ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৪ মিনিট ১০ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১১ রবিউস-সানি, ১৪৪১

উপসম্পাদকীয়, মতামত, লিড নিউজ একটি সংগ্রামী জীবনের ইতিকথা…

একটি সংগ্রামী জীবনের ইতিকথা…

নিরাপদ নিউজ : একটি গল্প, কিন্তু একটি সংগ্রামী জীবনের ইতিকথা। বিহারের এক গরীব শ্রমিক ‘দশরথ মাঝি’। যে গ্রামে তিনি বাস করতেন সেই গ্রামের মানুষদের নিত্যদিনকার চাহিদা মেটাতে পায়ে হেঁটে প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু পাহাড় পাড়ি দিয়ে শহওে যেতে হত। সেই পাহাড় পাড়ি দিতে গিয়েই একদিন পড়ে যান দশরথের স্ত্রী। রাস্তা না থাকায় চিকিৎসকের কাছে পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারেননি স্ত্রীকে। মৃত্যু হয় তার। সেই শোক সামলাতে না পেরে দশরথ মনস্থির করলেন, ৩০০ ফুট উঁচু পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরী করবেন। যেন তার স্ত্রীর মত আর কারো জীবন দিতে না হয়। শত প্রতিকূলতা মাড়িয়ে শুধু শাবল আর হাতুড়ি দিয়ে খোদাই করলেন ৩৬০ ফুট লম্বা, ২৫ ফুট গাঢ় ও ৩০ ফুট প্রশস্ত এক পথের!

আমাদের ইলিয়াস কাঞ্চন তেমনি একজন সংগ্রামী মানুষ। তারও আছে একটি ক্ষত, একটি শোক। যেই ক্ষত তিনি বয়ে চলেছেন বিগত ২৬ বছর ধরে। কী সেই ক্ষত? ১৯৯৩ সালে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এলোমেলো হয়ে যায় তুমুল জনপ্রিয় নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের জীবন। ঐ বছরের ২২ অক্টোবর তার একটি ছবির শুটিং দেখতে বান্দরবান যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের অদূরে চন্দনাইশ ও পটিয়ার কাছাকাছি একটি স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন। শোকার্ত ইলিয়াস কাঞ্চন এরপর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আর সিনেমাও করবেন না! কিন্তু সব ভেবে পর্দার নায়ক থেকে বাস্তব জীবনের প্রতিবাদী নায়ক হয়ে দাঁড়িয়ে যান রাস্তায়। গড়ে তোলেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নামে সামাজিক আন্দোলন।

দশরথ মাঝি ২২ বছর কিছু না ভেবে পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণ করেছেন যেন তার স্ত্রীর মতো আর কারো মৃত্যু না হয়, তেমনি ইলিয়াস কাঞ্চন বিগত ২৬ বছরের বেশি সময় ধরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছেন। যেন তার স্ত্রীর মতো এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আর কোনো পরিবারকে এলোমেলো না করে দেয়। অথচ এই আন্দোলনকে আজ একটি মহল বারবার প্রতিহিংসার তীরে বিদ্ধ করতে চাইছে। ইলিয়াস কাঞ্চনকে হেনস্তা করতে চাইছে। প্রসঙ্গত তাদেরই বলছি, কাকে অসম্মান করছেন আপনারা? রাস্তায় জড়ো হয়ে অযৌক্তিক দাবিতে কয়েকখানা ছবি পুড়িয়ে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে দিনশেষে কি পেলেন?

প্রতিহিংসা দিয়ে যাঁকে মাটিতে নামিয়ে আনতে চাইছেন এ দেশের মানুষের ভালবাসায় তিনি হিমালয়ের মত ব্যক্তিত্ব নিয়ে আকাশচূড়ায় অবস্থান করছেন। কারণ তিনি অন্যায়ের কাছে কখনই মাথা নত করেন নি। আর ভয় দেখাবেন? সৃষ্টিকর্তার প্রতি অগাদ আস্থা ও বিশ্বাসে সত্যের পথে চলছেন। একমাত্র সৃষ্টিকর্তার কাছেই তিনি দায়বদ্ধ। অতএব এসব ঠুনকো ভয় তিনি কখনও করেন নি। ২৬ বছরে জল কম ঘোলা হয়নি! কিন্তু তিনি সড়কের মড়ক বন্ধে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বদ্ধ পরিকর। তিনি একজন যোদ্ধা। যোদ্ধারা জানেন লড়াই করে বিজয় ফিরিয়ে আনতে। লড়ছেন তিনি, লড়বেন তিনি, লড়েই যাবেন তিনি। স্যালুট যোদ্ধা আপনাকে।

লিটন এরশাদ 
নিসচা’র যুগ্ম মহাসচিব

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)