ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ড

ঢাকা শুক্রবার, ২৭ চৈত্র, ১৪২৬ , বসন্তকাল, ১৬ শাবান, ১৪৪১

খুলনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, লিড নিউজ এক দিনেই পাঁচ কোটি টাকার ফুল বিক্রি

এক দিনেই পাঁচ কোটি টাকার ফুল বিক্রি

নিরাপদ নিউজ: যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী পাইকারি ফুলের বাজারে গতকাল বুধবার এক দিনেই পাঁচ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে গোলাপই ছিল তিন কোটি টাকার। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট দেশের বিভিন্ন জায়গার মোকামগুলোতে গেছে এসব ফুল। পয়লা ফাল্গুন বা বসন্ত উৎসব এবং বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে এই ফুল সারা দেশে সৌরভ ছড়াবে।

ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বসন্ত উৎসব ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে ফুলের বাজার ধরতে তাঁরা প্রতিবছরই আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। এবারে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ফুল বেচাকেনা শুরু হয়। তবে উৎসব দুটি সামনে রেখে গতকালই ছিল শেষ হাটের দিন।

এদিন গদখালী হাটে পাইকারিতে প্রতিটা গোলাপ ১৫-১৬ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটা গ্লাডিওলাস ৭-৮ টাকা, জারবেরা ১২-১৩ টাকা, রজনীগন্ধা ৪-৫ টাকা, প্রতি আঁটি জিপসি ২০ টাকা, কামিনী পাতার আঁটি ১০০ টাকা ও গাঁদা প্রতি হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, ‘বসন্তবরণ, বিশ্ব ভালোবাসা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গদখালীতে ৪০ কোটি টাকার ফুল বেচাকেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ২০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে গতকালই পাঁচ কোটি টাকার ফুল বেচাকেনা হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আরও ২০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে বলে আমরা আশাবাদী।’

আবদুর রহিম জানান, বুধবার পয়লা ফাল্গুনের শেষ হাটের দিনে গদখালীতে ৩ লাখ গোলাপ, দেড় লাখ জারবেরা ও চার লাখের মতো রজনীগন্ধা
ফুল বিক্রি হয়েছে, যা সারা দেশে খুচরা ফুলের হাটগুলোতে গেছে।

গদখালী এলাকার মাঠে মাঠে এখন ফুটে আছে হরেক রঙের ফুল। তবে এ বছর মড়ক লেগে গোলাপের বাগান নষ্ট হয়ে গেছে। যে কারণে গোলাপচাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান।

ঝিকরগাছা উপজেলার পটুয়াপাড়া গ্রামের ফুলচাষি মো. শাহজালাল জানান, তিনি তিন বিঘা জমিতে গোলাপ লাগিয়েছিলেন। যে পরিমাণ ফুল পাওয়ার কথা, তা পাননি। কারণ, মাঝে একধরনের ভাইরাস লেগে খেত নষ্ট হয়ে যায়। তাই ১৫ টাকা দরে গোলাপ বিক্রি করেও লাভবান হতে পারেননি। গত দুই দিনে তিনি ৫০ হাজার টাকার গোলাপ ও গ্লাডিওলাস ফুল বিক্রি করেছেন।

সম্প্রতি গিয়ে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে জারবেরা, গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, হলুদ গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকাসহ নানান জাতের ফুলের চাষ হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী এই জেলায় চলতি বছর ৭ হাজার ২৯০ জন কৃষক ফুল চাষ করেছেন। গত বর্ষা মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কম হওয়ার কারণে গোলাপের খেতে ‘মাইটস্’ নামে একধরনের মাকড়ের আক্রমণ দেখা দেয়। এতে গাছের পাতা পচে এবং ফুলের উৎপাদন কমে যায়। ফলে গোলাপচাষিরা এবার ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে অন্যান্য ফুলের দাম বেশি হওয়ায় সব মিলিয়ে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)