সংবাদ শিরোনাম

২৯শে মার্চ, ২০১৭ ইং

00:00:00 বুধবার, ১৫ই চৈত্র, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ , বসন্তকাল, ২রা রজব, ১৪৩৮ হিজরী
চট্টগ্রাম, নারী ও শিশু সংবাদ দুই শিশুর মায়াও বাঁধতে পারেনি জঙ্গিদের

দুই শিশুর মায়াও বাঁধতে পারেনি জঙ্গিদের

পোস্ট করেছেন: Nsc Sohag | প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১৮, ২০১৭ , ৯:৫০ অপরাহ্ণ | বিভাগ: চট্টগ্রাম,নারী ও শিশু সংবাদ

দুই শিশুর মায়াও বাঁধতে পারেনি জঙ্গিদের

শফিক আহমেদ সাজীব, ১৮ মার্চ ২০১৭, নিরাপদ নিউজ : ফুটফুটে শিশু মুসলেনকে দেখে সবাই মুগ্ধ । তার গোলগাল ফর্সা চেহারাটি এতই মায়াবী যে, একনজর দেখে যে কারোরই কোলে নিয়ে স্নেহ করতে ইচ্ছে করে। সবচেয়ে আকর্ষনীয় তার নিষ্পাপ হাসিটা। যা এককথায় অতুলনীয়। মুহূর্তেই উপস্থিত সবার মন জয় করতে পারে নিষ্পাপ সেই হাসি। আর যাকে দেখে অপরিচিত সব মানুষের মনের এই অবস্থা সেই শিশুটিকে পেয়ে তার মা-বাবার ভেতরে কত স্নেহ ভালোবাসার উদ্রেক হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ৬/৭ মাস বয়সী এই শিশু মুসলেনের সুন্দর পবিত্র মুখ, হাসি, সরলতা কোন কিছুই আটকাতে পারেনি তার মা-বাবাকে। তাই তো মুসলেনের ভবিষ্যত নিয়ে একবারও না ভেবে তারা হয়ে গেছেন জঙ্গি। দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গি কার্যকলাপে জড়িয়ে থাকার পর গত বুধবার সীতাকুণ্ড পৌরসদরের আমিরাবাদের সাধন কুঠির থেকে ধরা পড়েন তারা। জঙ্গি জসিম উদ্দিন ও আকলিমা এই শিশু মুসলেনের পিতা-মাতা। সেদিন সাধন কুঠিরের মালিক ও তার প্রতিবেশিরা যখন পিস্তল, আত্মঘাতী বোমাসহ মুসলেনের বাবা-মা’কে আটক করে তখন মায়ের কোলেই ছিলো শিশুটি। জনতার হাতে ধরা পড়ার সময় নিজের কোমরে আতঘাতী বোমা যুক্ত বেল্টটি পরে এই শিশুকে কোলে নিয়েই সেটি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতহত্যা করতে চেয়েছিলেন মুসলেনের মা আকলিমা! যদিও এলাকাবাসী তাকে জোর করে ধরে রেখে আত্মঘাতী বোমার সুইচ টিপতে না দেওয়ায় শিশুটির প্রাণ বেঁচে যায়। আকলিমা যদি আত্মঘাতী বোমাটি বিস্ফোরণ ঘটাতে পারত তাহলে শিশুপুত্রসহ সে নিজে, তার স্বামী জসীম ও উপস্থিত সবাই নিশ্চিতভাবেই মারা পড়ত। শুধু তাই নয়, এসময় জনতার হাতে আটক মুসলেনের বাবা জসিম উদ্দিনও কয়েকবার আকলিমাকে জড়িয়ে ধরে আত্মঘাতী বোমাটি বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তাকেও এক যুবক শক্ত করে ধরে রাখায় সে চেষ্টা বিফলে যায়। এ ঘটনাটি উপস্থিত সবার মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ঘটনার সময় মুসলেনের মা আকলিমাকে আটকে রাখা প্রতিবেশি মুক্তি দে বলেন, আমি আশ্চর্য্য হয়ে যাচ্ছি, কি করে মা একটি নিষ্পাপ শিশুকে কোলে নিয়ে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটাতে যেতে পারেন ? আমার চোখের সামনে দিয়ে আকলিমা আত্মঘাতী হয়ে চেয়েছে শিশুটিকে নিয়ে। এমনকি শিশুটির বাবা জসীম উদ্দিন কয়েকবার স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে আত্মঘাতী বোমার সুইচ টিপতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, এমন একটি ফুটফুটে শিশুর মায়াও তাদের জঙ্গি কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখতে পারেনি। তারা কেমন মা-বাবা ? যারা নিজ হাতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজের নিষ্পাপ শিশুটিকে পর্যন্ত হত্যা করতে এগিয়ে আসে! বুধবার বিকালে ঐ ঘটনার সময় খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড থানার পুলিশ এসে শিশু মুসলেনের জঙ্গি বাবা-মা জসিম ও আকলিমাকে গ্রেপ্তার করে মুসলেনকেসহ থানায় নিয়ে যায়। গতকাল শুক্রবার এই ফুটফুটে শিশুটিকে কোলে নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে আসেন সীতাকুণ্ড থানার এস.আই রেহানা আক্তার। এসময় সবাই তাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে যান। এস আই রেহানা আক্তারও ঘটনার বর্ণনা টেনে বলেন, কিভাবে এমন একটি শিশুকে নিয়ে তারা মরতে চেয়েছিলো ভাবতে অবাক লাগে। এমন ফুটফুটে শিশুর মুখ তো যেকোন মা-বাবাকে আরো বেশিদিন বাঁচার স্বপ্ন দেখায়। কিন্তু কোন অদৃশ্য মন্ত্র বলে তারা সব মায়া মমতা বিসর্জন দিয়েছেন সে প্রশ্নই এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে ফিরছে। অপরদিকে আমিরাবাদে মর্মান্তিক আত্মঘাতের ঘটনা না ঘটলেও বৃহস্পতিবার পৌরসদরের প্রেমতলা চৌধুরীপাড়ার ছায়ানীড় নামক বাড়িটি থেকে কিন্তু একই বয়সী শিশুটিকে রক্ষা করা যায়নি। সেখানে জঙ্গি আস্তানার হদিস পাওয়ার পর পুলিশ বারবার মাইকিং করে জঙ্গিদের আত্ম সমর্পণ করতে বললেও তাতে কোন কর্ণপাত করেনি তারা। শেষ পর্যন্ত জঙ্গি নির্মুলে সেখানে অভিযান পরিচালনা করলে আত্মঘাতী হয়ে এবং সোয়াতের গুলিতে ৪ জঙ্গি ও এক শিশু নিহত হয়। ধারণা করা হচ্ছে নিহত নারী জঙ্গির পুত্র ও শিশুটি। এই শিশুটির বয়সও মাত্র ৬/৭ মাস। বৃহস্পতিবার রাতে ছায়া নীড় থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধারের সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের অনেকেই শিশুটির জন্য আপসোস করতে থাকেন। ফুটফুটে নিষ্পাপ ঐ শিশুটিকে এই অকালেই চলে যেতে হলো তার বা-মায়ের কারণেই। যা সর্বমহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। আমিরাবাদে উদ্ধার মুসলেন ও চৌধুরীপাড়ায় নিহত অজ্ঞাত পরিচয় শিশুটিকে দেখে সবার মুখে একটিই প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসছে- যে এমন দুটি নিষ্পাপ শিশুর মুখও কোন মায়ায় বাঁধতে পারেনি তাদের মা-বাবাকে ? সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. ইফতেখার হাসান বলেন, তাদের ভেতরে যদি এই অনুভুতি, স্নেহ, মায়া-মমতা থাকত তাহলে তারা অন্য মা-বাবাদের মতই শিশুকে কোলে নিয়ে বাঁচাতে চাইত। কোন অবস্থাতেই তাকে মারতে চাইত না। কিন্তু এ ঘটনাই প্রমাণ করে যে তারা অন্যদের মত স্বাভাবিক না।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Digg thisShare on Tumblr0Email this to someonePin on Pinterest0Print this page

comments

Bangla Converter | Career | About Us