সংবাদ শিরোনাম

২৯শে মার্চ, ২০১৭ ইং

00:00:00 বুধবার, ১৫ই চৈত্র, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ , বসন্তকাল, ২রা রজব, ১৪৩৮ হিজরী
সম্পাদকীয় বাড়ছে আত্মঘাতী হামলা

বাড়ছে আত্মঘাতী হামলা

পোস্ট করেছেন: Nsc Sohag | প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ২০, ২০১৭ , ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

নিরাপদ নিউজ : চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে দুটি জঙ্গি আস্তানায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পরদিন শুক্রবার আশকোনায় র‌্যাবের ব্যারাকে আত্মঘাতী হামলা, এরপর রাত না পেরোতেই র‌্যাবেরই এক তল্লাশি চৌকিতে সন্দেহভাজন অস্ত্রধারীর হানার ঘটনা উদ্বেগজনক। মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামিক স্টেট-আইএস ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ার পর থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে, চরমপন্থীরা দক্ষিণ এশিয়াসহ নতুন নতুন অঞ্চলে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড জোরদার করবে।

ভারতের তাজমহল উড়িয়ে দেওয়ার হুমকির কথা জানাজানির এক দিনের মধ্যেই গতকাল শনিবার আগ্রার অন্তত দুটি স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় আমাদের অবশ্যই আগের চেয়েও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। নিরাপত্তা বাড়াতে হবে স্পর্শকাতর স্থানগুলোর।

গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার পর কিছুদিন পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীলই ছিল। কয়েক দিন আগে জঙ্গিবাহী প্রিজন ভ্যানে হামলা চালানো হয়। এরপর সন্ধান মেলে একাধিক জঙ্গি আস্তানার, আর তার পরপরই র‌্যাবের মতো অভিজাত বাহিনীর দপ্তর বা চৌকিতে হামলা লক্ষ করা হয়েছে। চরমপন্থীদের এই বেপরোয়া মনোভাবকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে সাধারণ জনগণকেও।

মাঝেমধ্যে দু-একটি জঙ্গি আস্তানার খোঁজ যে মিলছে, এ থেকে স্পষ্ট আরো অনেক বাসা বা বাড়িতে জঙ্গিরা আত্মগোপন করে হামলার নতুন নতুন ছক কষে চলেছে। বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। সন্দেহ হলে নিকটস্থ চৌকি বা থানায় খবর দিতে হবে।

সন্ধান বা সংবাদদাতার নিরাপত্তার বিষয়টিও ভুলে যাওয়া চলবে না। আশকোনার আত্মঘাতী হামলার পর আইএস এর দায় স্বীকার করেছে। গুলশান হামলার পরও একই দাবি করা হয়েছিল।

বিচ্ছিন্নভাবে হামলার পর এ থেকে ফায়দা লুটতেই আইএস দাবি করার কৌশল নিয়েছে, নাকি হামলাগুলো সংঘবদ্ধ নীলনকশারই ফসল, তা গভীরভাবে অনুসন্ধান প্রয়োজন। হীন রাজনৈতিক স্বার্থে স্থানীয় কোনো মহল জঙ্গিদের পেছন থেকে উসকে দিচ্ছে কি না, জঙ্গি কর্মকান্ডে অর্থ ও অস্ত্রের উৎসগুলো কী কীÑএসবও খতিয়ে দেখতে হবে।

গোঁড়া, ভ্রান্ত আদর্শে তাড়িত হয়ে জঙ্গিরা ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তানসহ অনেক অঞ্চলে শুধু ভিন্নমতের মানুষদের কচুকাটাই করেনি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর আঘাত হেনেছে।

জিহাদের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তারা ধর্মভীরু কিছু সরলমনা মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। জঙ্গিবিরোধী লড়াইয়ে সাফল্যের জন্য অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রশস্ত্রেরও প্রয়োজন আছে।

জঙ্গিরা ছদ্মনামে ফেসবুক, টুইটারের মতো অনলাইন সামাজিক মাধ্যমগুলোর সদস্য হয়ে নিজেদের সংগঠিত করছে। বাংলাদেশ চলতি সপ্তাহেই দাবি জানিয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট ছাড়া কাউকে ফেসবুকে নিবন্ধন করতে দেওয়া যাবে না, ফেসবুক বিষয়টি বিবেচনা করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে। সব সম্প্রদায় একতাবদ্ধ হলে, সাধারণ মানুষ সচেতন থাকলে জঙ্গি সমস্যার স্থায়ী সমাধান কঠিন হবে না।

সমাজের অস্তিত্বের স্বার্থেই বিশ্বে সব মত ও বিশ্বাসের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। জঙ্গি সমস্যা যেভাবে নতুন মাত্রা পাচ্ছে, এতে একক কোনো কৌশল পুরোপুরি কার্যকর হবে না। সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বাড়ানো দরকার আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn1Digg thisShare on Tumblr0Email this to someonePin on Pinterest0Print this page

comments

Bangla Converter | Career | About Us