আপডেট ৪ মিনিট ৩ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ৭ ফাল্গুন, ১৪২৬ , বসন্তকাল, ২৪ জমাদিউস-সানি, ১৪৪১

সম্পাদকীয় আর্সেনিকের ঝুঁকি: সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে

আর্সেনিকের ঝুঁকি: সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে

নিরাপদ নিউজ: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার খোর্দ্দ তালিয়ান গ্রামে ১৮ জন আর্সেনিক বিষক্রিয়ায় (আর্সেনিকোসিস) আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন মারাও গেছেন। গ্রামবাসীদের ভাষ্য, গ্রামটিতে খাবার পানির জন্য সরকারিভাবে ৮ টি আর্সেনিকমুক্ত গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। তারপরও সচেতনতার অভাবে তাদের অনেকে এখনো প্রতিনিয়ত এ আর্সেনিক বিষযুক্ত পানি পান করে চলেছেন।
এর আগে ২০০৩ সালের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলি অধিদফতরের পরীক্ষা নিরীক্ষা ও জরিপ থেকে জানা যায়, উপজেলায় ২৯ হাজার ৫’শ ৬৩ টি অগভীর নলকূপ রয়েছে। ২৬ হাজার ৬’শ ১৩ টি আর্সেনিক দূষণমুক্ত।

আর দূষনযুক্ত ২ হাজার ৯’শ ৫০ টি নলকূপ। পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে কালীগঞ্জ উপজেলাতে ২৯ জন আর্সেনিক আক্রান্ত রোগীকে চিহ্নিত করা হয়। গ্রামটিতে পানি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা যায় ১১৯ টি খাবার পানির নলকূপের সব গুলোই আর্সেনিকযুক্ত। এরপর গ্রামটিতে সরকারিভাবে ৮ টি আর্সেনিক মুক্ত গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। ২০০৯ সালে এনজিও ফোরামের উদ্যোগে আই সি বি এম পি প্রকল্পের আওতায় আর্সেনিক রোগীর পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। সে সময়ে ওই গ্রামের ১৮ জনকে আর্সেনিক রোগে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়। গত বছর আর্সেনিকে আক্রান্তে সারা শরীরে ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে মারা গেছেন একজন। বিশুদ্ধ খাবার পানির চাহিদা মেটাতে তাদের গ্রামে যে কয়টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। গ্রামটিতে ১৮ জন আর্সেনিকে আক্রান্ত। এছাড়া গ্রামের অনেকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে চর্ম রোগ রয়েছে।

শুধু ঝিনাইদহেই নয়, বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে লাখ লাখ দরিদ্র মানুষ এখনও আর্সেনিকযুক্ত ভূগর্ভস্থ পানি পান করছে। জনস্বাস্থ্যের ওপর আর্সেনিকের ঝুঁকি বরাবরই যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না। মাটির নিচে প্রাকৃতিকভাবেই এই আর্সেনিক তৈরি হয় এবং তা ভূগর্ভস্থ পানির সঙ্গে মিশে যেতে পারে। ডায়াগনোসিসের মাধ্যমে আর্সেনিকোসিসের চিকিৎসা না করালে, তা ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে। একবার কোনো মানুষের শরীরে আর্সেনিকোসিস হলে, তা আস্তে আস্তে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। যা ভালো হওয়ার লক্ষ্মণ খুবই কম। আর্সেনিক থেকে স্বাস্থ্য ঝুঁকি ব্যক্তিবিশেষ এবং তার পরিবারের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সবার জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে হবে। ডিপ টিউবওয়েলের মাধ্যমে সুপেয় পানি সবার মধ্যে সরবরাহ করা না গেলে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে তা ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে রিভার্স অসমোসিস (আরও) এবং আর্সেনিক আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট (এআইআরপি) স্থাপন করতে হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)