সংবাদ শিরোনাম

২৯শে মার্চ, ২০১৭ ইং

00:00:00 বুধবার, ১৫ই চৈত্র, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ , বসন্তকাল, ২রা রজব, ১৪৩৮ হিজরী
বিনোদন, লিড নিউজ, সাক্ষাৎকার মর্মান্তিক সেই দিনটির কথা: প্রয়াত স্ত্রীকে নিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চনের স্মৃতি চারণ…

মর্মান্তিক সেই দিনটির কথা: প্রয়াত স্ত্রীকে নিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চনের স্মৃতি চারণ…

পোস্ট করেছেন: Nsc Sohag | প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৭, ২০১৬ , ৮:২৬ অপরাহ্ণ | বিভাগ: বিনোদন,লিড নিউজ,সাক্ষাৎকার

সেদিন কোন সিনেমার সুটিংয়ে কাজ করছিলেন কাঞ্চন?

সেদিন কোন সিনেমার সুটিংয়ে কাজ করছিলেন কাঞ্চন?

নিরাপদ নিউজ : দুর্ঘটনা জীবনের গল্পে আনে ট্র্যাজিক বাঁক। সংস্কৃতিজগতেও এ রকম অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে।  ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন। যাঁর অকাল মৃত্যুতে সড়ককে নিরাপদ করার এক সামাজিক আন্দোলন নিরাপদ সড়ক চাই এর জন্ম। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে সড়ককে নিরাপদ করার লক্ষ্যে আন্দোলন করে আসছে। আজ পাঠক আপনাদের সামনে তুলে ধরব সেদিন কি ঘটেছিলো সেই বান্দরবানে। আপনারা বিভিন্য সময়ে নিরাপদ নিউজের কাছে জানতে চেয়েছেন চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হবার সেই দিনটিতে ইলিয়াস কাঞ্চন কোন সিনেমার সুটিংয়ে বান্দরবান অবস্থান করছিলেন। আজ আপনাদের প্রিয় তারকার কিছু স্মৃতি চারণ তুলে ধরা হলো যেখানে আপনারা খুজে পাবেন আপনাদের অসংখ অজানা প্রশ্নের উত্তর…

ilias

”জাহানারা ছিল আমার সব সময়ের বন্ধু। আমি কী খাব, কী করব, আমার চুলের স্টাইল কী হবে—সবকিছু ও খেয়াল করত। এমনকি আমার পায়ের নখটাও ঠিক করে দিত। আমি যেসব ছবিতে অভিনয় করতাম, চেষ্টা করতাম ওকে নিয়ে ছবিগুলো দেখার। কাজের চাপে আমি যে ছবিগুলো দেখতে পারতাম না, সেগুলো ওকে দেখার অনুরোধ করতাম। সে-ও দেখে এসে আমাকে বলত, ওই জায়গাটা খুব সুন্দর হয়েছে, কিন্তু ওইটা ভালো হয়নি। ও ছিল আমার সত্যিকারের সমালোচক। যা বললে আমার জন্য উপকার হতো, তা-ই করত।

একবার আমি মেকআপ ছাড়া টেলিভিশনে একটা সাক্ষাৎকার দিয়েছিলাম। বিষয়টা খেয়াল করার পর সে ওই সাক্ষাৎকার আবার দিতে বাধ্য করেছিল। জাহানারা আমাকে প্রচণ্ড বিশ্বাস করত। তার চোখের আড়াল হতে দিত না। আমি যখন কোনো ছবির শুটিংয়ে ঢাকার বাইরে থাকতাম, সেখানে গিয়ে হাজির হতো। আমিও চেষ্টা করতাম আমার শুটিং শেষ হলে তাকে নিয়ে বাইরে কোথাও ঘুরতে যেতে। শুটিং শেষ হওয়ার আগেই তাকে বলে রাখতাম, তুমি রেডি থেকো। আমাদের মধ্যে এ রকমই সম্পর্ক ছিল। অনেক ভালোবেসে ১৯৭৯ সালের ২২ জুলাই জাহানারাকে আমি বিয়ে করি। আমাদের সংসার ছিল দারুণ সুখের।

আমার জীবনে এমনটা হবে কখনোই ভাবিনি। ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর বান্দরবানে আমি ‘দুর্নীতিবাজ’ সিনেমার শুটিং করছিলাম। এটি ছিল সেখানে আমার দ্বিতীয় ছবির শুটিং। প্রথম ছবির শুটিং করতে গিয়ে বান্দরবানের প্রেমে পড়ে যাই। তাই এই ছবির শুটিংয়ের সময় জাহানারাকে অনুরোধ করি সেখানে যাওয়ার। আমার কথামতো সে-ও দুই বাচ্চা ইমা ও জয়কে একটি ভাড়া করা গাড়িতে করে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পটিয়ার গাছবাড়িয়া এলাকায় যাওয়ার পর দুর্ঘটনা ঘটে। মর্মান্তিক সেই সড়ক দুর্ঘটনায় জাহানারা আমাদের ছেড়ে চলে যায়।

