ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট জানুয়ারী ৩১, ২০১৯

ঢাকা শনিবার, ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ৮ রবিউস-সানি, ১৪৪১

জীবনযাপন, রংপুর আর কতদিন কাঁদবে কান্দুরা বেওয়া

আর কতদিন কাঁদবে কান্দুরা বেওয়া

গাইবান্ধা, তোফায়েল হোসেন জাকির, নিরাপদনিউজ: ভিখারীনি কান্দুরা বেওয়া। প্রকৃত বয়স প্রায় ৮৫ বছর কিন্তু এনআইডি কার্ডে তার বয়স ধরা হয়েছে ৭১ বছর। বৃহস্পতিবার বিকেলে (৩১ জানুয়ারি) গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার একটি গ্রামে লাঠিতে ভর করে ভিক্ষাবৃত্তি করছিলেন কান্দুরা বেওয়া। এসময় দেখা হয় তার। সাংবাদিক জেনেই কথা বলতে আগ্রহী হন কান্দরী বেওয়া।

 

তিনি প্রতিবেদককে বলেন, মোর শরিল আর চলে না বাহে। ট্যাকা-পসার অভাবে অসুক হলেও অসুধ কিনে খাতে পাম না। মোর একনা বেটা ছাওয়াল তামারও সংসার চলে না বাবা। বউ নিয়্যা বালুগাঁও কাম করে খায়। অসুক শরিল নিয়ে মুই আর ভিক্ষাও করতে পাম না। মোর একনা ভাতা কাট করি দেও বাহে। তোমার বেটা-বেটির জন্নে আল্লার কাছে দোয়া করিম। এভাবেই বয়সের ভারে নুয়েপড়া কান্দুরা বেওয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ প্রতিবেদকের কাছে আঁকুতি জানান একটা বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতা কার্ডের জন্য।

গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার ৪নং জামালপুর ইউনিয়নের বুজরুক রসুলপুর গ্রামের (পিরোজপুর) মৃত মহির উদ্দিনের স্ত্রী এ হতদরিদ্র, বিধবা কান্দুরা বেওয়ার ভাগ্যে আজও জোটেনি বয়স্ক ভাতা কিংবা বিধবা ভাতা কার্ড। ফলে নানা অভাব-অনটনের মধ্য দিয়েই খেয়ে-না খেয়ে বেঁচে আছেন তিনি। শেষ বয়সে একটি ভাতা কার্ডের প্রত্যাশা করেন কান্দুরা বেওয়া।

বৃদ্ধা এই কান্দুরা বেওয়ার এক সময়ে লাঠিতে ভর দিয়ে ভিক্ষা করে দিনাতিপাত করতো। এখন চোখেও দেখেন কম। এমনকি লাঠিতে ভর দিয়েও চলতে পারে না। দিন-রাত প্রায় বিছানায় তিনি শয্যশয়ী।

সম্প্রতি কান্দুরা বেওয়ার সারা শরীরে নানা অসুখে বাসা বেঁধেছে। ওষুধ কেনার সামর্থ্যও নেই। সেই সাথে অর্থ সংকটে দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন্ও জোটে না তার।

জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী কান্দুরা বেওয়ার জন্ম তারিখ ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর। প্রায় ১৫ বছর আগেই স্বামী মহির উদ্দিরকে হারিয়ে বিধবা হয়েছেন। সেই থেকে ছেলে ও মেয়েদের নিয়ে নিরন্তর সংগ্রাম করে চলেছেন।

যদিও মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। আর একটি মাত্র ছেলে জেলার বাহিরে দিনমজুরি করে যা রোজগার করে তা দিয়েই তাদের সংসার চলে না। তবে মৃত্যুর আগেই একটি ভাতা কার্ডের আঁকুতি জানান কান্দরা বেওয়া।

এদিকে কান্দুরা বেওয়ার অভিযোগ, বিধবা ও বয়স্ক ভাতা কার্ডের জন্য জামালপুর ইউনিয়র পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বারের নিকট দুই বছর ধরে ঘুরেও কোন কাজ হয়নি। তার অসহায়ত্বের কথা কেউ শোনেনা বলে জানান তিনি।

জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মন্ডল বলেন, বৃদ্ধা কান্দুরা বেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)