ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট আগস্ট ৩, ২০১৮

ঢাকা রবিবার, ৬ কার্তিক, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ১০ সফর, ১৪৪০

নিসচা সংবাদ, লিড নিউজ ৪৮ ঘন্টার মধ্যে দাবি না মানলে শিক্ষার্থীদের সাথে রাজপথে নামবেন ইলিয়াস কাঞ্চন

৪৮ ঘন্টার মধ্যে দাবি না মানলে শিক্ষার্থীদের সাথে রাজপথে নামবেন ইলিয়াস কাঞ্চন

নিরাপদ নিউজ:  সড়ক দুর্ঘটনারোধে কার্যকর পদক্ষেপ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আজ শুক্রবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে ইলিয়াস কাঞ্চনের সংগঠন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)। সকাল সোয়া ১১টার দিকে ইলিয়াস কাঞ্চন আনুষ্ঠানিকভাবে মানববন্ধন শুরু করেন। সম্প্রতি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পায়েলের মৃত্যু এবং ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে বাস চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের ডাক দেন নিসচার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দায়িত্বহীন বক্তব্যেরও তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ার‌ম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, বর্তমান আন্দোলনে সাময়িক অসুবিধা হলেও আপনারা অস্থির হবেন না। ভালো কিছু পাওয়ার জন্য অনেক সময় কিছু কষ্ট স্বীকার করতে হয়।

ইলিয়াস কাঞ্চন

তিনি বলেন, গত ২৫ বছরে আমি মানসিকভাবে অনেক কষ্ট পেয়েও থেমে যাইনি। আজকে এই অবস্থা থেকে বাঁচতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এসেছে। তারা উপলব্ধি করতে পেরেছে যে এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার। না হলে তাদের প্রতিদিনই জীবন দিতে হবে। প্রতিদিন জীবন দেওয়ার চেয়ে প্রতিবাদ করে সাময়িক অসুবিধা হলেও দাবি আদায় করা ভাল।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে বলেছি, এক ইলিয়াস কাঞ্চনে হবে না, হাজার হাজার ইলিয়াস কাঞ্চন হতে হবে। আজকে লাখ লাখ ইলিয়াস কাঞ্চন রাস্তায়।’ তাদের মুখে আমার স্লোগান নিরাপদ সড়ক চাই।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমরা সাবধানে বুদ্ধি দিয়ে আন্দোলন করে যাবে। তোমাদের কাছে আমার আহবান তোমরা একটি গাড়ীও ভাংচুর করবেনা। তোমরা একটি গাড়ী ভাংচুর করলে সুযোগ সন্ধানীরা ১০/২০টা ভাংচুর করবে।’ সুযোগ সন্ধানীরা যেন আন্দোলন বানচাল করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সুশিংখলভাবে নিয়মের ভেতরে থেকে কাজ করে যাও আমি আছি তোমাদের সাথে। এবং শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘রাস্তায় যারা ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করেন তাদের নিজেদের লাইসেন্সগুলো ঠিক নাই। এজন্য অধিদফতর ও মন্ত্রণালয় থেকে যেন নির্দেশনা আসে। আইন অমান্য করে মন্ত্রীরা উল্টো দিকে চলছেন। আপনারা জাতির কাছে বলেন যে, আমরা আর করবো না। আমরা লজ্জিত, অপমানিত। সন্তানদের কাছ থেকে শিক্ষা পেয়েছি আমরা আর এটা করবো না, নিয়ম মেনে চলবো। বাবারা তোমরা ঘরে ফিরে যাও। এভাবে বলেন নিশ্চয়ই সন্তানরা ঘরে ফিরে যাবে।’

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘সব অধিদপ্তর যদি তাদের কর্মকান্ডগুলো শুরু করে দেয় তাহলে আমার সন্তানদের উদ্দেশ্যে বলবো তোমরা অবশ্যই ঘরে ফিরে যাবে, লেখাপড়া করবে। বাবা-মায়ের কাছে থাকবে। প্রয়োজনে আবারও যদি কোনো অসুবিধা হয়, এই ৪৮ ঘন্টার মদ্ধে দাবি যদি না মেনে নেয় তখন অবশ্যই আমরা তোমাদের সঙ্গে থেকে আবার রাজপথে নামবো।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্মাতা প্রকাশ করলেও ইলিয়াস কাঞ্চন রাজপথে নেই কেন এমন প্রশ্নের পরিপেক্ষিতে মানববন্ধনের বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রত্যেকের একটা নিজস্ব কৌশল আছে। সেই টেকনিকে কাজ করতে হয়। অতীতের কিছু ঘটনা মনে রেখে পদক্ষেপ নিতে হয়।’ ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘২৫ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছি। আমি যা করি নিজের বিবেগ বুদ্ধি দিয়ে বিবেচনা করেই করি। আমি যদি বাচ্চাদের সঙ্গে প্রথম দিন থেকে রাস্তায় থাকতাম, তবে এখানে কিছু হলে টোটাল দোষটা কিন্তু আমার ওপর আসত। আমি যদি মাঠে এদের পাশে থাকতাম তবে বলা হত গাড়ি ভাঙচুরের জন্য এই লোকটিই উসকে দিয়েছে।’