জয়ের বয়স তখন চার বছর আর ইমার ছয়। আসলে আমি বোঝাতে পারব না সে সময়কার পরিস্থিতি। সে সময় আমি শুটিং থেকে বাসায় ফিরেই দেখতাম ইমা ও জয় কেউই ঘুমায়নি। দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকত। আমাকে দেখে দৌড়ে কোলে আসত। প্রায়ই আমাকে জয় ও ইমা প্রশ্ন করত, ‘আম্মুকে সঙ্গে নিয়ে আসোনি কেন?’ আমি কিছু বলতে পারতাম না। সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোনো ভাষা আমার জানা ছিল না। একদিন বাসায় ফিরে শুনতে পেলাম, জয় খেলতে গিয়ে পড়ে খুব ব্যথা পেয়েছে। তাকে টেনে তোলার কেউ ছিল না। সান্ত্বনা দেওয়ার তো নয়ই। আমি যখন বাসায় ফিরলাম, দুজনেই দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। আবারও বলল, ‘আম্মুকে নিয়ে আসোনি কেন?’

ইমা আমাকে সেদিন বলল, জয় জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বলছিল, ‘আল্লাহ, তুমি আমার আম্মুকে ফিরিয়ে দাও। আমাদের তো আদর করার কেউ নাই।’ এ কথা শুনে সান্ত্বনা দিতে পারিনি। আমার মুখে কোনো ভাষা ছিল না। আমি তখন সিদ্ধান্ত নিলাম ইমা ও জয়কে মায়ের আদর-স্নেহ দিয়ে মানুষ করব। সিনেমা থেকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্তটাও নিয়ে নিলাম। তখন আমি কিন্তু সুপারস্টার। দিনে আঠারো ঘণ্টা আমাকে কাজ করতে হতো। আমার বাড়িতে প্রযোজক, পরিচালক, শুভানুধ্যায়ীরা এলেন। তাঁরা আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন। শান্তনা দিলেন। একজন সাংবাদিক আমাকে বললেন, ‘ইলিয়াস সাহেব, আপনি আপনার স্ত্রীকে ভালোবাসেন। তাই চলচ্চিত্র থেকে বিদায় নিতে চাচ্ছেন। কিন্তু আপনি কি জানেন এ দেশের কোটি কোটি মানুষ আপনাকে ভালোবাসে। আপনি যখন সিনেমায় কাঁদেন, এই মানুষগুলোও কাঁদে। আপনি যখন হাসেন, এই মানুষগুলো হাসে। আপনি যখন অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন, এই মানুষগুলো হাততালি দেয়। আপনার সমর্থন করে। সে মানুষগুলোকে আপনি ছেড়ে যাবেন? এই মানুষগুলোও তো সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে। আপনি আপনার স্ত্রীকে বাঁচাতে পারেননি, আপনি কি এই মানুষগুলোকে বাঁচাতে পারেন না?’

তার এই কথাটা আমাকে বেশ নাড়া দেয়। পনেরো দিন ধরে ভাবলাম। এরপর আমি একটা সীদ্ধান্ত নেই এই মানুষগুলোর জন্য আমি কিছু একটা করব। আমার সীদ্ধান্তের কথা আমার সহকর্মীদের বললাম, কেউ সমর্থন দেয়নি  তখন। আমার সীদ্ধান্তের কথা শুনে বরং অনেকে এ-ও বললেন, আমি কিছুদিনের মধ্যে হিরো থেকে জিরো হয়ে যাব। আমি বলছিলাম, যে মানুষগুলোর জন্য আজ আমি হিরো সে মানুষগুলোর জন্য কাজ করতে গিয়ে যদি জিরো হয়ে যাই, তাতে আমার কোনো আফসোস নাই। আমি তাদের জন্যই কাজ করে যাব। যারা সমর্থন দিয়েছে, তাদের নিয়ে আমি রাস্তায় নেমে এলাম। ‘পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়’ স্লোগান নিয়ে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন শুরু করলাম। আজ ২৩ বছর ধরে আমি আমার সংগঠনের সবাইকে নিয়ে এই সংগ্রামটা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনাটা যে হারে কমানো উচিত, সে হারে কমেনি।”

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn5Digg thisShare on Tumblr0Email this to someonePin on Pinterest0Print this page

comments

Bangla Converter | Career | About Us