ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৪৫ মিনিট ১৫ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ১৮ চৈত্র, ১৪২৬ , বসন্তকাল, ৭ শাবান, ১৪৪১

কৃষি আমতলীতে এ বছর তরমুজ চাষে ধস

আমতলীতে এ বছর তরমুজ চাষে ধস

আমতলী,নিরাপদ নিউজ: আমতলীতে এ বছর তরমুজ চাষে ধস নেমেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর চারগুন তরমুজ চাষ কম হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারনে সঠিক সময়ে চাষাবাদ করতে না পারা ও বিগত বছরের লোকসানের কারনে এ বছর কৃষকরা তরমুজ চাষে আগ্রহ হারিয়েছেন।

আমতলী কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, গত বছর তরমুজের লক্ষমাত্রা ছিল ২ হাজার ৭০০ হেক্টর। এ বছর এ লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে মাত্র ৫০০ হেক্টর। গত তিন বছর ধরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে কৃষকরা ভালো ফল না পাওয়ায় এ বছর তারা তরমুজ চাষে আগ্রহ হারিয়ে। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ কম হয়েছে। বেলে-দোআঁশ মাটি তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় আমতলীতে রসালো তরমুজ চাষ ভালো হয়। মাঘ মাসের শুরুতে চাষিরা তরমুজ চাষ শুরু করে কিন্তু ওই সময়ে আবহাওয়া প্রতিকুলে থাকায় তরমুজ চাষ করতে পারেনি। মৌসুম পিছিয়ে পরা এবং বিগত বছরের লোকসানের ভয়ে এ বছর তরমুজ চাষ করছে না চাষিরা। আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া, কুকুয়া, হলদিয়া ও চাওড়া ইউনিয়নে তরমুজের ফলন ভালো হয়।

এ বছর ওই ইউনিয়নের চাষিরা লোকসানের ভয়ে তরমুজ চাষ করছে না। উত্তর টেপুড়া গ্রামের মোঃ আবু সালেহ বলেন, গত বছর টেপুরা এলাকায় ১০০ কৃষক তরমুজ চাষ করেছিল। এ বছর মাত্র ৫ জনে তরমুজ চাষ করেছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারনে গত বছর সকল চাষি লক্ষ লক্ষ টাকা লোকমান দিয়েছে, তাই এ বছর চাষিরা তরমুজ চাষ করেনি। তিনি আরো বলেন, গত বছর আমি ১০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলাম কিন্তু এ বছর তরমুজ চাষ করিনি। গত তিন বছর ধরেই চাষিরা লোকসান দিয়ে আসছে।

আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাখালী গ্রামের সোহেল রানা বলেন, গত বছর মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষেতের সমুদয় তরমুজ গাছ পচে গিয়েছিল। ফলে অনেক টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। তাই এ বছর তরমুজ চাষ করিনি।

হলদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম রাওগা গ্রামের সামসু সিকদার বলেন, গত বছর ৩০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলাম কিন্তু বৃষ্টিতে পচে যাওয়ায় সাড়ে নয় লক্ষ টাকা লোকসান দিয়েছি। তাই এ বছর তরমুজ চাষ করেছি মাত্র ১৮ একর জমিতে।

আমতলী উপজেলার কৃষি অফিসার সিএম রেজাউল করিম বলেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারনে গত বছর তরমুজ চাষীদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়েছে। এ কারনে এ বছর কৃষকরা তরমুজ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর তরমুজ চাষির সংখ্যা অনেক কম। প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতি হওয়ার ভয়ে কৃষকরা তরমুজ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)