ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট অক্টোবর ১৯, ২০১৯

ঢাকা রবিবার, ৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৭ রবিউস-সানি, ১৪৪১

খুলনা, জীবনযাপন কপিলমুনির সাহেব মানান্তরের ভিটে ছাড়া ভবঘুরে জীবন যাপন

কপিলমুনির সাহেব মানান্তরের ভিটে ছাড়া ভবঘুরে জীবন যাপন

এইচ,এম,শফিউল ইসলাম, নিরাপদনিউজ: শৈশবে লাল মুড়ি, কৈশরে ঝালমুড়ি, যৌবনে বধুনারী! প্রবাদটি হার মেনেছে দুভাই রাম ও লক্ষনের কাছে। রাম ও লক্ষণ দুভাই যেন একে অপরের হৃৎপিন্ড, আর সে কারনেই ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের মমত্ববোধ কেড়ে নিয়েছে যৌবনের বধুনারী। বাস্তবতায় বধুনারী জুটলোনা দু ভাইয়ের কপালে। ঐতিহাসিক উপন্যাস শরৎ চন্দ্রের সেই দেবদাসের পার্বতীকে তারা হয়তো পায়নি তবে তা নিয়ে তাদের বিন্দুমাত্র মাথা ব্যাথা নেই। ভালবাসার দৃষ্টান্ত শুধু দু’ভাই!! তার একটাই কারণ ”ভাই বড় ধন রক্তের বাঁধন যদিও ছিন্ন হয় নারীরও কারণ”
এজন্য ছোটবেলা থেকে দুভাই সব সময় এক সাথে খাওয়া থেকে শুরু করে সর্বত্র বিচারণ তাদের। দুভাইয়ের বয়স এখন ৭৫ বছর। অথচ আজও পর্যন্ত দুই ভাইয়ের কেহ বিয়ে সাদী করে নাই।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দু ভাই এক এক এলাকা ঘুরে বেড়াই হাতে হাত রেখে বিভিন্ন মন্দিরে আশ্রমে। সাদা মনের দুই ভাইয়ের আসল নাম মিনাল কান্তি বসু (৮০) ছোট ভাই দিপক কান্তি বসু (৭৫) কিন্তু এলাকার মানুষর তাদেরকে রাম লক্ষণ সহ বিভিন্ন নামে ডাকে। মানুষরা ভুলে গ্যাছে,আসল নাম তাইতো তাদেরকে নাম দিয়েছে সাহেব মানান্তার, অন্ধ সন্ধ ইত্যাদী। ছোট্ট ছেলে মেয়েরা এ দু ভাইকে কোন গ্রামে দেখলে পিছু নেয় এবং বলে মানিক জোড় সন্দেহ দু ভাই।

সাহেব  মানান্তরদের পরিবারের সদস্যদের এক সময় পাইকগাছার হরিঢালীতে জমিদারী ছিল, কালের বিবর্তণে তা আজ আর নেই। কিন্তু চাল চলনে তাদের ভদ্র নম্রতা ও পরিপাটি দেখলে বোঝা যায় তারা সম্ভ্রান্ত পরিবারের। ভদ্রতার নিরিখে আভিজাত্য পরিবারের এ দুভাই খুবই অসহায় জীবন জাপন করে থাকে। বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে চেয়ে চিন্তে খায়। তা ছাড়া তাদের পৈত্রিক ভিটা থাকলেও তাদের পাগল বলে সরলতাকে পুঁজিকরে ভিটে ছাড়া করেছে পাইকগাছা সোনাতন কাটি গ্রামের মানুষরা। সহজ সরল দু ভাই সাহেব মানান্তার তাদের আশ্রয় স্থল এখন বিভিন্ন মন্দিরে আশ্রমে।

সকালের আলো ফুটলে তারা দু ভাই খাদ্যের জন্য বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। কারোর কাছে কিছু চায়না তারা মানুষরা তাদের দেখলে সামান্য পয়সা দেয় তা দিয়ে তারা খাদ্য কিনে খায়। সাহেব মানান্তরের ছোট্র বেলা হতে পথ চলার ধরণটা আজও পর্যন্ত পরিবর্তন হয়নি। তারা তাদের চিরচেনা সেই রাজ হংসির রাজকীয় দুলকিতে সামনে পিছে করে পথ চলা যেন শেষ হয়না। জাতি ধর্ম শিশু কিশোর বয়স্ক সবাই তাদেরকে ভালবাসে তাদের দেখলে সবাই এগিয়ে আসে এবং কুশল বিনিময় করেন। তারা মুখ ফুটে কারোর কাছে কিছু না চাইলেও অনেকে তাদের খাদ্য কেনার টাকা পয়সা দেন।

