ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৩৩ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৭ রবিউস-সানি, ১৪৪১

নিসচা সংবাদ, লিড নিউজ, সড়ক সংবাদ এই দেশের ‌’অসাধারণ মানুষেরা’ আইন মানতে চান না: নিসচা-প্রথম আলো আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে ওবায়দুল কাদের

এই দেশের ‌’অসাধারণ মানুষেরা’ আইন মানতে চান না: নিসচা-প্রথম আলো আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে ওবায়দুল কাদের

নিসচা-প্রথম আলো আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে ওবায়দুল কাদের

নিসচা-প্রথম আলো আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মাহফুজুল নুরজ্জামান

রকিবুল ইসলাম সোহাগ, ১৭ অক্টোবর ২০১৫, নিরাপদ নিউজ : আজ শনিবার প্রথম আলো কার্যালয়ে নিরাপদ সড়ক চাই ও প্রথম আলোর যৌথ অায়োজনে ‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত উদ্যোগ চাই’—শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা কঠিন কাজ বলে মন্তব্য করেছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, গাড়ির চালকেরা বেপরোয়া। তারা সড়কে পাল্লা দিয়ে যেকোনো ভাবেই হোক না কেন সামনে গাড়িকে পাশ কাটিয়ে (ওভারটেক) এগোতে চায়। তাদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, কঠিন হলেও আমি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে থাকার মন্ত্রী না। আমি নিজেই সব জায়গায় ছোটাছুটি করছি। নানা উদ্যোগ নিয়েছি। এখন দুর্ঘটনা অনেকটাই কমেছে। সবাই মিলে চেষ্টা করলে সমাধান হবেই।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, মহাসড়কে নছিমন, করিমনসহ তিন চাকার যানের কারণে অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটে। মহাসড়ক থেকে এগুলো বন্ধ করা খুব কঠিন কাজ ছিল। কিন্তু আমরা সেটা করেছি। পুরোপুরি বন্ধ না হলেও মহাসড়কে এগুলোর চলাচল ৯০ ভাগ নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। এর ফলে দুর্ঘটনা অনেক কমে গেছে। এবার ঈদে দুর্ঘটনাও কমেছে। তিনি বলেন, আমি অল্পতেই আত্মতৃপ্ত নই। আমি যখন দেখি রাস্তায় লোকজন যানজটে কষ্ট করছে, যখন দেখি দুর্ঘটনা ঘটছে, আমার কষ্ট লাগে। মাঝে মাঝে খুব অসহায়ও লাগে। এই দেশের “অসাধারণ মানুষেরা” আইন মানতে চান না। উল্টো পথে গাড়ি চালান। থ্রি হুইলার চলার অনুমতি দেওয়ার জন্য জনপ্রতিনিধিরা অনুরোধ করে। ফুটপাত উচ্ছেদ করতে যাবেন, সেখানেও রাজনীতি। বিআরটিএর দুর্নীতি কমলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আর আমাদেরও অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। তবে সদিচ্ছা থাকলে সমস্যার সমাধান সম্ভব।
বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম। বৈঠকের শুরুতেই একটি ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও একটি উন্নত রাষ্ট্রের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার নানা দিক তুলে ধরেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, পরস্পরের ওপর দোষ চাপিয়ে দূরে সরে গেলে সমস্যা সমাধান হবে না। সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে। তিনি অারো বলেন, শক্তিশালী সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা সমাধানের বিকল্প নেই।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মিশুক মুনীরের স্ত্রী মঞ্জুলী কাজী বলেন, পরীক্ষা না দিয়ে ভুয়া লাইসেন্স পেয়ে যান অনেক চালক। কিন্তু উন্নত দেশে সেই সুযোগ নেই। এটি বন্ধ করতে হবে। কীভাবে সড়ক ব্যবহার করতে হয়, সেটাও ছোটবেলা থেকেই শেখাতে হবে।

নিরাপদ সড়ক চাই ও প্রথম আলোর যৌথ অায়োজনে ‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত উদ্যোগ চাই’—শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অতিথিবৃন্দ

নিরাপদ সড়ক চাই ও প্রথম আলোর যৌথ অায়োজনে ‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত উদ্যোগ চাই’—শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অতিথিবৃন্দ

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মাহফুজুল নুরজ্জামানও এর সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আমি আমার বাবাকে হারিয়েছি। নিজে আহত হয়ে হাসপাতালে ছিলাম। আরেকবার দুর্ঘটনায় আমার বোন ও চাচা মারা গেছে। আমি এই কষ্টটা বুঝি। একটা পরিবার নিঃস্ব হয়ে যায়। কীভাবে রাস্তা পার হতে হয়, কীভাবে সড়কে চলাচল করতে হয়, এই বিষয়গুলো আসলেই পাঠ্যপুস্তকে থাকা উচিত।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খোন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত চালক নেই, এটা একটা বড় সমস্যা। চালকদের ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেকের জায়গা থেকে কাজ করলে দুর্ঘটনা কমে যাবে।
ব্র্যাকের নিরাপদ সড়ক কর্মসূচির ব্যবস্থাপক অপূর্ব কুমার সাহা বলেন, জেলা ও উপজেলাগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে কমিটি আছে। কিন্তু সেই কমিটিগুলো কার্যকর না। আর যাঁরা চালক আছেন তাঁদের যদি মানবিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষাটা দেওয়া যেত, তাহলে দুর্ঘটনা কমত।
বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে গণপরিবহনের ভয়াবহ সংকট। ফুটপাত দিয়ে চলাচল করা যায় না। আবার যাত্রীরাও সচেতন নয়। দুর্ঘটনা নিয়ে তথ্যের লুকোচুরি আছে। সড়ক দুর্ঘটনাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৭৬ ভাগ দুর্ঘটনা ঘটে যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে। সড়ক বিভাজক তৈরি করে এই সমস্যা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
ব্র্যাকের গাড়ির চালক শরীফা বেগম বলেন, আমি যথাযথ প্রশিক্ষণ নিয়েছি। তিন বছর ধরে গাড়ি চালাচ্ছি। কখনো কোনো দুর্ঘটনায় পড়িনি। গাড়ি চালানোর সময় আমি সব দুশ্চিন্তা বাদ দিই। ফলে গাড়ির আরোহীর যেমন জীবন বাঁচে, আমার এবং আমার পরিবারেরও জীবন বাঁচে।
গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, নিরাপদ সড়ক চাই এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসান- উল হক কামাল, মহাসচিব শামীম অালম দীপেন, যুগ্ন মহা সচিব সাদেক হোসেন বাবুল, লিটন এরশাদ ও গনি মিয়া বাবুল, অর্থ সম্পাদক নাসিম রুমি, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম অাজাদ হোসেন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মিরাজুল মইন জয়, সাংস্কৃতিক সম্পাদক জাফর ফিরোজ, যুব বিষয়ক সম্পাদক জুনাইদুর রহমান মাহফুজ প্রমুখ।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)