ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ২৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৫ মাঘ, ১৪২৬ , শীতকাল, ২২ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১

এই দিনে ইতিহাসের এই দিনে

ইতিহাসের এই দিনে

আজ (রোববার) ২৩ জুন’২০১৯

(আন্তর্জাতিক এসওএস শিশুপল্লী দিবস)
২৩ জুন আন্তর্জাতিক এসওএস শিশুপল্লী দিবস’। অধ্যাপক হারম্যান মেইনার ১৯৪৯ সালে অস্ট্রিয়ায় প্রথম এসওএস শিশুপল্লী প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ১৩১টি দেশে তার চিন্তার ফসল এসওএস শিশুপল্লীর সুষ্ঠ কার্যক্রম ব্যাপৃত রয়েছে। প্রতিবছর তার জন্মদিন ২৩ জুন বিশ্বব্যাপী এসওএস শিশুপল্লী স্থাপনাসমূহে আন্তর্জাতিক এসওএস শিশুপল্লী দিবস’ হিসেবে উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী এসওএস শিশুপল্লী এবং এর সহায়ক প্রকল্পসমূহে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ২০০২ সালে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক এসওএস শিশুপল্লী দিবস’ বিশেষ মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়ে উদযাপিত হয়। কারণ এ বছর বাংলাদেশে এসওএস শিশুপল্লী কার্যক্রমের ৩০ বছর পূর্ণ হয়।

(পলাশী দিবস)
ঐতিহাসিক পলাশী দিবস। বাংলার স্বাধীনতা হারিয়ে শৃঙ্খলিত হওয়ার দিন। ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার কন্টকাজারে বৃত্তাবদ্ধ হয়ে বাংলার স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের স্বাধীনতার সূর্য এ দিনেই অস্তমিত হয়েছিলো। ঘসেটি বেগম, মীর জাফর, উঁমি চাঁদ, রায় দুর্লভ ও রাজ বল্লভদের সম্মিলিত প্রাসাদ চক্রান্ত ও রাজনৈতিক বিশ^াসঘাতকতার কারণে ১৭৫৭ সালের এ দিনে পলাশীর প্রান্তর থেকে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদদৌলাকে বিজয়ের দার প্রান্ত থেকে পরাজয়ের কলঙ্ক মাথায় নিয়ে মুর্শিদাবাদ পালিয়ে আসতে হয়েছিলো । ইংরেজ বেনিয়া গোষ্ঠীর সকল শঠতা ও চতুর্যকে ব্যর্থ করে দিয়ে নবাবের বহিনী যখন পলাশীর যুদ্ধকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনে বিজয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো, ঠিক তখন মীর জাফর আলী খানের পক্ষ ত্যাগ ও বিশ্বাসঘাতকতায় ইংরেজ বেনিয়া গোষ্ঠী তথা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভাড়াটে বাহিনী পেছন থেকে আক্রমণ করে নবাব বাহিনীকে পর্যুদস্ত ও ছত্রভঙ্গ করে দেয়। মুহুর্তে পাল্টে যায় ইতিহাসের প্রেক্ষাপট। বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ইতিহাসের কলংকিত নায়ক লর্ড ক্লাইভদের হাতে । এর পরের ইতিহাস উপমহাদেশে ইংরেজ বেনিয়াদের শোষণ ও জুলুমের ইতিহাস। ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যবাদ ও ঔপনিবেশবাদের গোলামীর ইতিহাস । আজও স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণ ইতিহাসের এ দিনটিকে ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার ঘৃণিত দিন হিসেবে উদযাপন করে নিজেদের স্বাধীনতাকে কন্টকমুক্ত করার শপথ গ্রহণ করে।

(আওয়ামী মুসলিম লীগ/আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত)
১৯৪৯ সালের এই দিনে মওলানা ভাসানীকে সভাপতি করে পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে বাংলাদেশের পুরনো দল আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু। পরে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ নাম দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ দেশে পাকিস্তানি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সকল আন্দোলন-সংগ্রামের প্রথম সারিতে ছিল আওয়ামী লীগ। ১৯৬৬ সালে ছয় দফাভিত্তিক বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন ও ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে সাফল্যের পথ ধরে ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জনগণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশ রায় দেয়। ১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে শুরু হয়ে মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হলে পাল্টে যায় দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট। এর দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে এবং ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়। আওয়ামী লীগ প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদা এবং ব্যাপক আয়োজনে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে থাকে ।

