ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ২৩ মিনিট ২২ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ৮ মাঘ, ১৪২৬ , শীতকাল, ২৫ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১

বরিশাল আদালতে কাঁদলেন রিফাতের মা ডেইজি বেগম

আদালতে কাঁদলেন রিফাতের মা ডেইজি বেগম

নিরাপদ নিউজ: বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় শিশু আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন রিফাতের মা ডেইজি বেগম ও তার চাচাতো বোন নুসরাত জাহান অনন্যা। আজ মঙ্গলবার শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান ওই দুজনের সাক্ষ্য রেকর্ড করেন। এ সময় ছেলে হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন ডেইজি বেগম।

কান্নারত অবস্থায় আদালতে রিফাতের মা ডেইজি বলেন, ‘হে আল্লাহ আমাকে আর কত পরীক্ষা করবা। আসামিরা আমার একমাত্র ছেলেকে প্রকাশ্যে নির্মম ভাবে হত্যা করে। আসামিদের দেখলেই ভিডিওতে দেখা সেই ভয়ানক কোপের দৃশ্য আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আমি কিছুতেই মানতে পারি না।’

আজ মঙ্গলবার সকালে বরগুনা কারাগার থেকে শিশু আসামি রাশেদুল হাসান রিশান ফরাজি, রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার, আবু আবদুল্লাহ রায়হান, অলি উল্লাহ অলি, জয় চন্দ্র সরকার, মো. নাঈম, তানভীর হোসেন, নাজমুল হাসান, রাকিবুল হাসান নিয়ামত, সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ ও রাতুল সিকদার জয়কে আদালতে নিয়ে আসা হয়। এ ছাড়া জামিনে থাকা প্রিন্স মোল্লা, মারুফ মল্লিক ও আরিয়ান শ্রবন আদালতে উপস্থিত হয়।

বেলা ২টায় ডেইজি বেগমের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরে সাক্ষ্য দেন রিফাতের আপন চাচাতো বোন নুসরাত জাহান অনন্যা। তিনিও আদালতে রিফাত হত্যার বর্ণনা দেন। এ দুজন সাক্ষ্যকে বেলা ৪টা পর্যন্ত আসামি পক্ষের ১০ জন আইনজীবী জেরা করেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. শাহজাহান মিয়া আমাদের সময়কে বলেন, ‘তারা যেভাবে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং আমরা যেভাবে জেরা করেছি তাতে আমার বিশ্বাস আসামিরা ন্যায় বিচার পাবেন।’

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল আমাদের সময়কে বলেন, ‘সাক্ষ্যরা যেভাবে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তাতে সকল আসামিদের সাজা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমি আশা করি রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য দিয়ে মামলা প্রমান করতে সক্ষম হবেন।’

এ ছাড়া বরগুনা দায়রা জজ আদালতে রিফাতের চাচা আবদুল আজিজ শরীফ, আবাদুস সালাম শরীফ ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইদ্রিসুল আলম লিটনের সাক্ষ্য রেকর্ড করেন বিচারক মো. আছাদুজ্জামান। আগামীকাল বুধবার সকালে একই আদালতে আরও তিনজন সাক্ষ্য দেবেন। শিশু আদালতেও আগামীকাল দুজন সাক্ষ্য দেবেন।

এদিন সকাল সাড়ে ৯ টায় বরগুনা জেলা কারাগার থেকে আটজন প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে দায়রা আদালতের সামনে উপস্থিত করা হয়। আসামিরা হলেন রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইয়ূম রাব্বি আকন, রেজোয়ানুল ইসলাম টিকটক হৃদয়, হাসান, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, সাগর, কামরুল হাসান সায়মুন ও মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত। জামিনে থাকা রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিও উপস্থিত ছিলেন আদালতে। তবে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের পরীক্ষা থাকায় দুপুর ১২টার দিকে আদালতেকর অনুমতিক্রমে বাবার সঙ্গে চলে যান মিন্নি। তার সঙ্গে রাব্বি আকন ও সাগরকেও পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দেন আদালত। সাক্ষ্য শেষে বিকাল সাড়ে তিনটায় আদালতে উপস্থিত আসামিদের ফের বরগুনা কারাগারে পাঠানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ভুবন চন্দ্র হাওলাদার আমাদের সময়কে বলেন, ‘যারা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তারা সবাই গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করে বাদী ন্যায় বিচার পাবেন।’

আসামি আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম আমাদের সময়কে বলেন, ‘আসামিরা আদালতে যেভাবে সাক্ষ্য দিয়েছে তাতে আমার মক্কেল ন্যায় বিচার পাবেন।’

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০ টায় বরগুনা সরকারী কলেজ গেটের সামনে নয়ন বন্ডের নেতৃত্বে একদল যুবক নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করে রিফাত শরীফকে। পরে ওইদিন বিকেল সাড়ে তিনটায় বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান রিফাত।

এ ঘটনায় ২৭ জুন রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ নয়ন বন্ডসহ ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ১ সেপ্টেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা দুইখণ্ডে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। ২ জুলাই পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন রিফাত হত্যার মূল আসামী নয়ন বন্ড।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)