ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৩ মিনিট ১৩ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ১০ আষাঢ়, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ২০ শাওয়াল, ১৪৪০

নিসচা সংবাদ, বিনোদন, লিড নিউজ ‘হ্যাপী বার্থডে দাদা’: নাতী ফাইজানকে কোলে নিয়ে কেক কাটলেন কাঞ্চন

‘হ্যাপী বার্থডে দাদা’: নাতী ফাইজানকে কোলে নিয়ে কেক কাটলেন কাঞ্চন

নিরাপদ নিউজ: আজ ২৪ ডিসেম্বর বিশিষ্ট অভিনেতা ও নিসচার চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের জন্মদিন। এই দিনে তিনি প্রথম ধরনীর আলো দেখে ছিলেন। জন্মদিনের প্রথম প্রহরে নিজ বাসায় ঘরোয়া পরিবেশে পারিবারিক এক আনন্দঘন আয়োজনে কেক কেটে তার জন্মদিন এর শুভ শুচনা করা হয়। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা, সারাবিশ্বের রোল মডেল, জনবান্ধব সমাজ উন্নয়ণ তারকা, শিক্ষাবান্ধব ব্যক্তিত্ব, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা বাংলা চলচ্চিত্রের রাজকুমার, জনন্দীত তারকা চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের ফেসবুক টাইমলাইনে বেশ কয়েকটি কেক কর্তনের ছবি পোস্ট করতে দেখা গেছে।

ছবিগুলো ইতিমধ্যে ভক্তদের শেয়ার কমেন্টে ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে বেশ উৎফুল্ল মেজাজে শক্তিমান অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন তার নাতী ফাইজানকে স্নেহের পরশে জরিয়ে কোলে নিয়ে পাশে কাঞ্চনের ছেলে মিরাজুল মইন জয় এবং পুত্রবধু ফারিহা ফাতেহসহ পরিবারের অন্যান্ন সদস্যদের নিয়ে কেক কাটছেন।

একটি কেকে লেখা আছে হ্যাপী বার্থডে বাবা অন্যটিতে লেখা আছে হ্যাপী বার্থডে দাদা। পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতার সাথে সাথে সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা নিসচার ১২০টি শাখা এবং বিদেশের ১৫টি শাখা এবং চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের ভক্তদের পক্ষ্য থেকে গঠিত ‘ইলিয়াস কাঞ্চনের ভক্ত আমরা’ ফেসবুক গ্রুপের আয়োজনে সারাদেশের বিভন্ন স্থানেও কেক কাটা,দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে জনগণের ভালবাসার বরপূত্র ইলিয়াস কাঞ্চনের জন্মদিন উদযাপন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ইলিয়াস কাঞ্চন ১৯৫৬ সালের এই দিনে ২৪ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম হাজী আব্দুল আলী, মাতার নাম সরুফা খাতুন। তিনি ১৯৭৫ সালে কবি নজরুল সরকারী কলেজ থেকে এইস এস সি পাস করেন। পরবর্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ফিল্ম ডিরেক্টর সুভাষ দত্ত পরিচালিত বসুন্ধরা সিনামাতে ১৯৭৭ সালে চলিচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে অভিনেতা হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন।এর পর একে একে ব্যবসা সফল সিনেমা উপহার দিয়ে তিনি চিরদিনের মত বাংলা চলচ্চিত্র প্রেমীদের অন্তরে জায়গা করে নেন। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র বেদের মেয়ে জোছনা। সীমাহীন কষ্টের এক অসাধারণ প্রেমের গল্প বেদের মেয়ে জোছনা তাকে খ্যাতির শীর্ষে নিয়ে আসে। যা এখনো বাংলাদেশের প্রায় সকল সিনামা প্রেমিদের মনে জায়গা করে রেখেছে। এরপর তিনি অসংখ্য দর্শক প্রিয় চলচ্চিত্র উপহার দেন। নায়িকা হিসেবে কাঞ্চন তার বিপরীতে সবচেয়ে বেশি পেয়েছেন চম্পা, দিতি ও অঞ্জু ঘোষকে। ইলিয়াস কাঞ্চন যৌথভাবে প্রথম প্রযোজনা করেন ‘সর্পরানী’ ও ‘বোনের মতো বোন’ চলচ্চিত্র এবং ২০০৮সালে চলচ্চিত্র নির্মান করে একজন সফল পরিচালকের খাতায় নাম লেখান। পরপর তিনি দুটি দর্শক প্রিয় চলচ্চিত্র নির্মান করেছেন। বাবা আমার বাবা এবং মায়ের স্বপ্ন। এছাড়াও তিনি বিভিন্য সময় ছোট পর্দায় নাটক টেলিফিল্ম নির্মান করছেন। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সচেতনমুলক অনেক নাটক ইতিমধ্যে নির্মান করে দর্শক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

 

 

ইলিয়াস কাঞ্চন তার অভিনয় জীবনে অনেক গুলো পুরস্কার অর্জন করেছেন। ১৯৮৬ সালে পরিণীতা এবং ২০০৬ শাস্তি চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউনডেশন পদক ১৯৯৬ সালে, মেরিল ভোরের কাগজ পুরস্কার ১৯৯৭ সালে। ফুলকুলি অ্যাওয়ার্ডস ১৯৯৮ সালে, জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ সমিতি পুরস্কার পান ১৯৯৮ সালে। ৩য় বাংলাদেশ ফ্লিম মুভমেন্ট পুরস্কার ১৯৯৯ সালে, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যান সংস্থা স্বর্ণপদক ২০০০ সালে, অন্যনা সাংস্কৃতিক ও সমাজকল্যাণ পরিষদ পুরস্কার শেখ সাঈদ বক্স স্মৃতি যুব পদক এবং বাংলাদেশ কালচারাল মুভমেন্ট অ্যাওয়াডস পান ২০০১ সালে। এছাড়াও তিনি আজীবন জাতীয় সন্মাননা পুরুস্কার লাভ করেন। এবং সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক লাভ করেন নিরাপদ সড়ক চাই এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। ব্যক্তি জীবনে ইলিয়াস কাঞ্চন সামাজিক আন্দলনে গুরত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তিনি তার স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্য হবার পর থেকে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নামে একটি সামাজিক আন্দোলন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। যে আন্দোলন কিনা আজ একটি সফল আন্দোলনের নাম। এবছর ১লা ডিসেম্বর এই আন্দোলনের রজতজয়ন্তী পালন করা হয়েছে অর্থাৎ ২৫বছর পেরিয়ে এই আন্দোলন এখন ২৬বছরে পা দিয়েছে।

 

ইলিয়াস কাঞ্চন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনকে জাতীয় আন্দোলনে পরিণত করে ২২ অক্টোবরকে ‘জাতীয় নিরাপদ দিবস’-এর যাত্রা শুরু করান গত বছরে। গত বছর ৩১ ডিসেম্বর চলচ্চিত্রে অভিনয় জীবনের চার দশক পূর্ণ করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিরসবুজ নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)