১৫৩৬ সালের এই দিনে জেনেভায় ফ্রান্সের প্রোটেস্টেন্ট ধর্মতত্ত্ব বিশারদ জন কেলভিনের সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়। তিনি ১৫০৯ সালে জন্ম গ্রহণ করেন এবং আইন ও ধর্মতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি তরুণ বয়সেই মার্টিন লুথারের প্রোটেস্টেন্ট আন্দোলনে যোগ দেন। এরপর জন ক্যালভিন, প্রোটেস্টেন্টদের সহযোগিতায় জেনেভায় কতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে প্রোটেস্টেন্ট মতবাদ ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। ফরাসি খ্রীষ্টান ধর্মতত্ত্ববিদ ক্যালভিন নিজস্ব মতবাদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং তার লেখা বই ইনস্টিটিউটস অব দ্য ক্রিশ্চিয়ান রিলিজিয়ন-এ তিনি তার দৃষ্টিভঙ্গী ও চিন্তা-দর্শন বর্ণনা করেছেন। জন ক্যালভিন, চার্চ ও পোপের কর্তৃত্বকে অস্বীকার করেন এবং বাইবেলকে খ্রিষ্ট ধর্মের ভিত্তি হিসেবে ঘোষণা করেন। জন ক্যালভিনের মতে, দুনিয়ায় যারা সৎকর্মশীল হবেন, সৃষ্টিকর্তা আগে থেকেই তাদেরকে নির্ধারণ করে রেখেছেন,কাজেই দুনিয়ার কাজের জন্য পরকালে তাকে জবাবদিহি করতে হবে না। তার এই ভুল বিশ্বাসের ভিত্তিতে অনেকেই মনে করেন, ইহজগতে পাপ করলে কোন সমস্যা নেই,কারণ ভালো কাজের মাধ্যমে নিজের ভাগ্যকে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। চার্চের কর্তৃত্ব অস্বীকার করার কারণে ১৫৬৪ সালে জন ক্যালভিনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

১৭৫৭ সালের এই দিনে ঐতিহাসিক পলাশীর যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটে এবং উপমহাদেশে বৃটিশ সা¤্রাজ্য প্রতিষ্ঠা লাভ করে। উপমহাদেশের ইতিহাসে তো বটেই, পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম প্রভাব বিস্তারকারী একটি ঘটনা এই যুদ্ধ। ইতিহাসের সব ঘটনা-দুর্ঘটনাই অনাগত ভবিষ্যতের জন্য প্রভাব রেখে যায়। কোনো কোনো ইতিহাস আছে মানবগোষ্ঠীকে প্রতিনিয়ত ভাবায়। বারবার পেছনের দিকে ফিরে তাকাতে বাধ্য করে। পলাশীর ঘটনা সে রকমই একটি ঘটনা। পলাশীর বিপর্যয় শুধু বাংলার স্বাধীনতা হরণের দিন নয়। পুরো উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল এ দিন থেকে। রাষ্ট্রশক্তি কুক্ষিগত করার সরাসরি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল পলাশী থেকে। ইংরেজরা অষ্টাদশ শতাব্দির প্রথম থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাধ্যমে ভারত উপমহাদেশে প্রভাব বিস্তার শুরু করলেও পলাশী থেকেই তাদের শাসনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এর পর ভারত উপমহাদেশে তারা প্রায় দুই’শ বছর শাসন করে। এ সময় তারা উপমহাদেশের বহু সম্পদ লুণ্ঠন করে বৃটেনে নিয়ে যায়। মির জাফরসহ যেসব বিশ্বাসঘাতকদের কারণে পলাশী যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটেছিল, তাদের পরিণতিও ভালো হয় নি।