মানববন্ধনে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, সড়ককে নিরাপদ করার লক্ষে এর আগে আপনি ৬নির্দেশনা দিয়েছেন এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু আপনি যে ঘোষণা দিয়েছেন তার কার্যক্রম কিন্তু এখনো শুরু হয়নি। ইলিয়াস কাঞ্চন প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়ন এর উদ্যোগ দ্রুত নেয়ার দাবি জানান।

তিনি বলেন, ‘দায়িত্বশীল যারা সরকারে ও পরিবহন সেক্টরের নেতৃত্বে আছেন তাদের দায়িত্বহীন কথাবার্তা ও আজকে পরিবহন সেক্টর যে অমানবিক হয়েছে তার প্রতিবাদে আজকের এই মানববন্ধন। এর মাধ্যমে আমি সরকারকে বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই এটি মানুষের প্রাণের দাবি। এদেশের মানুষ আর সড়কে মরতে চায় না। পঙ্গুত্ব বরণ করতে চায় না। আর সময় ক্ষেপণ করা উচিত নয়। যতই সময় যাবে ততই জীবন যাবে।’ সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য জাতীয় বাজেটে চালকদের দক্ষতা বাড়ানো ও ইনস্টিটিউট তৈরির জন্য বরাদ্দ রাখার দাবি জানান তিনি।

সরকারকে উদ্দেশ্যে করে তিনি আরো বলেন, ‘সন্তানেরা রাস্তায় নেমে একটা সুযোগ করে দিয়েছে। যে পরিবহন সেক্টরের ভয়ে আইন প্রয়োগ করতে বা নতুন আইন করতে পারেননি। সারাদেশের মানুষ এ দাবির পক্ষে। সড়কে সুষ্ঠু ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য কঠোর আইন প্রয়োগের পক্ষে দেশের মানুষ। কিছু লোক বিরোধিতা করলেও সারাদেশের মানুষ আপনাদের পক্ষে।’

বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, আমার মেয়ে ইমা সে লন্ডনে থাকে। সে সন্তান সম্ভবা। সন্তান সম্ভবা মেয়ে ইমার পাশে বাবা হিসেবে পাশে থাকাটা এখন ভীষন জরুরী। আগামী ৫আগস্ট আমার ফ্লাইট ছিলো আমি সেই ফ্লাইট বাতিল করেছি। লন্ডনে আমার একটা মেয়ে। আর এই দেশে বর্তমানে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে রাস্তায় আন্দোলনে হাজার হাজার সন্তান। এই কোমলমতি সন্তানদের রাস্তায় রেখে আমি কি করে মেয়ের কাছে যাই? যারা সড়কের নির্মমতায়, চালকের বেপরোয়ায় হারিয়েছে কয়েকজন সহপাঠী। স্বজন হারানোর বেদনায় আজ তারা আমার তৃতীয় সন্তানকে হৃদয়ে ধারণ করে হয়ে উঠেছে প্রতিবাদী। পুরো বাংলাদেশ এখন নিরাপদ সড়কের দাবীতে চিৎকার করছে। নিয়মের বৈঠা হাতে অনিয়মকে বিদায় দিতে বদ্ধ পরিকর। থাকনা আমার এক মেয়ে ওখানে। আমি আছি সমগ্র বাংলাদেশের সন্তানদের নিয়ে।

মানববন্ধনের  উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ সড়ক চাইয়ের ভাইস-চেয়ারম্যান শামীম আলম দীপেন, যুগ্ম-মহাসচিব লিটন এরশাদ, গনি মিয়া বাবুল, অর্থ সম্পাদক নাসিম রুমি, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক একে আজাদ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মিরাজুল মইন জয়, প্রচার সম্পাদক এ কে এম ওবায়দুর রহমান, সহ-প্রচার সম্পাদক সাফায়াত সাকিব, প্রকাশনা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ, দুর্ঘটনা অনুসন্ধান বিষয়ক সহ-সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক রাব্বী, নির্বাহী সদস্য আলাল উদ্দিন ও ফিরোজ আল মিলন প্রমুখ।

মানববন্ধনের অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান ও নিরাপদ সড়ক চাই’র উপদেষ্টা আইয়ুবুর রহমান, মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম, বাস থেকে ফেলে দেওয়ার পর নিহত ছাত্র পায়েলের মামা সোহরাওয়ার্দি বিপ্লব, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সভাপতি লায়লা হাসান প্রমুখ।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)