ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১৯ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ৯ মাঘ, ১৪২৬ , শীতকাল, ২৬ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১

খুলনা, সড়ক সংবাদ অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলণ : তালায় প্রধান সড়কসহ বিস্তীর্ণ এলাকা ডেবে যাওয়ার আশংকা

অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলণ : তালায় প্রধান সড়কসহ বিস্তীর্ণ এলাকা ডেবে যাওয়ার আশংকা

অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলণ : তালায় প্রধান সড়কসহ বিস্তীর্ণ এলাকা ডেবে যাওয়ার আশংকা

অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলণ : তালায় প্রধান সড়কসহ বিস্তীর্ণ এলাকা ডেবে যাওয়ার আশংকা

সাতক্ষীরা, ১৭ জুন ২০১৫, নিরাপদনিউজ : পাইকগাছা-খুলনা প্রধান সড়কের তালার গোনালী এলাকার একটি আবাদি জমি থেকে অপরিকল্পিতভাবে ব্যাণিজ্যিক ভিত্তিতে অব্যাহত বালু উত্তোলণ করে স্থায়ী বালুমহল গড়ে তুলেছে স্থানীয় এক অসাধূ ব্যবসায়ী।
যার ফলে ঐ এলাকায় ব্যাপক ভুমি ধ্বসে সেখানকার বসতবাড়ী, প্রধান সড়ক, গোনালী বাজারের বহু দোকানপাঠ ডেবে যাওয়া ও পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার আশংকায় আতংকে রয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকাবাসী।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধানে প্রকাশ, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের তালা-পাইকগাছা-খুলনা প্রধান সড়কের খৈ তলার একেবারেই পাশের প্রায় ২ একর জমি লিজ নিয়ে একই এলাকার মোজাহার আলী সরদারের পুত্র জবেদ আলী সরদার অলিখি ভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বালুমহল তৈরি করে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলণ করছে।
গত প্রায় ২ বছর যাবৎ একই এলাকা থেকে অবিরাম বালু উত্তোলণে রীতিমত ঐ এলাকার সচেতন মানুষ আতংক গ্রস্থ হয়ে পড়েছে।
অভিজ্ঞ মহলের মতে একই এলাকা থেকে অবিরাম বালু উত্তোলণে বিস্তীর্ণ এলাকার মাটির স্তর নিচে নেমে ধবসে পড়তে পারে যেকোন সময়।
উদাহরণ হিসেবে তারা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, মাত্র প্রায় ২ একর জমি থেকে অদ্যাবধি যে পরিমাণ বালু উত্তোলণ করা হয়েছে প্রকৃতপক্ষে সেখানে তদরুপ গভীরতা পরিলক্ষিত হচ্ছেনা। অর্থাৎ পাশের অন্যান্য সমতল ভুমির নিচের বালুর স্তর কেটে চলে আসছে ওই এলাকায়।
এতে করে খননকৃত এলাকার পাশাপাশি পাশ্ববর্তী এলাকায় ভুমি ধ্বসে যেকোন সময় ঘটে যেতে পারে কোন বড় ধরণের দূর্ঘটনা।
বিশেষ করে একে বারেই সন্নিকটে প্রবাহিত প্রধান সড়ক যা সম্প্রতি কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে তা ডেবে যেতে পারে।
এ ব্যাপারে বালু মহলের মালিক জবেদ আলী সরদারের নিকট জানতে চাইলে তিনি অশ্লীল মন্তব্য করে বলেন, বড় বড় মহারথিরা এলো আর গেলো আমার ছিড়তে পারলনা। আমাকে কিছুই করতে পারেনি। পারলে লিখে আমার কিছু করে নিস।
এ প্রসঙ্গে ওই জমির মালিক প্রহ্লাদ সিংহ জানান, আমরা ২ বছরের জন্য জবেদকে বালু উত্তোলণ করতে লিজ দিয়েছিলাম তবে ব্যাপক ক্ষতির ব্যাপারটি ভেবে দেখিনি। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর নিকট থেকে ক্ষতির ব্যাপারটি জেনে তাকে অবগত করলেও তিনি আমাদের কথায় কর্ণপাত করছেন না।
এনিয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তদন্ত করে প্রমাণ সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ অবাধে বালু উত্তোলণ অব্যাহত রেখেছেন।
সূত্র জানায়, জবেদ আলী বিস্তীর্ণ জনপদের পর পর ২ অর্থ বছরের অন্তত ২ ডজন রাস্তা নির্মাণে সমুদয় বালু সরবরাহ করেছেন। পকেটস্থ করেছেন কোটি টাকা। বর্তমানে টাকার গরমে ধরাকে সরাজ্ঞান করে ছাড়ছেন।
এলাকাবাসী বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণে এমনকি প্রধান সড়কসহ জনপদটি নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, একই জায়গা থেকে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলণের ফলে, তাৎক্ষণিক পাশের ভুমির উপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
উত্তোলণকৃত জায়গায় যতদ্রুত সম্ভব পাশের বালুর স্তর ওই শূণ্যস্থান পূরণ করে ফেলে। এভাবে বারবার বালু উত্তোলণে আশপাশের ভুমির উপর পড়ে এর ব্যাপক প্রভাব। এভাবে চলতে থাকলে একসময় পাশের ভুমির ব্যাপক ধ্বস ও পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে।
স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে প্রতিক্রিয়া। তাদের ধারণা এ অবস্থায় ফসল উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
এ ব্যাপারে তালা উপজেলার তালা সরকারি কলেজের ভুগোল বিভাগের প্রভাষক ড. ফরিদ আহম্মেদ, তালা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কলেজের ভুগোল বিভাগের প্রভাষক মো. আ. হাদি মাহমুদ ও পাইকগাছার কপিলমুনি কলেজের ভুগোল বিভাগের প্রধান স্বপন কুমার মন্ডল জানান, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলণে ভুমি ধ্বসের পাশাপাশি ভারসাম্য হীনতায় পানির স্তর যেকোন সময় নীচে নেমে যেতে পারে।
শুধু এখানেই শেষ নয় বালু উত্তোলণ করে পাইকগাছা খুলনা প্রধান সড়কের পাশে রাখায় বাতাসেও তা উড়ে পথচারীদের বিড়ম্বনা ও উক্ত বালু সরবরাহে ব্যবহৃত বাহনের চাপে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে অহরহ।-এবিনিউজ

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)