১৯৩৯ সালের এই দিনে ফ্রান্স, সিরিয়ার ইসকেনদেরুন বন্দরকে তুরস্কের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেয়। তুরস্ক বহু বছর ধরেই ঐ বন্দরকে নিজেদের ভূখন্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছিল। কিন্তু প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের পর বৃটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে চুক্তির ভিত্তিতে ইসকেনদেরুন বন্দরটি সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। কিন্তু তুরস্কে ওসমানি সা¤্রাজ্যের পতন ও পাশ্চাত্যপন্থী মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের সরকার ক্ষমতায় আসীন হবার পর ফ্রান্স, বন্দরটিকে তুরস্কের হাতে তুলে দেয়। সে সময় সিরিয়া ছিল ফ্রান্সের অধীনে। ফ্রান্সের এই পদক্ষেপের ফলে সিরিয়ায় ফরাসি শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার হয়। বন্দরটি নিয়ে তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যে এখনও বিরোধ রয়েছে। সিরিয়া এখনও ঐ বন্দরটিকে নিজেদের ভূখন্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে।

হিজরী ৮ সালের এই দিনে ‘যাতুসসালোসেল যুদ্ধে’ মুসলমানরা বিজয় অর্জন করে। মোশরেকদের একটি দল মদিনায় হামলার ষড়যন্ত্র করায় এই যুদ্ধের সূচনা হয়। বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সা:) মদিনায় হামলার জন্য মোশরেকদের প্রস্তুতির খবর পেয়ে প্রথমে একজন মোহাজেরের নেতৃত্বে কিছু মুসলমানকে ঐ হামলা প্রতিহত করার জন্য পাঠান। কিন্তু মুসলমানদের ঐ দলটি শত্রুদের ব্যাপক সমর সজ্জা সম্পর্কে অবহিত হবার পর ফিরে আসে। এরপর হযরত মোহাম্মদ (সা:) আরও একজন কমান্ডারকে একই দায়িত্ব দিয়ে পাঠান। কিন্তু ঐ কমান্ডারও কাফেরদের মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হন এবং তিনিও কাফেরদের ব্যাপক শক্তি ও সমর সজ্জার খবর নিয়ে আসেন। এরপর রাসূলে খোদা, হযরত আলী (আ:) কে ঐ যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব দেন। শত্রুরা বুঝে ওঠার আগেই আলী(আ:) তার সহযোগিদের নিয়ে তাদের উপর হামলা চালান। ফলে যুদ্ধে শত্রুরা পরাজিত হয়। ঐ যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয়ে রাসূল (সা) অত্যন্ত খুশী হন এবং তিনি নিজে গিয়ে যুদ্ধ ফেরত আলী (আ)কে মদীনায় স্বাগত জানান। অনেক বিশেষজ্ঞ ও ঐতিহাসিকের মতে, এই যুদ্ধ উপলক্ষ্যেই সূরা আদিয়াত নাজিল করা হয়েছে।

সাত সপ্তাহ সীমান্ত যুদ্ধের পর সৌদি আরব ও পরাজিত ইয়েমেনের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর (১৯৩৪)
সোভিয়েত লাল ফৌজের হিটলারের নাৎসী বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ শুরু (১৯৪১)
কর্নেল জমাল আবেদেল নাসের মিশরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত (১৯৬৫)
অতীশ দীপঙ্করের দেহভস্ম চীন থেকে ঢাকায় আনয়ন (১৯৭৮)
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পুত্র সঞ্জয় গান্ধী বিমান দুর্ঘটনায় নিহত (১৯৮০)

টরেন্টো থেকে বোম্বে যাবার পথে এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৪৭ আটলান্টিক সাগরে বিধ্বস্ত ৷ ৩২৯ যাত্রীর সবাই নিহত (১৯৮৫)
১৪ বছর গৃহযুদ্ধের পর অ্যাঙ্গোলায় যুদ্ধ বিরতি (১৯৮৯)
২০ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকার পুনরায় জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ (১৯৯৪)
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ২১ বছর পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণ (১৯৯৬)
পৃথিবীর ১১তম ও বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ যমুনা সেতু উদ্বোধন (১৯৯৮)

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)