ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১০ মিনিট ২০ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৪ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৯ সফর, ১৪৪১

ক্রিকেট, লিড নিউজ ২০১৫ বিশ্বকাপের পর ২০১৯ বিশ্বকাপেও ভারত-বাংলাদেশের ম্যাচে থাকছেন সেই আলিম দার

২০১৫ বিশ্বকাপের পর ২০১৯ বিশ্বকাপেও ভারত-বাংলাদেশের ম্যাচে থাকছেন সেই আলিম দার

নিরাপদ নিউজ: এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিতর্কিত ম্যাচ যদি বলা হয়, তবে এক নম্বরে থাকবে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচটি। যদিও সেই ম্যাচে জয় পায় বাংলাদেশ। কিন্তু গোটা ক্রিকেটবিশ্বে শুরু হয়েছে বিতর্ক। যার পেছনে রয়েছে আম্পায়ারদের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। যার প্রতিটির শিকার হয়েছে বাংলাদেশ।

সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয়েছে লিটন দাসের আউট নিয়ে। এই বাজে আম্পায়ারিংয়ের পেছনে আবার ক্রিকেট রাজনীতির গন্ধও পান কেউ কেউ।

সাউদাম্পটনের রোজ বোলে গত ২৪ জুন অনুষ্ঠিত ম্যাচে থার্ড আম্পায়ার তথা টিভি আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পাকিস্তানের আলিম দার।

এর আগে, ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার একটি ম্যাচে একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে ব্যাপক সমালোচিত হন পাকিস্তানি আম্পায়ার আলিম দার।

পাকিস্তানের এই আম্পায়ার বাংলাদেশের কোনো ম্যাচে যুক্ত হলেই বারংবার ভুল সিদ্ধান্ত দিতে থাকেন।

২০১৫ বিশ্বকাপের পর এবার ২০১৯ বিশ্বকাপেও আলিম দারের বাজে আম্পায়ারিংয়ের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ। লিটন দাসকে আজ থার্ড আম্পায়ারের মাধ্যমে যেভাবে আউট দেওয়া হয়েছে, যা রীতিমতো প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত। ২০১৫ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ম্যাচটা এখনও ভুলে যাননি ক্রিকেটপ্রেমীরা।

২০১৯ বিশ্বকাপে এসে আবারও সেই পাকিস্তানি আম্পায়ার আলিম দারের কবল মুক্ত হতে পারল না বাংলাদেশ দল। আইসিসির ইভেন্টে বাংলাদেশের ম্যাচ মানেই পাকিস্তানি এই আম্পায়ার এবং প্রতিবারই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে পরোক্ষভাবে অবস্থান নিচ্ছেন এই পাকিস্তানি আম্পায়ার।

সোমবার (২৪ জুন) সাউদাম্পটনের রোজ বোল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান ম্যাচে টিভি আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন আলিম দার। ওই ম্যাচে আফগান স্পিনার মুজিব-উর রহমানের বলে লিটন দাসের একটি ক্যাচ নিয়ে দারুণ বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন আলিম দার। লিটনের ক্যাচটি ধরেন হজরতুল্লাহ শহিদী। টিভি রিপ্লেতে বার বার দেখা যাচ্ছিল, বলটা মাটি থেকে কুড়িয়ে তুলেছেন শহিদি। কিন্তু টিভি আম্পায়ার সেটাকে আউট বলে ঘোষণা দেন।

সাকিবের এলবিব্লিউ আউট নিয়েও বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। যদিও এখানে আলিম দার নন, ইংলিশ আম্পায়ার রিচার্ড ক্যাটলবার্গ এবং মিকায়েল গফ দায়ী। মুজিব-উর রহমানের উপর্যুপুরি আবেদনের মুখে অনেকক্ষণ বিরতি নিয়ে এরপর আঙ্গুল তোলেন আম্পায়ার।

সাকিব রিভিউ নিলে, দেখা যায় বলটা লেগ স্ট্যাম্পে হয়তো আলতো ছোঁয় দিয়ে চলে যেতো বাইরে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত আম্পায়াররা আউট দেন না। কিন্তু সাকিবের ক্ষেত্রে দিয়েছিলেন। রিভিউতে তাই মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল রাখলেন আলিম দার।

সেই আলিমদার আবারও বাংলাদেশের ম্যাচে। ২ জুলাই ভারতের বিপক্ষে বার্মিংহ্যামরে এজবাস্টনে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। নিজেদের সেমির সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে হলে বাংলাদেশের সামনে জয় ছাড়া বিকল্প নেই। কিন্তু মাঠে ভারতের ১১ ক্রিকেটারের সঙ্গে অলক্ষ্যে টিভি আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আলিম দারের বিপক্ষেও যে খেলতে হবে বাংলাদেশকে?

ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচেও কিন্তু আলিম দার মাঠের মূল আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করবেন না। তিনি থাকবেন টিভির সামনে। মাঠের দুই আম্পায়ার পালিয়াগুরুগে এবং মরিস ইরাসমাস কোনো সিদ্ধান্তের জন্য টিভি আম্পায়ারের দিকে রেফার করলে কিংবা কেউ রিভিউ নিলে সেটা দেখার দায়িত্বে থাকবেন পাকিস্তানি আলিম দার। তখন আবারও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নেয়াটা বিচিত্র কিছু হবে না আলিম দারের জন্য।

পিছের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি বড় বড় ম্যাচেই দায়িত্ব দেয়া হয় আলিম দারের কাঁধে।

অবশ্য এটা ঠিক, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ম্যাচ বাই ম্যাচ তালিকা তৈরি করে কোন ম্যাচে কোন আম্পায়ার দায়িত্ব পালন করবেন সেটা নির্ধারণ করে রাখে। অর্থ্যাৎ, টুর্নামেন্ট শুরুর আগের সিদ্ধান্তেই কিন্তু দায়িত্ব পালন করছেন আলিম দার। যদিও, বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রশ্ন, বিতর্কিত আলিম দার যখন বারবারই বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নেয়, তখন কেন তাকে বাংলাদেশের ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে থাকে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি?

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)