সংবাদ শিরোনাম

২৮শে মার্চ, ২০১৭ ইং

00:00:00 বুধবার, ১৫ই চৈত্র, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ , বসন্তকাল, ১লা রজব, ১৪৩৮ হিজরী
জীবনযাপন, রাজশাহী ফজলুর ভরসা শুধু এক পা: তবুও থেমে নেই তিনি…

ফজলুর ভরসা শুধু এক পা: তবুও থেমে নেই তিনি…

পোস্ট করেছেন: Nsc Sohag | প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১৩, ২০১৭ , ৬:৪৪ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জীবনযাপন,রাজশাহী

প্রবল ইচ্ছা শক্তি মাধ্যমে প্রতিবন্ধীকতাকে হার মানিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ফজলু

১৩ মার্চ ২০১৭, নিরাপদ নিউজ : জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী ফজলুর রহমান। দুটি হাত ও একটি পা নেই তার। এক পা দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে চলাফেরা করতে হয়। তবুও থেমে নেই ফজলুর রহমান। প্রবল ইচ্ছা শক্তি মাধ্যমে প্রতিবন্ধীকতাকে হার মানিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ফজলুর রহমান। ইতোমধ্যে পা দিয়ে লিখেই পিএসসিতে ২.১৭ ও জেএসসিতে ৩.৭৫ গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

বর্তমানে  ফজলুর রহমান সিরাজগঞ্জের বেলকুচির মিটুয়ানী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। ফজলুরের বাবা সাহেব আলী পেশায় একজন দিনমজুর। বাড়ি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে। প্রতিদিন বাড়ি থেকে ৩ কিমি দূরে স্কুলে এক পা দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু অর্থাভাবে সেই পড়াশোনাও এখন বন্ধের পথে।

প্রতিবন্ধী ফজলুর রহমান জানান, তিন কিলোমিটার দূরত্বের স্কুলে এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে যাতায়াত করি। স্কুলে যাতায়াতের পথে ছোট বোন প্রতিদিন আমার বই বহন করে নিয়ে যায়।

যে দিন সে স্কুলে না যায়, সেদিন বই বহনের কউ না থাকায় আমার স্কুলে যাওয়া হয় না। কারণ আমরা ভাই- বোন দু’জন একই স্কুলে পড়ি। আবার যেদিন বৃষ্টি হয়, সেদিন স্কুলে যেতে পারি না। প্রতিদিনের সকল প্রয়োজনীয় সব কাজ মা করে দেন। লেখাপড়া শেষ করে প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে কাজ করার প্রবল ইচ্ছা এই কিশোরের। কিন্তু অর্থাভাবে সেই পড়াশোনাই এখন বন্ধের পথে। বিত্তবানদের সহায়তায় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায় এই প্রতিবন্ধী কিশোর।

দিনমজুর পিতা সাহেব আলী বলেন, আট সদস্যের সংসার। চার মেয়ের মধ্যে তিন জনের বিয়ে হয়েছে। বড় ছেলে তাঁতের কাজ করে। প্রতিদিন যা রোজগার করি তা দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর। ফজলু লেখাপড়া ভালো করলেও টাকার অভাবে প্রয়োজনীয় অনেক বই কিনে দিতে পারি না। ওর নামে প্রতিবন্ধী কার্ড আছে, সেখান থেকে যা সহায়তা পাওয়া যায় তা ওর লেখাপড়ার কাজে লাগে।

প্রতিবন্ধী ফজুলর মা সারা খাতুন বলেন, ২০০০ সালের ফজলু বিকলাঙ্গ অবস্থায় জন্ম নেয়। স্বামী-স্ত্রী কেউ লেখাপড়া জানি না। ছোট মেয়ে আসমা ফজলুকে স্কুলে আনা নেয়া ও লেখাপড়ায় সহায়তা করে। ফজলুর দু’হাত ও এক পা না থাকলেও এক পা দিয়েই ভাত খাওয়া, টিউবওয়েলের পানি উত্তোলনসহ কিছু কিছু কাজ সে নিজেই করতে পারে।

স্থানীয় মিটুয়ানী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কৃষি) আইয়ুব আলী জানান, ২০১৪ সালে ফজলু এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সে লেখাপড়ায় ভালো, স্মরণ শক্তিও ভাল।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল হাসান জানান, ফজলুর রহমান আবেদন করলে স্কুলে বিনা বেতনে অধ্যায়ণ, সরকারের ভিজিডি-ভিজিএফ-ঘর না থাকলে ঘরের ব্যবস্থা, হুইল চেয়ার ও এককালীন অনুদান সহ সামাজিক-অর্থনৈতিক সকল প্রকার সহযোগিতা করা হবে।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn1Digg thisShare on Tumblr0Email this to someonePin on Pinterest0Print this page

comments

Bangla Converter | Career | About Us