সংবাদ শিরোনাম

২৮শে মার্চ, ২০১৭ ইং

00:00:00 বুধবার, ১৫ই চৈত্র, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ , বসন্তকাল, ১লা রজব, ১৪৩৮ হিজরী
সম্পাদকীয় সামাজিক ঐক্য চাই বখাটেদের প্রতিরোধে

সামাজিক ঐক্য চাই বখাটেদের প্রতিরোধে

পোস্ট করেছেন: Nsc Sohag | প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১৯, ২০১৭ , ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

নিরাপদ নিউজ: দেশে বখাটেদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাইতেছে উদ্বেগজনকভাবে। সামাজিক অনৈক্য ও বিশৃঙ্খলার সুযোগ লইয়া তাহারা দিন দিন বেপরোয়া হইয়া উঠিতেছে। পারিবারিক ও সামাজিক শাসনের অভাবে ইহা প্রতিরোধ করা কঠিন হইয়া পড়িতেছে। গত মঙ্গলবারের একটি ঘটনা। ঘটনাটি ঘটে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায়। এখানকার পূর্ব ডেঙ্গাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঢুকিয়া শিক্ষার্থীদের সম্মুখেই একজন শিক্ষিকাকে লোহার শাবল দিয়া এলোপাতাড়ি পিটাইতে থাকে এক বখাটে। বর্তমানে ওই শিক্ষিকা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলায় তাহার দুই হাত ভাঙিয়া গিয়াছে। এই ঘটনার পর স্কুলটিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমিয়া গিয়াছে মারাত্মকভাবে। ক্লাসরুমে শিক্ষকের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। আমরা ইহার তীব্র নিন্দা জানাই। পাশাপাশি স্কুলটিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নিরাপত্তা দাবি করি। দাবি করি গ্রেফতারকৃত ও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরিত আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও। আমাদের দেশে বখাটেদের নারী উত্ত্যক্ত করিবার ঘটনা নজরে আসে গত শতকের আশির দশকের দিকে। বর্তমানে এই সামাজিক ব্যাধিটি ধারণ করিয়াছে ভয়াবহ আকার। স্কুলছাত্রী হইতে শুরু করিয়া তরুণী, এমনকি কর্মজীবী নারীদের রাস্তাঘাটে, এলাকায়, স্কুল-কলেজের সামনে পথ আগলাইয়া ধরিয়া টিটকারী, অশালীন অঙ্গভঙ্গিসহ নানাভাবে উত্ত্যক্ত করিতেছে বখাটেরা। এখন তাহারা এই কাজে মোবাইল, ফেসবুকসহ নানা প্রযুক্তিরও ব্যবহার করিতেছে। অধিকাংশ সময় এইসব ঘটনার প্রতিবাদ জানাইলে ফল হয় উল্টা। বখাটেরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এলাকার প্রভাবশালীদের সন্তান হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা তাহাদের বিরুদ্ধে নালিশ করিবারও সাহস পায় না। অনেক সময় অভিযোগ করিলেও হুমকি কিংবা প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে নীরবে ফিরিয়া আসিতে হয় অভিভাবকদের। ফলে অনেক সময় বাধ্য হইয়া স্কুল-কলেজে আসা-যাওয়া বন্ধ করিয়া দেয় ছাত্রীটি। কখনো কখনো তাহাকে বাল্যবিবাহের শিকার হইতে হয় বা অপমান-অভিমানে দিতে হয় আত্মাহুতি। কখনো কখনো প্রতিবাদ করিতে গিয়া সে বা তাহার আত্মীয়-স্বজন হামলার শিকার হয়। দিতে হয় প্রাণও। বাধা না পাওয়ায় বা বিচার না হওয়ায় বখাটেরা এভাবেই অপ্রতিরোধ্য হইয়া উঠিতেছে। সাধারণত যাহারা বখাটেপনা করে, তাহারা হয় ধনীর দুলাল কিংবা কোনো পরিবারে অনাদরে বাড়িয়া ওঠা, বেকারত্বের শিকার বা মাদকাসক্ত কোনো তরুণ। আলোচ্য ঘটনায় হামলাকারী মাদকাসক্ত বলিয়া জানা যায়। ইহাছাড়া বখাটে হইতে পারে কোনো বিকৃত মন-মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিও। বিশেষজ্ঞদের মতে, বখাটেপনার সহিত মূল্যবোধ, সামাজিক অবক্ষয়, প্রকৃত শিক্ষা ও সুস্থ সংস্কৃতির অভাব, বৈষম্য এবং হতাশা ইত্যাদি জড়িত। তাই তাহাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এই সামাজিক ব্যাধি হইতে পরিত্রাণ পাইতে হইলে মূল্যবোধের অবক্ষয় দূর করা প্রয়োজন। ফিরাইয়া আনা প্রয়োজন সামাজিক অনুশাসন। বখাটেপনাসহ সকল অন্যায়-অপকর্মের বিরুদ্ধে দরকার সামাজিক ঐক্য। এইজন্য কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আস্থাভাজন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা যাইতে পারে। এই ব্যাপারে জনসচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn1Digg thisShare on Tumblr0Email this to someonePin on Pinterest0Print this page

comments

Bangla Converter | Career | About Us