সংবাদ শিরোনাম

২৮শে মার্চ, ২০১৭ ইং

00:00:00 বুধবার, ১৫ই চৈত্র, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ , বসন্তকাল, ১লা রজব, ১৪৩৮ হিজরী
কৃষি, বরিশাল পচন লেগেছে তরমুজে: ক্ষেত শুকিয়ে মরছে গাছ

পচন লেগেছে তরমুজে: ক্ষেত শুকিয়ে মরছে গাছ

পোস্ট করেছেন: Nsc Sohag | প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১৯, ২০১৭ , ৭:০২ অপরাহ্ণ | বিভাগ: কৃষি,বরিশাল

পচন লেগেছে তরমুজে ক্ষেত শুকিয়ে মরছে গাছ

কামরুল হাসান, ১৯ মার্চ ২০১৭, নিরাপদনিউজ: অসময়ে লঘুচাপের প্রভাবে ভারি বর্ষণের পানি নেমে গেলেও পটুয়াখালীর বাউফলের চরে তরমুজ চাষে বিপর্যয় ঠেকানো যাচ্ছে না। সচেতনদের ধারণা উপরন্ত মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক আর হরমোনের ব্যবহারে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে সাধারন ও সংশ্লিষ্টদের।পচন রোধ করে গাছ চাঙ্গা করতে সিনজেনটার গ্রোজিন, ম্যাগমা, ক্যারাটে, থিউবিট, ভার্টিমেঘ ও স্কোরের মতো ভিটামিন (হরমোন) কিংবা কীটনাশকের ব্যাবহারেও কাজ হচ্ছে না। পচন লেগেছে তরমুজে। পানি নেমে গিয়ে ক্ষেত শুকাতে শুরু করলে মাটিতে চাপ ধরে মরছে গাছ।  বিচ্ছিন্ন চন্দ্রদ্বীপের খেয়াঘাটের দক্ষিন পাশের চরে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক রুহুল আমিন বয়াতি ২০ একর জমিতে ড্রাগন জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। আর মাত্র ১২-১৪ দিন পরেই ক্ষেত থেকে তরমুজ কাটা শুরু করবেন তিনি। ঠিক এই মুহুর্তে ভারিবর্ষণে সর্বনাশ হয়েছে তার। আজ শনিবার তার ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায় তরমুজ গাছ চাঙ্গা করতে লোকজন নিয়ে প্লাস্টিকের ড্রামভর্তি পানিতে হরমোন (সিনজেনটার গ্রোজিন, ম্যাগমা) ও ওষুধ মিশিয়ে গাছের মাদায় মাদায় ঢেলে দিচ্ছেন তিনি। পানি নেমে ক্ষেতের বালুমাটি শুকাতে থাকায় চাপ ধরে ফল বড় হতে থাকা গাছ শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে মরে যাচ্ছে। বাড়ন্ত তরমুজেও ধরেছে পচন। মলিন মুখে পচা ফল ও শুকিয়ে থাকা গাছ তুলে ধরেন তিনি। একই অবস্থা পাশের ডিয়ারা কচুয়ার ইসমাইল ব্যাপারির ৫ একর, জামাল মাঝির সাড়ে ৪ একর, বাতির খাল এলাকার জিন্নাহ হাওলাদারের ৩০ একর, সেলিম হাওলাদারের ১০ একর, খাইরুন হাওলাদারের ৭ একরে চাষ করা তরমুজের। চরওয়াডেলের পাঁচখাজুরিয়া ও চর কচ্ছবিয়ায় মোট ১০ একর জমিতে বাঙ্গি, ক্ষীরা এবং তরমুজ চাষ করেছেন বাকলা তাঁতেরকাঠি গ্রামের ফিরোজ চৌধুরী। প্রতি ১শ’ গ্রাম ২২০ টাকা দরে সিনজেনটার ড্রাগন জাতের বীজ সংগ্রহ করে ছয় হাজার মাদায় ১২ হাজার তরমুজ গাছ লাগান তিনি। ইতোমধ্যে ক্ষীরা, তরমুজ ও বাঙ্গি বড় হতে শুরু করছিল। তিনি জানান, বীজ সংগ্রহে গত বছরের মতো সিন্ডিকেটের কারসাজি না থাকলেও দাম বেশি ছিল। আগের বছর ১ হাজার ৮৫০ টাকায় পাওয়া গেলেও একই পরিমান বীজ কিনতে হয়েছে এ বছর দুই হাজার ২০ টাকায়। ফলন ভাল পাওয়ায় এবছর এক একর ক্ষীরা, দুই একর বাঙ্গিসহ মোট দশ একরে তরমুজের চাষ করেন তিনি। ধান চাষে লাভ না হওয়ায় রবিফসলেই ঝুঁকছে কৃষক। কিন্তু দিন দিন কৃষিতেও বাড়ছে