূলধন লাগে সে ব্যাপারেও সরকার উদার থাকবে।’

মন্ত্রী বলেন, আমার সেদিন খুব ভালো লাগল, আমি আরেকটা এলাকায় গিয়েছিলাম, সেখানে বললাম হাওরে এই হলো, তো আপনারা কি চিন্তা করছেন? তারা বলছে, ৯৮’র (১৯৯৮) মতো হয়নি। ৯৮-এ তো দেশের ১২ আনি ডুবে গিয়েছিল। আর এখানে বড়জোর ৩ আনি ডুবেছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)