ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৩৪ মিনিট ৫০ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ৬ মাঘ, ১৪২৬ , শীতকাল, ২৩ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১

সম্পাদকীয় উৎপাদন বন্ধ রেখে রাস্তায় পাটকল শ্রমিকরা: হারিয়ে গেছে সোনালী আঁশের বাজার

উৎপাদন বন্ধ রেখে রাস্তায় পাটকল শ্রমিকরা: হারিয়ে গেছে সোনালী আঁশের বাজার

নিরাপদ নিউজ: উৎপাদন বন্ধ রেখে রাজপথে বিক্ষোভ করছে পাটকল শ্রমিকরা। অভ্যন্তরীণ ও বিশ্ববাজারে পাট ও পাটজাত পণ্যের বিপুল চাহিদা থাকার পরও বাংলাদেশে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে সম্ভাবনাময় এই খাত মুখ থুবড়ে পড়েছে। এটা শুরু হয়েছে দেশের স্বাধীনতার পর থেকে। শ্রমিকরা গণমাধ্যমকে জানায়, ‘সরকারের সুবিধাভোগী একটি মহল চক্রান্ত করে রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। অসাধু কর্মকর্তারা পাটকলগুলো লোকসান দেখিয়ে অল্প দামে কারখানা ও এর জমি বিক্রির টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা করছে।’

বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে খুলনাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করে। গত ৩ ডিসেম্বর ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ ধর্মঘট পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের পর আগামী ১০ ডিসেম্বর সকাল ৮টায় পরিবার পরিজন নিয়ে স্ব-স্ব মিলগেটে আমরণ গণঅনশন শুরুর ঘোষণা দিয়েছে শ্রমিক নেতারা। খুলনার ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, ইস্টার্ন, আলিম এবং যশোরের জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিলের শ্রমিকরা এ কর্মসূচি পালন করে। পাটখাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, বকেয়া মজুরি-বেতন পরিশোধ, মজুরি কমিশন কার্যকর ও প্রতি সপ্তাহের মজুরি প্রতি সপ্তাহে দেওয়াসহ ১১ দফা দাবিতে গত ১৭ নভেম্বর ৬ দিনের কর্মসূচির ডাক দেয় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদ।

আমরা মনে করি, রাষ্ট্রায়ত্ব খাতের পাটকলগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করতে হলে এগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিজেএমসিকে বর্তমান বিশ্বায়নের যুগের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পুণর্গঠন ও গতিশীল করতে হবে। একই সাথে কারখানাগুলো আধুনিকায়ন করার পাশাপাশি সৎ ও দক্ষতার সাথে পরিচালনার ব্যবস্থা করতে হবে।

এক সময়কার সোনালী আঁশ খ্যাত ও অমিত সম্ভাবনাময় পাট সেক্টর এখন রীতিমত ঝুঁকির মুখে। বছরজুড়ে দফায় দফায় চলছে রাজপথ, রেলপথ অবরোধ, ধর্মঘট, অনশন। বেড়ে চলছে সংঘাত সংঘর্ষ সহিংসতা। ফলে নানা সময় সরকারকেও পড়তে হচ্ছে বিপাকে। সবমিলিয়ে পাট সেক্টরে আন্দোলন, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং পাট মন্ত্রণালয় ও বিজেএমসি’র অবহেলার কারণে আজ ধ্বংসের পথে সম্ভাবনাময় এ খাত।

দেশের বেসরকারি পাটকলগুলো লাভ করছে। বিপরীতে সরকারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে গত ১০ বছরে রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলগুলোর লোকসানের পরিমাণ সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল শ্রমিক এবং শ্রমিক নেতারা কারখানা পরিচালনায় দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাব এবং কাঁচা পাট কেনায় অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিকে দায়ি করেন। শ্রমিক নেতারা বলেন, লোকসানের অজুহাতে শ্রমিকদের মজুরি দেয়া না হলেও কর্মকর্তাদের বেতন বকেয়া থাকে না।

পরিবেশ বিধ্বংসী প্লাস্টিক বন্ধে সম্প্রতি যে বৈশ্বিক ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে, সে শূন্যস্থান প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন একমাত্র পাটই পুরণ করতে পারে। পাটজাত পণ্য বহুমুখীকরণের সুযোগ দক্ষতার সাথে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী হারানো পাটের বাজার ফিরে পাবে বলে আমরা আশা করি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)