বিপদ-আপদ। ভারিবর্ষণে সর্বনাশ হয়েছে তার উল্লেখ করেন। অতিজোয়ার আর লবন পানির হানা এবং একই জমিতে বারবার কীটনাশক কিংবা সার-ওষুধ ব্যাবহারের কারণে নিজ এলাকার জমিতে আগেরমতো এখন আর তরমুজের ভাল ফলন না পেয়ে দীর্ঘ দশ বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একই চরে তরমুজ চাষ করেছেন পাশের ভোলা জেলার চরকলমির চাষি বাবুল খা। লিজ নেওয়া তার পাঁচ একর জমিতে ইউনাইটেডের বিগফ্যামেলি, জাগুয়ার ও ড্রাগন জাতের তরমুজের ফলও বড় হচ্ছিল মাত্র। ফল বড় হচ্ছিল তাঁতেরকাঠি গ্রামের রাধু মৃধার দুই একর জমির ব্লাকমাস্টার ও ড্রাগন জাতের তরমুজের। প্রতি মাদায় ১২ গ্রাম এমওপি, ৫-৭ গ্রাম ইউরিয়া, ১শ’ ৭০ গ্রাম টিএসপি, ১৫ গ্রাম ড্যাবসহ গ্রোজিন, সিনজেনটার ক্যারাটে, ম্যাগমা, থিউবিট, ভার্টিমেঘ ও স্কোরের মতো কীটনাশক ব্যাবহার করছিলেন। সব মিলে মাদা প্রতি ইতিমধ্যে ৮৫-৯০ টাকার মতো খরচ হয় তার। পাশের উপজেলা রাঙ্গাবালী থেকে আসা কয়েক চাষির সঙ্গে চর ঈশানে ১৫ একর জমিতে তরমুজের চাষ করেছিলেন নুরাইপুরের চাষি মিন্টু বিশ্বাস। ফাল্গুনের শুরুতে ঘনকুয়াশার দু:চিন্তা কাটিয়ে উঠতেই ভারিবর্ষনের মতো বৈরী আবহাওয়া না হলে তরমুজের বাম্পার ফলনের আশা ছিল তার। কিন্তু আবাদ বৃদ্ধি আর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা তৈরী হলেও এসব চাষিদের মতো ভারি বর্ষণে বিভিন্ন রবিফসলের সঙ্গে চরকচ্ছবিয়া, পাঁচ-খাজুড়িয়া, রায়সাহেবের চর, চরনিমদী, চরঈশান, বাসুদেবপাশা, অমরখালী, চন্দ্রদ্বীপের বাতিরখালসহ বিভিন্ন চরের তরমুজ চাষিদের সর্বনাশ হয়।
চন্দ্রদ্বীপের রুহুল আমিন বয়াতি বলেন, ‘১২-১৩ লক্ষ টাকা খরচ করছি। কোম্পানির মাইনষের কতায় দেওইর (বৃষ্টিপাত) পর গাছ চাঙ্গা করনের লইগ্যা গ্রোজিন, ম্যাগমা, ক্যারাটে, থিউবিট, ভার্টিমেঘ, স্কোর এসব ভিটামিন (হরমোন) ওষুধ দিছি। হ্যাতে কোন উপকার অয় নাই। তরমুজে পচনও লাগজে আবার ক্ষ্যাতের মাডি হুগাইয়া চাপ ধইরগ্যা গাছও মরছে। আল্লায় জানে কি অইবে আমাগো মতো তরমুজ চাষিগো।’ কৃষি অফিসের লোকজন খোজ-খবর নেন উল্লেখ করেছেন তিনি।  পৌর সদরের ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক অহিদুজ্জামান সুপন বলেন, ‘সুবিধা নিতে ভারিবর্ষণের পরে বিভিন্ন কোম্পানির লোকজন তরমুজে কীটনাশক আর হরমোনের ব্যবহারের কথা বলতে পারেন। এতে তরমুজ গাছের কোন উপকার নেই উপরন্তু স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে সাধারন ও সংশ্লিষ্ট উভয়েরই।’  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সারোয়ার জামান বলেন, ‘কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফ্যালন, মুগ ভূট্টা, খেসারি, আলু, চিনাবাদাম, মরিচসহ বিভিন্ন রবি ফসলের সঙ্গে ৭৫ হেক্টরে ক্ষীরা, ৮০ হেক্টর বাঙ্গি ও ১৫০ হেক্টরে তরমুজের চাষ হয় বিভিন্ন চরে। বৃষ্টিপাতে তরমুজসহ চরের নীচু জমির এসব রবিফসলের ক্ষতি হয়। তবে এব্যাপারে তরমুজ চাষিদের নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn2Digg thisShare on Tumblr0Email this to someonePin on Pinterest0Print this page

comments

Bangla Converter | Career | About Us