ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ফেব্রুয়ারী ৯, ২০২০

ঢাকা শুক্রবার, ১৬ ফাল্গুন, ১৪২৬ , বসন্তকাল, ২ রজব, ১৪৪১

সম্পাদকীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে রোমের ইতিবাচক সাড়া: আইসিজের সিদ্ধান্ত ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ইতালির সমর্থন

অর্থনৈতিক উন্নয়নে রোমের ইতিবাচক সাড়া: আইসিজের সিদ্ধান্ত ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ইতালির সমর্থন

নিরাপদ নিউজ : ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ কোঁতের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চারদিনের সফর শেষে গতকাল শনিবার দেশে ফিরেছেন। প্রধানমন্ত্রী ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গেও ভ্যাটিক্যান সিটিতে সাক্ষাৎ করেন। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে গত কয়েক বছরে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ফলপ্রসূ সফরের পর দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের অগ্রগতির এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

আমরা জানি ইতালি বিশ্বের অন্যতম শিল্পোন্নত দেশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নে তাদের নেতৃস্থানীয় ভূমিকা ছাড়াও ইতালির রয়েছে উল্লেখ্যযোগ্য অর্থনৈতিক শক্তি ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করতে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও ইতালি। বাংলাদেশে যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে সেখানে ইতালির ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সফর বাংলাদেশে ইতালীয় বিনিয়োগের পথ খুলে দিলে তা হবে এক বড় অর্জন।

প্রধানমন্ত্রীর ইতালি সফর ও ঢাকা-রোম ৯ দফা যৌথ ঘোষণা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারে অবদান রাখবে বলে আশা জাগিয়েছে। দুই নেতা ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ অগ্রাধিকারমূলক শুল্কনীতির আওতায় ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেন। সফরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে ইতালির সমর্থন বাংলাদেশের জন্য এক বড় অর্জন বলে আমরা মনে করি। প্রধানমন্ত্রীর এ সফর দেশটির সঙ্গে বিরাজমান সম্পর্ক সম্প্রসারিত করার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, অভিবাসন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, এটাই প্রত্যাশা। আশা করা হচ্ছে, এর ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন আরও জোরদার হবে।

রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়ে গত ২৩ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক আদালতের (আইসিজে) সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ ও স্বাগত জানিয়েছে ইতালি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতালির কাছে আন্তর্জাতিক আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন কামনা করেছেন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী এই জরুরি মানবিক অবস্থা মোকাবিলায় বাংলাদেশের আতিথেয়তার নীতি অব্যাহত রাখা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উৎসাহ প্রদানে জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর মাধ্যমে ইতালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মাধ্যমে ১০ লাখ ইউরো সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনার ইতালি সফর ছিল নানা দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে নিপীড়নের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ইতালিসহ ইইউ দেশগুলোর জোরালো সমর্থন ও সহযোগিতা আমাদের জন্য জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর ইতালি সফর বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও মিয়ানমারকে শাস্তির সম্মুখীন করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি। উভয় নেতাই ইতালিতে ১ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের অবস্থানের কথা স্মরণ করেন, যাদের বেশির ভাগই ইতালীয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় সুসংহত। অভিবাসন ইস্যুতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সুদৃঢ় করাসহ বাংলাদেশ ও ইতালির পারস্পরিক সম্পর্ক আরো মজবুত হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)