আপডেট এপ্রিল ১৯, ২০১৭

ঢাকা সোমবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ , গ্রীষ্মকাল, ১২ রমযান, ১৪৩৯

চট্টগ্রাম হালদা নদী ভয়াবহ দূষণের শিকার: মাছের ডিম ছাড়া নিয়ে শঙ্কিত আহরণকারীরা

হালদা নদী ভয়াবহ দূষণের শিকার: মাছের ডিম ছাড়া নিয়ে শঙ্কিত আহরণকারীরা

হালদা নদী ভয়াবহ দূষণের শিকার: মাছের ডিম ছাড়া নিয়ে শঙ্কিত আহরণকারীরা

শফিক আহমেদ সাজীব, ১৯ এপ্রিল, ২০১৭, নিরাপদনিউজ : ডিম দেওয়া মওসুমে ভয়াবহ দূষণের শিকার হচ্ছে হালদা। প্রতিদিন টনে টনে বর্জ্য পড়ছে নদীতে। দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এ বছর রুই জাতীয় মাছ ডিম ছাড়া নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন আহরণকারীরা। কারখানার দূষিত কালো পানি প্রতিদিন খন্দকিয়া খাল দিয়ে অবিরত নদীতে পড়ছে। হালদার মদুনাঘাট এলাকায় কালো পানি নদীর সাথে মিশে যাচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে রুই জাতীয় (রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ) মাছের প্রজনন। হালদা গবেষক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, হাটহাজারীর খন্দকিয়া খালের দূষণের কুচকুচে পানি অবিরত হালদা নদীতে পড়ছে। নগরীর অক্সিজেন এলাকার আশপাশের কারখানার দূষিত বর্জ্যরে পানি অনন্যা আবাসিক এলাকা হয়ে এই খালে পড়ে। এরপর কালো পানি সরাসরি হালদায় পড়ে। এছাড়া হাটহাজারীর বিভিন্ন শিল্প কারখানার দূষিত কালো পানি বিভিন্ন শাখা খাল হয়ে হালদায় পড়ছে। এতে নদীতে এবার মাছ ডিম না দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হাটহাজারীর মাদার্শা এলাকার বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিক সমাজের সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম বলেন, শিল্প বর্জ্যে হাটহাজারীর শিকারপুর ও মাদার্শা ইউনিয়নের সাতটি খালের পানি কুচকুচে কালো রং ধারণ করেছে। এসব খালে এখন কোনো মাছ পাওয়া যায় না। খালের সাথে যুক্ত পুকুরগুলোর পানিও দূষিত হয়ে গেছে। দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে ওজু-গোসল করা যায় না। পুকুর-বিলে এসব পানি ছড়ানোয় চর্মরোগেও আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এছাড়া খালের দূষিত কুচকুচে পানি হালদা নদীতে ছড়িয়ে পড়ার কারণে এবার রুই জাতীয় মাছ ডিম না দেওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রসঙ্গত, হালদা বিশ্বের একমাত্র জোয়ার-ভাটা নদী, যেখান থেকে রুই জাতীয় মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়। বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাস হচ্ছে ডিম ছাড়ার মওসুম। স্মরণাতীতকাল থেকে এ নদী থেকে ডিম আহরণ করা হলেও দূষণ, মা মাছ শিকার, বাঁক কাটা, অপরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের কারণে ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে থাকে ডিমের পরিমাণ। নদীতে বেড়েছে দূষণ।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)