ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ডিসেম্বর ২৮, ২০১৯

ঢাকা বুধবার, ১৬ মাঘ, ১৪২৬ , শীতকাল, ৩ জমাদিউস-সানি, ১৪৪১

সাহিত্য আমরা সবাই চাই একটা স্বপ্নের বিছানা

আমরা সবাই চাই একটা স্বপ্নের বিছানা

নাজমীন মর্তুজা, নিরাপদ নিউজ: স্বপ্ন দেখতে দেখতে, শিখেছি এক জীবনের মধ্যে কীভাবে আরো অনেক জীবন বাঁচতে হয়।
বোধহয় আমরা সবাই চাই একটা স্বপ্নের বিছানা। যে বিছানা সমাজ সংস্কারককে স্বপ্ন দেখাবে নতুন সমাজ, আদর্শ সমাজ গড়ার। পৃথিবীর সমস্ত ক্ষেত্রের প্রতিযোগীদের স্বপ্ন দেখাবে সাফল্যের, জয়ের। দরিদ্র, নিরন্ন মানুষের চোখ জুড়ে খেলা করবে সুসময়ের স্বপ্ন, জ্বলে উঠবে আশার আলো। সৃষ্টিশীল মানুষেরা তাঁদের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবেন প্রতিদিন। শুধুমাত্র কল্পনার রাজ্যে বসবাস নয়, যারা নতুন, ব্যতিক্রমী জীবন নিয়ে প্রত্যয়ী স্বপ্ন দ্যাখেন তাঁদের সবার জন্যই এই ‘স্বপ্নের বিছানা’ যাদুর কাজ করে বৈকি।
স্বপ্ন মূলত মানুষের গোপন আকাঙ্খা এবং আবেগগুলোর বহিঃপ্রকাশ।
স্বপ্নেই বেঁচে থাকে মানুষ। দৈনন্দিনতার বাইরে কল্পনাময় এক জীবনেই তার বেঁচে থাকা।
চেতন মনের কল্পনা আর অবচেতন মনের স্বপ্নরা কখন যে হাত ধরাধরি করে চলতে শুরু করেছে তা ঠিকঠাক বোঝার আগেই কেটে যায় জীবন।
ছোটবেলা থেকে এই দীর্ঘ পরিক্রমায় বুঝেছি পৃথিবীর এই বিশাল জ্ঞানসাগর থেকে নিজের পছন্দমতো কিছু মনি-মুক্তো আহরণ করার চেষ্টা করা ছাড়া, কিছুই করার থাকে না, আমার মতো সাধারণ মানুষদের। যাঁরা অন্য কিছু পারেন তাঁরা মহান।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু বাঁচে, কিছু বাঁচে না। কখনো বা নতুনেরা আসে। পুরনোরা সরে দাঁড়ায়।
একজন মানুষের ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবার ইতিহাস। যা কখনো বিবর্ণ, কখনো উজ্জ্বল। কখনো ধুলোমাখা, কখনো বা সোনালি মোড়কে ঢাকা জীবন।
দেখার ভঙ্গি পাল্টালেও, ফেলে আসা জীবন তো পাল্টায় না। স্মৃতি ফেরে। ফিরে ফিরে আসে। একই কথা ঘুরেফিরে আসে। লেখকের নানান লেখায়। কবির কবিতায়, গানে।
ঘুমের ভেতরে যে সব ঘটনাবলি স্বপ্ন হয়ে খেলা করে অবচেতন মনে সেসব দৈনন্দিনতার বাইরেও কিছু স্বপ্ন থাকে যার সঙ্গে ঘুমের খুব একটা সম্পর্ক নেই। যা জীবনের, পথ চলার। হয়তোবা বেঁচে থাকার, অস্তিত্বের। একটু একটু করে বড় হয়েছি আর শিখেছি কীভাবে বুকের মধ্যে পুষে রাখতে হয় উন্মাদ আগুন। মানুষের উপেক্ষা, অবহেলা সব পেরিয়ে কীভাবে পৌঁছতে হয় আলোর ভেতরে। এ আলো কিন্তু সাফল্যের, সচ্ছলতার বা যশের নয়… এ এক পবিত্র নীলিমার আলো যা বিষাদে অম্লান, যা মায়াময়ী এক নিশিকন্যার চোখের মতো অধরা ও লোভহীন। পরশ্রীকাতর সাপেদের ছোবল এড়িয়ে কীভাবে চলাফেরা করতে হয় কঠিন বাস্তবে।
নিজের সঙ্গে নিজের বাজি ধরা। অধরা স্বপ্নগুলোর দিকে হাঁটতে থাকা। এই চলার পথে কোনো উদ্দামতা নয়, নয় কোনো প্রতিহিংসার আগুন, এক স্নিগ্ধ সুশীতল ছায়ায় মেশানো ভালোবাসাই আমায় নিয়ে যায় বাস্তবতার কাছে, কখনো বা পরাবাস্তবতার আলতো ছোঁয়ায় কেঁপে ওঠে অলস জীবন।জীবন নিয়ে তাই আর কিছু ভাবি না। আলোর পেছনে ছায়া কিংবা প্রতিচ্ছায়া, জলের ভেতরে মাটি ও শ্যাওলা কারুকাজ থেকে শুরু করে, সমস্ত জীবন ধরে যে বঞ্চনার ইতিহাস বা ধারাবাহিক অবহেলা মলিন করে তোলে চরাচর, তা নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন করি না। জীবন যেভাবে চায় সেভাবে আসুক, কখনো জটিল, কখনোবা সহজ সরল। অস্পষ্ট জ্যোৎস্নার উত্তাপ আর বহুগুণ ভালোবাসা দিয়ে ভেঙে ভেঙে তাকে ক্রমশ সুন্দর করে তোলার মধ্যে লুকিয়ে থাকে আনন্দ, জিতেন্দ্রিয় মানুষের স্বর্গীয় বেঁচে থাকার আবেগ আয়ত্ত করার আশ্চর্য প্রয়াস।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)