ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৩০ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ২ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৭ সফর, ১৪৪১

শিল্প-সংস্কৃতি হুমায়ূন আহমেদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১৩ জুলাই ‘নদ্দিউ নতিম’ এর বিশেষ প্রদর্শনী

হুমায়ূন আহমেদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১৩ জুলাই ‘নদ্দিউ নতিম’ এর বিশেষ প্রদর্শনী

নিরাপদ নিউজ: কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ-এর কালজয়ী উপন্যাস ‘কে কথা কয়’ এর নাট্যরূপ ‘নদ্দিউ নতিম’। এ মাসেই হুমায়ূন আহমেদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ‘নদ্দিউ নতিম’ নাটকের বিশেষ প্রদর্শনী।
নাটকটি ম্যাড থেটারের প্রথম প্রযোজনা। নাটক রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন আসাদুল ইসলাম, যিনি ম্যাড থেটারের হেড ম্যাড। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন আসাদুল ইসলাম, সোনিয়া হাসান ও আর্য মেঘদূত, যারা একই পরিবারের সদস্য, বাংলা নাটকের ক্ষেত্রে যা অনন্য ও নতুন মেরুকরণ। আগামী ১৩ জু্লাই শনিবার সন্ধ্য ৭টায় নাটকটির ৫৩তম মঞ্চায়ন পূর্ণ হবে।
নাটকটি ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। নাটকটি দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে এর অভিনয় গুণে, কাহিনির চমৎকারিত্বে, ঘটনার বিন্যাসে ও চরিত্রের বিচিত্রতায়। নাটকটি নিয়মিতভাবে ঢাকায় মঞ্চস্থ হচ্ছে। প্রতিটি প্রদর্শনীতেই রয়েছে দর্শকদের আগ্রহ আকর্ষণ এবং পুনর্বার দেখার তাগিদ।
যে তিনটি কারণে নাটকটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং তীব্র আগ্রহের জন্ম দিয়েছে, সে গুলো হলো-
প্রথমত- বাংলাদেশের মূলধারার নাটকে ‘নদ্দিউ নতিম’ই প্রথম নাটক যেখানে একজন শিশু একটি কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছে।
দ্বিতীয়ত- বর্তমান সময়ে একজন মানুষ অন্য একজনকে হত্যার জন্য নিজেকে আত্মাহুতি দিচ্ছে। এই নাটকে দেখা যায় একজন মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুকে বাঁচাতে একজন কবির নির্বিকার আত্মাহুতি। অর্থাৎ অন্যকে হত্যা করতে নয় বরং বাঁচাতেই আরেক মানুষের জীবন উৎসর্গ, যা এই সময়ের জন্য এক অনন্য আদর্শ হিসাবে পরিগণিত।
তৃতীয়ত- এই নাটকে একটি কাল্পনিক পরিবারের কাহিনি মঞ্চস্থ হয় যা একটি বাস্তব পরিবারের সদস্যরা অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের সামনে ফুটিয়ে তোলে।

নাটকটির সহযোগী নির্দেশক আনিসুল হক বরুণ, সেট ও লাইট ডিজাইন ফয়েজ জহির, পোশাক সোনিয়া হাসান, আবহসঙ্গীত আর্য মেঘদূত, আলোক নিয়ন্ত্রণে রাশেদ ও আরিফ এবং আবহসঙ্গীত নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন আদর। দেশে ও দেশের বাইরে ‘নদ্দিউ নতিম’ নাটকের একের পর এক সফল প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে ম্যাড থেটার দর্শকদের মন জয় করে চলেছে। আগামী ১৩ জুলাই শনিবার ‘নদ্দিউ নতিম’ নাটকের ৫৩তম প্রদর্শনীতে সবাইকে আমন্ত্রণ।
কাহিনি সংক্ষেপ- মতিন একজন কবি। মনে মনে নিজেকে কল্পনা করে নেয়- সে একজন উজবেক কবি। নিজেই সে নিজেকে স্বপ্ন দেখে- ধবধবে ফর্সা গায়ের রং, পরনে জোব্বার মতো একটা পোশাক, লম্বাটে মুখ, চোখ তীক্ষ্ণ। মতিনের মধ্যে বাস করে অন্য এক মতিন। দিনে দিনে মতিন উদ্দিন হয়ে ওঠে নদ্দিউ নতিম। মতিনের হৃদয়ের সবটুকু দখল করে থাকে সহপাঠিনী নিশু। ভাবের ভেলায় ভেসে বেড়ালেও ভাবাবেগে মতিন ডুবে যায় না, সে বুঝতে পারে নিশুর মতো স্কলার মেয়ের যোগ্য সে নয়। মতিনের একদিন চোখে পড়ে পত্রিকার পাতায় তিন লাইনের ছোট্ট একটা বিজ্ঞাপন- একজন সার্বক্ষণিক টিউটর প্রয়োজন, টিউটরের সৃজনশীলতা ব্যক্তিগত যোগ্যতা হিসাবে ধরা হবে, বেতন আকর্ষণীয়। বেতনের আকর্ষণীয় ক্ষমতায় মতিন তার কবি সত্ত্বাকে সাময়িক স্তিমিত রেখে কমল নামের একজন মানসিক প্রতিবন্ধী বাচ্চার টিউটর পদে অভিসিক্ত হয়। মতিনের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্টি সৃষ্টি হওয়ায় তাকে টিউটর পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু প্রতিবন্ধী বাচ্চাটি কবিকে ভুলে না। বাচ্চাটি কবির সঙ্গে কথা বলতে চায়, কিন্তু সে সুযোগ তো আর নেই। কবি চলে গেছে। বাচ্চাটি জেদ ধরে- সে কথা বলবেই বলবে। এক পর্যায়ে সুযোগ হয় কবির সাথে কথা বলার। কমল মতিনের সঙ্গে তার জীবনের একটি সিক্রেট শেয়ার করে, যে সিক্রেটের জন্য মতিনকে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়াতে হয়। হাসপাতালের এক হিমশীতল ঘরে সে শুয়ে থাকে। তার কাছে মনে হয়, সে যেন অনন্তকাল এভাবেই শুয়ে ছিল।
কী সেই সিক্রেট যার জন্য কবিকে জীবন দিতে হলো? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে ম্যাড থেটারের প্রথম প্রযোজনা নদ্দিউ নতিম দেখার আমন্ত্রণ রইল।
• প্রসঙ্গ: ম্যাড থেটার- মানুষের অবচেতনে এক ধরনের সূক্ষ্ম পাগলামি কাজ করে। এই পাগলামি ব্যবহার করে কেউ কেউ প্রথাগত যুক্তি বুদ্ধির দেয়াল ভেঙে নতুন সমীকরণ আমাদের সামনে দাঁড় করায়। যারা এই পাগলামি ব্যবহার করতে পারে তারা প্রচলিত ধারার বাইরে নতুন কিছু করার সম্ভাবনা তৈরি করে। সেই সম্ভাবনাকে থিয়েটারের মাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য ম্যাড থেটার।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)