সাহেব মানান্তারের বিষয়ে উপজেলা সেনেটারী অফিসার উদায় মন্ডল বলেন আমার জম্মের পর হতে জানতাম যে সাহেব মানান্তর আমাদের ফ্যমিলী মেম্বার। কারণ ছাত্র জীবনে সকাল দুপুর সন্ধ্যায় তাদের সঙ্গে খাওয়া দাওয়া করতাম। তারা এ দিক সে দিক ঘুরে বাড়ি ফিরে আসতো। এখন তারা ভব ঘুরে জীবন যাপন করে থাকে বিভিন্ন মন্দিরে আশ্রমে। তিনি আরও বলেন দীর্ঘ সময় আমার গ্রামের বাড়ি কানাইদিয়া গ্রামে বসবাস করেছে সাহেব মানান্তরা। আজ পর্যন্ত তাদের দু ভাইয়ে চেনা জানার পর হতে কারোর ক্ষতি করেছে বলে জানা নেই।

অতচ তাদের ভিটে থাকা শর্তেও ভবঘুরে জীবন জাপন করে খুব দুঃখ জনক ব্যপার। তাদের বিষয় পাইকগাছার মাহমুদ কাটি গ্রামের অর্ণিবান লাইব্রেরীর সভাপতি সমিরণ মাষ্টার বলেন এক সময় ভারতে রেলওয়ে চাকরি করতো সাহেব ২/৫ পর চাকরি ছেড়ে গ্রামে এসে আর যায়নি। তা ছাড়া শুনেছি হরিঢালী পুলিশ ক্যাম্পের পাশে একটা জায়গা ছিল তার ঠাকুর দাদার সেটা এক শ্রেনীর দখলদারা দখল করে নিয়েছে এবং তা নিয়ে এখনও খুলনা জজ কোর্টে মামলা চলছে বলে জানি।

সাহেব মানান্তরের বিষয় ঐ এলাকার হরিঢালী ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর সিদ্দিকী রাজু ইত্তেফাককে বলেন আমার আব্বা মরহুম এস,এম,রফিকউদ্দীন যখন চেয়ারম্যান ছিল তখন থেকে শুনেছি যে ঐ জমি জমার বিষয়। এ নিয়ে অনেক দেন দরবারও হয়েছে। কিন্তু আমি জানতে পেরেছি দীর্ঘ দিনের সময় ক্ষেপন হওয়ায় ঐ জমির কাগজ পত্র তৈরি হয়ে ইতিমধ্যে বেঁচা কেনাও হয়েছে। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রশিদুজ্জামান মোড়ল বলেন আমি দায়িত্ব থাকা কালিন সময়ে তাদের জমির বিচার করেছিলাম,পরবর্তীতে সাহেব মানান্তারের পক্ষে কেহ যোগাযোগ করেনি। সাহেব মানান্তরের জমির বিষয় অনেক পানি ঘোলা হলেও কাজ হয়নি।

তাদের শেষ বয়সে এখন সরকারী সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ তারা ভবঘুরে তাদের চিকিৎসা ও খাদ্য সব থেকে বেশী প্রয়োজন। জমি জমার বিষয় এক এক জন ভিন্ন মত দিলেও ঐ জমিতে বর্তমান বসবাসকারী মোহাম্মাদ আলী, খোকন, ইউসুপ মোড়ল,বলেন শুনেছি ব্রিটিশ আমলে এখানে তার মামার বাড়ির জমি ছিল।

কিন্তু আমরা ১৯৮৫ সালে কমলা বালা ও আশালতা নামক দু ব্যাক্তির কাছ থেকে সি এস এ এর মাধ্যমে কবলা রেজ্র্যিট্রি করে জমি ক্রয় করেছি। তারা আরও বলেন যে তারা পাগল বলে তাদের পক্ষে দখল নিতে আসা সাবেক এমপি,শেখ নুরুল হক, সেনাবাহিনী,ডিসি,এসপি,টিএনও সহ সকল প্রশাসনের লোকজন সরে জমিনে ঘুরে কাগজ পত্র দেখে দখল দিতে পারে নাই। তা ছাড়া আমাদের অনেকে এই জমি কেনা বেঁচাও করেছে এ সব কাগজ পত্র মাধ্যমে। আমরা সঠিক পথে আছি তবে মিনাল কান্তি বসু ও দিপক বসু (সাহেব মানান্তর) তারা ভাল মানুষ তাদের কেহ নাই যদি আশ্রয় চায় তবে তাদের সেবা করতে পারি।

সাহেব মানান্তারের বিষয়ে কপিলমুনি আওয়ামীলীগ সভাপতি যুগোল কিশোর দে বলেন তাদের বয়স শেষ। এখন সুস্থ্য রাখতে তাদের ভাল পরিবেশ,ঔষাধ খাদ্য প্রয়োজন নিয়মিত সে গুলি যোগালে তারা ভাল থাকবে। এ বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের দৃষ্টি দেওয়ার আহবান করছি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)